WPL নিলামে ইউপি ওয়ারিয়র্জের হাতে ৩.৭৫ কোটি, লাইভ বিকেল ৫:৩০
কলকাতা: মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের (WPL) ২০২৭ মরশুমের আগে বুধবার, ২৮ অক্টোবর কোচিতে বসতে চলেছে খেলোয়াড়দের মিনি-নিলাম। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের দল সম্পূর্ণ করতে এই নিলামে অংশ নেবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিলাম শুরু হবে ভারতীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। কোচির গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে WPL-এর খেলোয়াড় নিলাম।
২০২৭ মরশুমের জন্য মোট ১৪৬ জন ক্রিকেটারকে নিলামের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। পাঁচটি দলের জন্য খালি রয়েছে ২৭টি জায়গা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় রয়েছেন ১১৯ জন ভারতীয় ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে ২২ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত এবং ৯৭ জন আনক্যাপড ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা ২৭, যাঁদের মধ্যে ১৪ জন ক্যাপড এবং ১৩ জন আনক্যাপড। তালিকায় অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির ছয়জন ক্রিকেটারও রয়েছেন।
WPL-এর পঞ্চম সংস্করণ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি। প্রতিযোগিতা চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে নিলামই দলগুলির শক্তি বাড়ানোর শেষ বড় সুযোগ। ব্যাটিং, বোলিং এবং অলরাউন্ডার বিভাগে ঘাটতি পূরণ করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে নিজেদের বাজেট বুঝে দর হাঁকাতে হবে।
WPL ২০২৭ নিলাম: কোন দলের হাতে কত টাকা?
রিটেনশন প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ট্রেডের পর পাঁচটি দলের হাতে মোট ৮.১৫ কোটি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ইউপি ওয়ারিয়র্জের হাতে। অন্যদিকে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হাতে রয়েছে সবচেয়ে কম অর্থ।
| দল | অবশিষ্ট বাজেট | খালি জায়গা |
| ইউপি ওয়ারিয়র্জ | ৩.৭৫ কোটি টাকা | ৮ |
| গুজরাট জায়ান্টস | ১.২৫ কোটি টাকা | ৩ |
| রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু | ১.১৫ কোটি টাকা | ৫ |
| দিল্লি ক্যাপিটালস | ১.১০ কোটি টাকা | ৫ |
| মুম্বই ইন্ডিয়ান্স | ৯০ লক্ষ টাকা | ৬ |
ইউপি ওয়ারিয়র্জের হাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ এবং আটটি খালি জায়গা থাকায় দল গঠনের ক্ষেত্রে তারা তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে। গুজরাট জায়ান্টসের খালি জায়গা সবচেয়ে কম, মাত্র তিনটি। আরসিবি ও দিল্লি ক্যাপিটালসের পাঁচটি করে জায়গা পূরণ করতে হবে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ছয়টি জায়গা থাকলেও তাদের বাজেট সবচেয়ে কম হওয়ায় দর হাঁকার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
কোন দলের দলে রয়েছেন কারা?
নিলামের আগে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ধরে রেখেছে। ফলে পরিচিত কোর গ্রুপের উপর ভর করেই নতুন মরশুমের প্রস্তুতি নেবে দলগুলি।
ইউপি ওয়ারিয়র্জ দলে রেখেছে অধিনায়ক মেগ ল্যানিং, দীপ্তি শর্মা, সোফি একলেস্টোন ও ফোবি লিচফিল্ডকে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ধরে রেখেছে অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা, এলিস পেরি ও রিচা ঘোষকে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দলে রয়েছেন হরমনপ্রীত কৌর, ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট ও হেইলি ম্যাথিউজ। দিল্লি ক্যাপিটালস ধরে রেখেছে জেমাইমা রদ্রিগেজ, শেফালি বর্মা ও মারিজান কাপকে। অন্যদিকে, গুজরাট জায়ান্টসের গুরুত্বপূর্ণ রিটেনশনগুলির মধ্যে রয়েছেন অ্যাশলে গার্ডনার, বেথ মুনি ও সোফি ডিভাইন।
যে ক্রিকেটারদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই এবার নিলামের তালিকায় থাকবেন। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ব্যাটার, বোলার এবং অলরাউন্ডার দলে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
নিলামের নিয়ম: সর্বোচ্চ ১৮ জনের দল
২০২৭ মরশুমের জন্য খেলোয়াড় ধরে রাখার শেষ তারিখ ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। নিলামের আগে পাঁচটি দল মিলিয়ে মোট ৬৩ জন ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার।
প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ১৮ জন ক্রিকেটার নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে পারবে। বেতন বাবদ সর্বোচ্চ সীমা ১৫ কোটি টাকা। খেলোয়াড় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও সর্বোচ্চ সংখ্যা নেই। অর্থাৎ, বাজেটের সীমার মধ্যে থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি নিজেদের পছন্দমতো ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারে।
নিলামে মোট ২৭টি জায়গা পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য ২০টি এবং বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য সাতটি জায়গা রয়েছে। সীমিত বাজেট ও খালি জায়গার কথা মাথায় রেখে দলগুলিকে কৌশলগতভাবে ক্রিকেটার বেছে নিতে হবে।
WPL ২০২৭ নিলাম: কবে, কোথায় এবং কখন?
- তারিখ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- সময়: বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট, ভারতীয় সময়
- স্থান: গ্র্যান্ড হায়াত, কোচি, কেরল
- নিলামের ধরন: মিনি-নিলাম
- সংক্ষিপ্ত তালিকায় ক্রিকেটার: ১৪৬ জন
- খালি জায়গা: ২৭টি
- WPL ২০২৭ মরশুম: ১৪ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি
ভারতে কোথায় দেখবেন WPL নিলামের লাইভ সম্প্রচার?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে WPL ২০২৭-এর খেলোয়াড় নিলাম সরাসরি সম্প্রচার করার কথা স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্কে। পাশাপাশি জিওহটস্টার অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অনলাইন স্ট্রিমিং দেখার সুযোগ থাকার কথা। নিলাম শুরুর আগে একটি প্রি-শোও সম্প্রচারিত হতে পারে।
কোন দলকে ঘিরে বাড়তি নজর?
নিলামে ইউপি ওয়ারিয়র্জের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। সবচেয়ে বেশি অর্থ এবং আটটি খালি জায়গা থাকায় তারা একাধিক বিভাগে দলকে শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে কম বাজেটের মধ্যে ছয়টি জায়গা পূরণ করতে হবে। আরসিবি ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্ষেত্রেও পাঁচটি করে জায়গা পূরণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র হয় এবং আনক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে কারা বড় চুক্তি পান, সেটাই হবে নিলামের অন্যতম আকর্ষণ। ২৭টি জায়গা পূরণ হয়ে গেলে দলগুলি ২০২৭ মরশুমের প্রস্তুতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবে।