পুজো মরশুমে বাংলায় ডেঙ্গির দাপট, অক্টোবরে ২৩ দিনে আক্রান্ত ৫,৫০০ পার - 24 Ghanta Bangla News
Home

পুজো মরশুমে বাংলায় ডেঙ্গির দাপট, অক্টোবরে ২৩ দিনে আক্রান্ত ৫,৫০০ পার

Spread the love

কলকাতা: বর্ষার শুরুতে ডেঙ্গির (Dengue) সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকলেও মরশুমের শেষ পর্বে আচমকাই বাড়তে শুরু করেছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের মধ্যে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায়। স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম ২৩ দিনেই পশ্চিমবঙ্গে ৫,৫০০-র বেশি নতুন ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর মিলেছে। পুজোর সময় সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য মহলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের শুরুর সময় পর্যন্ত কলকাতায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২,৮০০-তে পৌঁছয়। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেই শহরে নতুন করে ১,২৭০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন বলে জানানো হয়েছে। উত্তর কলকাতার কাশীপুর-বেলগাছিয়া এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। শহরের মোট নথিভুক্ত আক্রান্তের প্রায় ২৫ শতাংশ এই এলাকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ALSO READ | মোদী রাজ্যে বিএসএফের অভিযানে ধৃত ৪ পাকিস্তানি মৎস্যজীবী! বাজেয়াপ্ত মাছ ধরার নৌকা

ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে মুর্শিদাবাদ, উদ্বেগ হাওড়া নিয়েও

রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যায় মুর্শিদাবাদ শীর্ষে রয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা ও হাওড়াতেও সংক্রমণ বেড়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে কলকাতার অবস্থান নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। কোথাও কলকাতাকে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয়, আবার কোথাও তৃতীয় স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদে সর্বাধিক আক্রান্তের কথা একাধিকবার বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, দুর্গাপুজোর সপ্তাহে কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বছরের অধিকাংশ সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছিল। হাওড়ায় পুজোর সময় সংক্রমণ বৃদ্ধিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাওড়া, মুর্শিদাবাদ-সহ উদ্বেগজনক জেলাগুলি নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন বলে ওই আধিকারিক জানিয়েছেন।

কলকাতা পুরসভা, হাওড়া এবং বিধাননগরের কয়েকটি ওয়ার্ডকে সক্রিয় সংক্রমণপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলির নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি।

ALSO READ | সুন্দরবনের উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ! ৩২০২ প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গি রোগীর চাপ

কলকাতার কয়েকটি হাসপাতালে গত কয়েক দিনে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। চার্নক হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন ডেঙ্গি রোগী আসছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান নিশান্ত আগরওয়াল। বর্তমানে সেখানে ১০ জন ডেঙ্গি রোগী ভর্তি রয়েছেন।

আগরওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে প্লেটলেট দ্রুত কমে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা গিয়েছিল। আবার কিছু রোগীর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রোগীরা স্থিতিশীল রয়েছেন বলে তিনি জানান। উচ্চ জ্বর, শরীরে তীব্র ব্যথা এবং মাথাব্যথা ছিল সাধারণ উপসর্গ। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি ডায়রিয়ার মতো পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত উপসর্গও দেখা গিয়েছে।

ম্যানিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দু’জন ডেঙ্গি রোগী আসছেন বলে জানিয়েছেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সায়ন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বর, গাঁটে ব্যথা, বমি এবং ত্বকে র‌্যাশের মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা আসছেন।

ডেঙ্গি শনাক্তে পরীক্ষার গুরুত্ব, প্রথম দিকে প্লেটলেট স্বাভাবিক থাকলেও সতর্কতা জরুরি

বিপি পোদ্দার হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সত্যকি বসু জানিয়েছেন, কিছু রোগীর উপসর্গ প্রচলিত ডেঙ্গির লক্ষণের সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। কয়েকটি উপসর্গ অন্য ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে। তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা, অসুস্থতার পর্যায় এবং উপসর্গ বিচার করে চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

তাঁর বক্তব্য, জ্বরের শুরুর দিকে প্লেটলেটের সংখ্যা স্বাভাবিক থাকলেও শুধু সেই কারণে ডেঙ্গি সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। অসুস্থতার প্রায় পাঁচ দিন পর প্লেটলেটের সংখ্যা কমতে পারে। তাই রোগীর উপসর্গ ও অসুস্থতার সময়কাল বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

গত দেড় সপ্তাহে বিপি পোদ্দার হাসপাতালে ডেঙ্গি শনাক্তের জন্য ৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বসু। রোগীর উপসর্গ ও অসুস্থতার পর্যায় অনুযায়ী NS1 অ্যান্টিজেন, IgG এবং IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওই ৮০টি নমুনার মধ্যে একটিতে ডেঙ্গি পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তন কি সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ?

ডেঙ্গির সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অক্টোবরের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কথা বলেছেন চার্নক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান নিশান্ত আগরওয়াল। তাঁর মতে, তাপমাত্রার সামান্য পতন এবং পুজোর শুরুর দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনই সংক্রমণ বৃদ্ধির একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, জমা জল সরানো এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করার মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার খবরের মধ্যে স্বাস্থ্য দফতরের নজর এখন বিশেষভাবে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া এবং কলকাতার সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলির দিকে। হাসপাতালগুলির অভিজ্ঞতায় রোগীর উপসর্গের বৈচিত্র্যও সামনে এসেছে। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে সংক্রমণের নতুন পরিসংখ্যান এবং স্বাস্থ্য দফতরের পদক্ষেপের উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *