Buxa Tiger Reserve: বিহার থেকে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে আনা হয়েছিল, ১ মাসও থাকল না, বাংলা ছেড়ে পালাল বাঘিনি | Tigress who came to Buxa from Bihar has gone to Assam
অসম: বিহারের থেকে ‘বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ’ থেকে একেবারে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে আনা হয়েছিল বাঘিনিকে। কার্যত রানির হালে বক্সা টাইগার রিজার্ভে নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু এক মাসও গেল না। ‘ফুরুৎ’ হয়ে গেল সে। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের রায়ডাক নদী পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে ওই বাঘিনি বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে বাঘিনির উপর নজরদারি চালাতে বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনকর্মীদের দল রাইমোনা বনাঞ্চলে রয়েছে। পাশাপাশি অসমের মানস ও কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের বনকর্মীরাও বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখছেন।
রাইমোনা জাতীয় উদ্যানের ডিএফও মুস্তাফা আলি আহমেদ বলেন, “বক্সা থেকে বাঘিনি রাইমোনায় এসেছে। সেখানে বক্সা টাইগার রিজার্ভের আধিকারিকরা রয়েছেন। তাঁরাই বাঘিনির অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালাচ্ছেন। ফলে এই মুহূর্তে রাইমোনা বনাঞ্চলের ঠিক কোন এলাকায় বাঘিনিটি রয়েছে, তা তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়।”
জানা যাচ্ছে, বাঘিনিকে ফেরাতে বন দফতরের যে দল রয়েছে,তাতে ট্র্যাঙ্কুলাইজার মাস্টারও রয়েছেন। ফলে বাঘিনিকে আবার ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে কাবু করা হবে কি না, কিংবা তারপর তাকে বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই বিষয়ে বনকর্তারা নির্দিষ্ট কোনও উত্তর দেননি। বক্সা টাইগার রিজার্ভের এফডি কুমার বিমল বলেন, “অসমে দল রয়েছে। বাঘিনির উপর নজর রাখা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে তিন বছর বয়সি ওই বাঘিনিকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে এনে ছাড়া হয়। বক্সায় বাঘের পরিবারের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়েন। কিন্তু বক্সায় ছাড়ার পর কার্যত সেখানে বেশিদিন থাকলই না বাঘিনিটি। শেষ পর্যন্ত অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে তার চলে যাওয়ার ঘটনায় বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।
এর আগেও পরপর দু’বছর অসম থেকে বাঘ বক্সার জঙ্গলে এসেছিল বলে খবর মিলেছিল। সেই বাঘের ছবি ক্যামেরাবন্দিও হয়েছিল। কিন্তু বারবার বাঘের আনাগোনা সত্ত্বেও এই বনাঞ্চলে কেন স্থায়ীভাবে বাঘের বসবাস গড়ে উঠছে না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।