‘উলঙ্গ সাজা’: খালি গা, কোমোরে দড়ি! সেই একই পথে ৩ জনকে প্যারেড করাল পুলিশ - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘উলঙ্গ সাজা’: খালি গা, কোমোরে দড়ি! সেই একই পথে ৩ জনকে প্যারেড করাল পুলিশ

Spread the love

এই সময়: প্রেম করার ‘সাজা’ হিসেবে এক তরুণ, তাঁর বাবা এবং বন্ধুকে নগ্ন করে ভিড় রাস্তায় হাঁটানো হয়েছিল বেহালার সরশুনায়। সোমবার তাঁদের যে পথে হাঁটানো হয়, মঙ্গলবার সকালে ঠিক সেখানে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজ‍নকে শুধুমাত্র বারমুডা পরিয়ে,খালি পায়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল কলকাতা পুলিশ।

১৩ বছরের এক নাবালিকাকে চুম্বন করার ‘অপরাধে’ আগের দিন অত্যাচার হয়েছিল ‘অভিযুক্ত’ তরুণের পরিবারের ওপর। মঙ্গলবার অভিযুক্তদেরও একই কায়দায় ‘প্যারেড’ করানোর ছবি সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকাও। যদিও লালবাজারের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাতে অভিযুক্তদের স্পটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তরুণের বাবার সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই নাবালিকার মামার কাছে একটি দেশি পিস্তল ছিল। ঘটনার পরে তিনি পকেট থেকে সেটা বের করে তরুণের বাবার হাতে ধরিয়ে ছেলেকে সকলের সামনে গুলি করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এর পরেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। এমনকী, নাবালিকার মা গ্যাসের আগুনে ছুরি গরম করে ছেঁকা দিতে চেয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এ দিন ধৃত নাবালিকার মাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল সিপি(ক্রাইম) কুণাল আগরওয়ালের দাবি, ‘অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন, তাঁরা রাগ এবং তীব্র আক্রোশের বশে এমন কাজ করেছেন।’

এ দিন সকালে ধৃতদের কলকাতা পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়, সে সময়ে র‍্যাফ এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত ছিল। গাড়ি থেকে নামানো হতেই অভিযুক্তদের দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ধৃতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই নাবালিকার প্রতিবেশী। ঘটনার সময়ে ওই ব্যক্তি মোবাইলে ভিডিয়ো করেছিলেন বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ১৮ বছরের তরুণ। অভিযোগ, নাবালিকাকে ‘চুম্বন’ করার সময়ে দেখে ফেলেন তার মামা। এর পর তরুণকে আটকে মারধর করার পাশাপাশি অত্যাচার চালানো হয় বন্ধু এবং বাবার ওপর।

এ দিন তরুণের বাবা বলেন, ‘নগ্ন হয়ে হাঁটা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। ওদের যেন কড়া শাস্তি হয়।’

মঙ্গলবার দুপুরে তিন অভিযুক্তকে এলাকায় ঘোরানোর সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমিয়ে ধিক্কার জানাতে থাকেন। অনেকে মোবাইলে ছবিও তোলেন।

যদিও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এ দিন প্রশ্ন তুলেছেন কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও। তিনি বলেন, ‘দোষীদের এ ভাবে ঘোরানোয় দেখতে ভালো লাগছে। কিন্তু, এই পদ্ধতি তো অপপ্রয়োগও হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে যাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে তাঁদের সঙ্গেও এটা করা হচ্ছে। যা সমর্থন করা যায় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *