সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থামছে না চাহিদা! কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে ভারতীয় পণ্য?
নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে এতটুকু কমেনি, তার প্রমাণ মিলল পরিসংখ্যানে।…
নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে এতটুকু কমেনি, তার প্রমাণ মিলল পরিসংখ্যানে। সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারে পাকিস্তান ভারত থেকে প্রায় ৬১.৭৪ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫,৮৭৬ কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বেশি। গত বছর এই একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৬.৫৫ মিলিয়ন ডলার বা ৩,৪৭৮ কোটি টাকা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতে কোনো ধরনের রফতানি করা হয়নি।
২০২৫ সালের পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের হাতে ২৫ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এর জেরে ভারত ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সমস্ত সরাসরি ও পরোক্ষ বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে গত ৪ মে পাকিস্তানও ভারতের সঙ্গে সমস্ত ধরনের বাণিজ্য স্থগিত ঘোষণা করে। নীতিগতভাবে ‘সন্ত্রাস ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না’ অবস্থানে অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি।
এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরেও পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় এই পণ্যগুলি মূলত তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে। জিটিআরআই (GTRI)-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব এই ঘটনাকে ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ (Grey-zone strategy) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দুবাই, কলম্বো এবং সিঙ্গাপুরের মতো ট্রানজিট হাবগুলিতে ভারতীয় পণ্য প্রথমে পাঠানো হয়। সেখানে বন্ডেড গুদামে পণ্যের নথিপত্র এবং লেবেল পরিবর্তন করে সেগুলির ‘কান্ট্রি অফ অরিজিন’ বা উৎপত্তিস্থল ভারত থেকে বদলে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা অন্য দেশ দেখিয়ে পাকিস্তানে রফতানি করা হয়। এর ফলে পণ্যগুলি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে উচ্চমূল্যে পাকিস্তানে বিকোচ্ছে।
কোন কোন পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?
পাকিস্তানের বাজারে ভারতীয় পণ্যের মধ্যে জীবনদায়ী ওষুধ এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী কাঁচামালের (Pharmaceutical products) চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়াম, রং, জৈব রাসায়নিক, রবার, কফি, চা, শাকসবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং শস্যের মতো সামগ্রীও এই তালিকায় রয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যেখানে ১.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা সত্ত্বেও পাকিস্তানি বাজারে ভারতীয় পণ্যের এই রুট বদল বা চোরাপথের বাণিজ্য রমরমা রূপ নিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক রবীন্দ্র সিং রবিন প্রশ্ন তুলেছেন, চাহিদা যদি এতটুকুই থাকে তবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার কথা কেন ভাবছে না ইসলামাবাদ? সব মিলিয়ে, নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল পেরিয়েও পাকিস্তানি বাজারে ভারতীয় পণ্যের এই অপ্রতিরোধ্য অনুপ্রবেশ নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
অর্ধেক ক্ষমতা নয়! রাষ্ট্রসংঘে চিন-আমেরিকার মত ভেটো দাবি ভারতের
লে অফ নয়! ৬০০০০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ মাইক্রোসফটের