টাকা আদায়ে মমতার চাপ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় রাজ্যকে টাকা ছাড়ল কেন্দ্র
লাগাতার চাপ সৃষ্টির পর অবশেষে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় রাজ্যের প্রাপ্য টাকা ছাড়তে বাধ্য হল কেন্দ্র। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার অভিযোগ ও সক্রিয় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড থেকে ৪৯১ কোটি টাকা ছাড়ল কেন্দ্রীয় সরকার।
আরও পড়ুন: বালুরঘাট-হিলি রেল প্রকল্পের অগ্রগতি কতদূর? বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল হাইকোর্ট
মাত্র কয়েক দিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন অসম বা অন্য রাজ্য দ্রুত বন্যাত্রাণের টাকা পায়, অথচ বাংলা পায় না? ডিভিসি থেকে ছাড়া জল নিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি ঘিরে সরব হন তিনি। মমতা অভিযোগ করেছিলেন, মানুষের দুর্দশা নিয়ে কেউ ভাবে না। শুধু রাজনীতি হয়। সেই সময় থেকেই রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ে। রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর ওই কড়া মনোভাবই ফল দিল। কেন্দ্র অবশেষে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের এসডিআরএফ-এর প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়ে। এই অর্থ রাজ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার কাজে ব্যয় করা হবে।
তবে এখানেই বিতর্কের সূত্রপাত। কারণ, গুজরাতকে একইসঙ্গে এসডিআরএফ-এর তিনটি কিস্তির টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। শুধু ২০২৫-২৬ নয়, তার সঙ্গে আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের বাকি দু’টি কিস্তির টাকাও মঞ্জুর হয়েছে। সব মিলিয়ে গুজরাত পেয়েছে ১৮৫৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬৪৩ কোটি চলতি বছরের এবং বাকি ১২১০ কোটি আগের বছরের।
প্রশ্ন উঠেছে, যদি গুজরাত পূর্ববর্তী বছরের হিসেব দিতে না পারার কারণে তখন টাকা না পেয়ে থাকে, তাহলে এতদিন পরে এখন সেই টাকাই একসঙ্গে ছাড়ল কেন্দ্র কেন? একই নিয়ম তো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, বাংলা আগে থেকেই নির্দিষ্ট নিয়মে সব হিসেব কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছিল। ফলে তাদের টাকার ক্ষেত্রে কোনও দেরি হওয়া উচিত ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক হিসেবনিকেশে রাজ্যকে বঞ্চনা করা হচ্ছিল বলে রাজ্যের অভিযোগ।
এদিকে, বিপর্যয় মোকাবেলায় চাল পাঠানো সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, জেলার প্রশাসনকে বিপর্যয়ের সময়ে চালের প্রয়োজন হলে তা রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে জানাতে হয়। কিন্তু দু’টি জেলা সরাসরি খাদ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর পরেই ১৪ জুলাই জেলাশাসকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা যায়, নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নিতে হবে।