বঙ্গের উত্তর-পশ্চিমে বিনিয়োগ: অতিরিক্ত ইনসেনটিভের প্রস্তাব
এই সময়: চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি আজ, বুধবার পেশ করা হতে পারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সূত্রের খবর, রাজ্য জুড়ে ‘ইউনিফর্ম ইনসেনটিভ’–এর পক্ষপাতী নয় সরকার। বরং, উত্তরবঙ্গ বা পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ করলে বাড়তি সরকারি সুযোগ–সুবিধে মিলতে পারে।
কোন প্রজেক্টে কত টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে, ক’জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকছে — এ সবের উপরে অর্থ দপ্তরের তরফে স্টেট জিএসটি খাতে রিইমবার্সমেন্ট বা রিফান্ড–এর সুবিধে, বিদ্যুতে ছাড়ের বিষয়টি পুরোদস্তুর নির্ভরশীল। যদিও জমি সংক্রান্ত কোনও নীতি এখনই আনা হচ্ছে না। পরে আইন সংশোধন করে তা ঘোষণা করা হবে।
২০২৪–এ আইন এনে শিল্পে ইনসেনটিভ পলিসি বন্ধ করে তৃণমূল সরকার। অভিযোগ, এতে বিনিয়োগকারীরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইনসেনটিভ পাননি। এই বকেয়ার অঙ্ক এখন প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এই পুরোনো প্রাপ্য নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাদের তৈরি নয়া ইনসেনটিভ পলিসি শিল্পনীতির অঙ্গ হিসেবে কাজ করবে।
প্রয়োজনে পরিকাঠামোগত সাহায্যের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নয়া ‘ইনসেনটিভ পলিসি’-তে। থাকছে কাজের উপযোগী দক্ষ ‘ওয়ার্কফোর্স’ তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও। ক্যাবিনেটের শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যে এই নীতি অনুমোদন করেছে। সায় দিয়েছে অর্থ দপ্তরও। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা পেশ করার কথা।
পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ‘জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী’ গড়ে তোলা, দুর্গাপুর ও সংলগ্ন এলাকা ঘিরে উৎপাদন এবং লজিস্টিক্স হাব তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রও। অনুর্বর জমি ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে সিমেন্ট, স্টিল–সহ ভারী শিল্প এবং লজিস্টিক্স ব্যবসায় দেশের অন্যতম সেরা গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে পশ্চিম–বঙ্গ। পর্যটনের পাশাপাশি চা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও অন্যান্য শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। তাই বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে বাড়তি ইনসেনটিভের প্রস্তাব।