এআই গবেষণায় বড় পদক্ষেপ! আইআইটি খড়গপুরে তৈরি হচ্ছে ফিজিক্যাল এআই স্কুল
কলকাতা: আইআইটি খড়গপুর ভারতে প্রথমবারের মতো ফিজিক্যাল এআই-এর (IIT Kharagpur)জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল স্থাপন করতে চলেছে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে বেঞ্জামিন গুপ্তা স্কুল অব…
কলকাতা: আইআইটি খড়গপুর ভারতে প্রথমবারের মতো ফিজিক্যাল এআই-এর (IIT Kharagpur)জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল স্থাপন করতে চলেছে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে বেঞ্জামিন গুপ্তা স্কুল অব ফিজিক্যাল এআই। প্রায় ৩৫ কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠতে চলা এই স্কুলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনোদ গুপ্তা পরিবার ১২.৫ কোটি টাকা দিচ্ছেন। (IIT Kharagpur)আরও একজন প্রাক্তন ছাত্র দিচ্ছেন ১০ কোটি টাকা। বাকি ১২.৫ কোটি টাকা যোগাবে প্রতিষ্ঠান নিজেই। আইআইটি খড়গপুর, বিনোদ গুপ্তা এবং আমেরিকার আইআইটি কেজিপি ফাউন্ডেশনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে এমন এআই ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা এগোবে যা শুধু তথ্য বিশ্লেষণ করে না, বরং বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে বোঝাপড়া করে এবং তার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে।
আরও দেখুনঃ আইটি ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ভর করে কলকাতার অফিস বাজারে বড় উত্থান
স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছে বিনোদ গুপ্তার প্রয়াত পুত্র বেঞ্জামিন গুপ্তার স্মরণে। তিনি মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান। এই উদ্যোগ তাই শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিষয় নয়, একজন বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাও বটে। আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক সুমন চক্রবর্তী বলেছেন, এআই এতদিন তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ধরন বদলে দিয়েছে। এবার এর পরবর্তী বড় লাফ হবে বাস্তব জগতকে বোঝা, প্রকৌশল করা এবং তার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে। ভারতে এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে চায় আইআইটি খড়গপুর।
স্কুলটির মূল ফোকাস থাকবে ফিজিক্স-ইনফর্মড মেশিন লার্নিং, সায়েন্টিফিক এআই, ডিজিটাল টুইন, ইন্টেলিজেন্ট রোবোটিক্স, অটোনমাস সিস্টেম এবং এআই-সক্ষম পরীক্ষণের ওপর। এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার হবে উৎপাদন, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো খাতে। অর্থাৎ শুধু কম্পিউটারের পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে এআই বাস্তব জগতের সমস্যার সমাধান করবে।
প্রস্তাবিত কোর্সের মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড মাস্টার্স প্রোগ্রাম, এক্সিকিউটিভ এডুকেশন এবং পেশাগত সার্টিফিকেশন। অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রথম প্রোগ্রামগুলো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে এআই-এর সমন্বয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
ফিজিক্যাল এআই হলো এমন এক ক্ষেত্র যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে চলে(IIT Kharagpur)। এটি শুধু ডেটা থেকে শেখে না, বরং বাস্তব জগতের সূত্রগুলোকেও কাজে লাগায়। ফলে রোবট আরও নির্ভরযোগ্য হয়, ডিজিটাল টুইন দিয়ে কারখানা বা শহরের সিমুলেশন করা যায় এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিরাপদভাবে কাজ করতে পারে। ভারতের মতো দেশে যেখানে উৎপাদন, কৃষি এবং অবকাঠামো খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
এই স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইআইটি খড়গপুর ভারতকে বৈশ্বিক এআই মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে চাইছে। প্রাক্তন ছাত্রদের অবদান এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগ মিলে এটি সম্ভব হচ্ছে। বিনোদ গুপ্তা দীর্ঘদিন ধরে আইআইটি খড়গপুরকে সাহায্য করে আসছেন। তাঁর এই নতুন অবদান প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসারই প্রমাণ।