খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৪৭.৬ লক্ষ! বদলে ২.৬ লক্ষ ফর্ম ৬ নিয়ে তুঙ্গে রাজধানীর রাজনীতি
নয়াদিল্লি: দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের বা (Delhi SIR)এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি বারবার অভিযোগ তুলছে যে ব্যাপক…
নয়াদিল্লি: দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের বা (Delhi SIR)এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি বারবার অভিযোগ তুলছে যে ব্যাপক হারে নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোট চুরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু দিল্লির নিজস্ব সরকারি সংখ্যাগুলো দেখলে এই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের একটা বড় ব্যবধান চোখে পড়ে। খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৪৭.৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিশেষ ক্যাম্প ও দাবি-আপত্তির পর্বে মাত্র ২.৬ লক্ষ ফর্ম-৬ জমা পড়েছে নতুনভাবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য। এই ব্যবধানই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
আরও দেখুনঃ ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তেল আভিভে ক্ষমতার পালাবদল কি বদলাবে ভারত নীতি?
এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, দিল্লির আগের প্রায় ১.৪৫ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাম বাদ পড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারণ হিসেবে বলা হয়েছে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত নাম।
নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার জানানো হয়েছে যে এগুলো ঘর-বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের ফল।(Delhi SIR) যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা ফর্ম-৬ জমা দিয়ে আবার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। অক্টোবরের শেষের দিকে বিশেষ ক্যাম্পগুলোতেও সাড়া মিলছে কম। শেষ দফার ক্যাম্পে মাত্র কয়েক হাজার মানুষ ফর্ম জমা দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় র্যালি করার ঘোষণা করেছে। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলে এসআইআরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। আম আদমি পার্টিও একই সুরে কথা বলছে। তাঁরা বলছেন, লাখ লাখ যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই এত বড় সংখ্যায় ভোটার বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের আবার তালিকায় ফিরিয়ে আনার জন্য কেন এত কম আবেদন জমা পড়ছে?
দলগুলোর বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাঁরা যদি মাঠে সক্রিয় থাকতেন এবং মানুষকে ফর্ম জমা দিতে উৎসাহিত করতেন, তাহলে কি এই ব্যবধান এত বড় হতো? (Delhi SIR)রাস্তায় প্রতিবাদ ও স্লোগান তোলা এক জিনিস, আর মাঠের পর্যায়ে মানুষকে ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার কাজ সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। শুধু ‘ভোট চুরি’ চিৎকার করে দিন শেষ করা যায় না। যদি সত্যিই লক্ষ লক্ষ যোগ্য মানুষের নাম বাদ পড়ে থাকে, তাহলে তাঁদের দ্রুত পুনরায় নিবন্ধনের জন্য যে জরুরি তৎপরতা দরকার ছিল, তা দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হচ্ছে, মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটারদের নাম তালিকায় রাখা যায় না। যাঁরা এখনও দিল্লিতে থাকেন এবং যোগ্য, তাঁদের জন্য সুযোগ খোলা আছে। দাবি-আপত্তির সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা ডিসেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত হবে। এর মধ্যেই কংগ্রেস ও এএপি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত। অনেকেই মনে করছেন, প্রতিবাদের পাশাপাশি মাঠের কাজও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে সচেতন করা, ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া এবং ফর্ম জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা এগুলোই আসল কাজ।
দিল্লির এই সংখ্যাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে শুধু অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া যথেষ্ট নয়। যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা করতে হয়, তাহলে ভোটারদের তালিকায় ফিরিয়ে আনার বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় স্লোগান আর র্যালি শুধু আলোচনার বিষয় হয়েই থেকে যাবে, বাস্তবে ভোটারদের কোনো উপকার হবে না। এখন দেখার বিষয়, ১ নভেম্বরের র্যালির আগে ও পরে দলগুলো মাঠের কাজ কতটা গুরুত্ব দেয়। কারণ সংখ্যাগুলো ইতিমধ্যেই একটা স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে।