‘ঝরছিল রক্ত, ছিঁড়ে দিয়েছিল পোশাক…’, হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, সরব মিস সুইৎজ়ারল্যান্ড
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ বার ধর্ষণের অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মিস সুইৎজ়ারল্যান্ড প্রতিযোগী বিয়াত্রিস কিউল (Beatrice Keul)। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্কের প্লাজ়া হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। সেই ঘটনায় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায়, শরীরের একাধিক জায়গা থেকে রক্তপাত হচ্ছিল। এমনকী সারা গায়ে কালশিটেও পড়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত ৫৩ পাতার একটি প্রতিবেদনে কিউলের এই বয়ান সামনে এসেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।
কী ঘটেছিল প্লাজ়া হোটেলে?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউলের দাবি, ১৯৯৩ সালে তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। সে সময়ে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সময়ে প্লাজ়া হোটেলের মালিক ছিলেন ট্রাম্প। কিউলের অভিযোগ, তাঁকে আমেরিকার ভিসা এবং নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাঁকে হোটেলের উপরের তলায় দেখা করতে বলেন।
কিউলের বয়ান অনুযায়ী, সেই আমন্ত্রণ অনুযায়ী সেখানে পৌঁছনোর পরেই ট্রাম্প পিছন থেকে তাঁকে জাপটে ধরেন এবং জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ধর্ষণের পরে রক্তাক্ত-বিধ্বস্ত কিউলকে ফের সাহায্যের আশ্বাস দেন ট্রাম্প এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর প্রতিশ্রুতি আদায় করেন বলে অভিযোগ প্রাক্তন মিস সুইৎজ়ারল্যান্ডের ।
পাশাপাশি কিউলের দাবি, এর পরে জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এপস্টিন নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে মার-আ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
আগেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ
২০২৪ সালের অক্টোবরেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন কিউল। সে বার তাঁর দাবি ছিল, ট্রাম্প তাঁকে চুম্বন করেন, পোশাক খোলার চেষ্টা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে স্পর্শ করেন। । তবে সেই সময় তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করেননি। এ বার তাঁর বয়ানে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ অস্বীকার হোয়াইট হাউসের
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের বক্তব্য, এই প্রতিবেদন ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা। তাদের দাবি, ট্রাম্পের সাফল্য থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এমন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সম্পর্কও এই সূত্রে আলোচনায় এসেছে। ডনের বক্তব্য, অপরাধের বিষয় প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এপস্টিন-সংক্রান্ত অপরাধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়নি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তে স্বাধীন বিশেষ কাউন্সেল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যেরা।