জি আই ট্যাগ যুক্ত সুগন্ধি চালের রফতানি বাড়াতে বাংলায় ২ চাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র - 24 Ghanta Bangla News
Home

জি আই ট্যাগ যুক্ত সুগন্ধি চালের রফতানি বাড়াতে বাংলায় ২ চাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র

Spread the love

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের কৃষি মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।(Rice Export) রাজ্য সরকার এবার দুটি বৃহৎ চাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার লক্ষ্য…

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের কৃষি মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।(Rice Export) রাজ্য সরকার এবার দুটি বৃহৎ চাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার লক্ষ্য হল চারটি জিআই-ট্যাগযুক্ত সুগন্ধি চালের রফতানি বাড়ানো। পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর দিনাজপুরে এই দুটি হাব স্থাপনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি, কালো নুনিয়া ও রাধুনিপাগল এই চারটি বিশেষ জাতের চাল ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি পেয়েছে। এখন সেই পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে সরকার নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আরও দেখুনঃ রাহুল গান্ধীর কনভয়ে ধাক্কা! কেমন আছেন কংগ্রেস সাংসদ?

রাজ্যের কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, ইন্ডিয়া গেটের সঙ্গে আলোচনা চলছে। (Rice Export)একইসঙ্গে ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের দিয়ে এই জাতগুলোর সম্ভাবনা যাচাই করার কথাও ভাবা হচ্ছে। শুধু প্রক্রিয়াকরণ নয়, জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে এই চালগুলোর পুষ্টিগুণ বাড়ানো এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমানোর চেষ্টাও চলছে। উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবনের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা একই জমিতে বেশি ফসল পান এবং মানও বজায় থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই আরকেভিওয়াই প্রকল্পের আওতায় ১.৭৩ লাখ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি চাল চাষ হচ্ছে। উৎপাদন প্রায় ৩.৮৯ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে গোবিন্দভোগই একাই ১.১২ লাখ টন জোগান দিচ্ছে। তুলাইপাঞ্জি ১৮ হাজার টন, কালো নুনিয়া তিন হাজার টন এবং রাধুনিপাগল মাত্র চারশো টন।

যদিও রাধুনিপাগলের উৎপাদন এখনও কম, তার চাহিদা বাজারে ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ১৫ হাজার ১৪৮ হেক্টর জমিতে চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন বাড়বে, রফতানি সহজ হবে এবং কৃষকদের হাতে আরও বেশি অর্থ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্ব বর্ধমানে গোবিন্দভোগের চাষ বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। সেখানে একটি আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। (Rice Export)চাল মিলিং, প্যাকেজিং এবং মান নিয়ন্ত্রণের সুবিধা এক জায়গায় থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে। উত্তর দিনাজপুরে তুলাইপাঞ্জির জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি হবে। এই দুটি হাব শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাবে না, বিদেশি বাজারেও পশ্চিমবঙ্গের সুগন্ধি চালকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

কৃষকরা বলছেন, জিআই ট্যাগ থাকার পরও অনেক সময় ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থাকলে মানসম্মত চাল সরাসরি রফতানিকারকদের কাছে (Rice Export)পৌঁছাতে পারবে। সরকার যদি বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে ছোট চাষিরাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুষ্টিগুণ বাড়ানো এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমানোর গবেষণা সফল হলে এই চালগুলো স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

এই উদ্যোগ শুধু কৃষি খাতের জন্য নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে মিলিং ইউনিটে, প্যাকেজিং সেক্টরে এবং পরিবহণে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকেও এই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। রাজ্য সরকার চাইছে পশ্চিমবঙ্গের সুগন্ধি চাল যেন শুধু দেশের বাজারেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বিদেশেও তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *