কংগ্রেসের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি কিরেন রিজিজুর
নয়াদিল্লি: চিনের অনুপ্রবেশ ও অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারতীয় সেনার নামে দুটি ভুয়া ও ডিপফেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগ উঠল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তীব্র…
নয়াদিল্লি: চিনের অনুপ্রবেশ ও অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারতীয় সেনার নামে দুটি ভুয়া ও ডিপফেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগ উঠল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস দলের কাছে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা অরুণাচল পশ্চিমের সাংসদ কিরেন রিজিজু। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলটি সরাসরি দেশের শত্রুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মতো কাজ করছে।
সম্প্রতি বিহারের কংগ্রেস spokeswoman ঋতু চৌধুরী দুটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন। যার একটিতে দাবি করা হয়, চিনের সামরিক বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। অন্যটিতে স্পিয়ার কর্পসের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়ার একটি পুরনো ভিডিওর দৃশ্য বিকৃত করে দাবি করা হয় যে, চিন অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে এবং ভারতীয় জওয়ানদের রসদ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই ভিডিওগুলি সামনে আসতেই তড়িঘড়ি ময়দানে নামে ভারতীয় সেনা এবং দুটি ভিডিওরই সত্যতা প্রকাশ্যে এনে সেগুলি খারিজ করে দেয়৷ সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম ভিডিওটিতে (নথু লা পাস) যে গাড়িগুলি দেখা যাচ্ছে সেগুলি আসলে সিকিমের নাথু লা পাসের একটি অনুমোদিত সীমান্ত বাণিজ্য রুট দিয়ে যাতায়াতকারী চিনা বাণিজ্যিক গাড়ি। এটিকে সামরিক অনুপ্রবেশ হিসেবে ভুল বা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ভিডিও (ডিপফেক ক্লিপ)-তে লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়ার যে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া বা ডিপফেক। সেনা জানিয়েছে, আসল ভিডিওটি ছিল ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) সংক্রান্ত একটি সাংবাদিক বৈঠকের। সেই বৈঠকে অরুণাচল প্রদেশ বা সেনার রসদ ঘাটতি নিয়ে কোনো কথাই বলেননি ওই অফিসার।
কংগ্রেসকে নিশানা কিরেন রিজিজু ও বিজেপির
এই ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় সেনার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ভুয়া এআই ভিডিও ছড়ানোর জন্য কংগ্রেস দলের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এটি একটি দেশদ্রোহীমূলক কাজ এবং আমাদের শত্রুদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের সমতুল্য। ভারতের শত্রুদের হয়ে একটি হীন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস।”
পাশাপাশি, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবনও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আমাদের বীর জওয়ানদের অসম্মান করতে কংগ্রেস নেতাদের এই ধরনের ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর প্রবণতা আবারও প্রমাণ করল যে দলটি স্পষ্টতই সেনাবিরোধী মানসিকতা পোষণ করে। সেনার সম্মানহানি করার ক্ষেত্রে কংগ্রেস বারবার এই ধরনের অপরাধ করে চলেছে।” সব মিলিয়ে, এই ভুয়া ভিডিও বিতর্ককে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
চিনের সঙ্গে নিউজক্লিকের যোগ? নতুন ইমেইল ঘিরে ফের বিতর্ক তুঙ্গে
সংখ্যালঘু নয়! ২০৫০ এর মধ্যেই বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হবে ভারত