শীতের আগেই কলকাতায় PM10 দূষণের বার্ষিক সীমা ছাড়াল - 24 Ghanta Bangla News
Home

শীতের আগেই কলকাতায় PM10 দূষণের বার্ষিক সীমা ছাড়াল

Spread the love

কলকাতা: শীত এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি, তার আগেই বাতাসে দূষণকারী সূক্ষ্ম কণার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগজনক ছবি সামনে এল কলকাতায় (Kolkata Pollution)। Centre for Research on…

কলকাতা: শীত এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি, তার আগেই বাতাসে দূষণকারী সূক্ষ্ম কণার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগজনক ছবি সামনে এল কলকাতায় (Kolkata Pollution)। Centre for Research on Energy and Clean Air (CREA)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েই শহরের গড় PM10 দূষণের মাত্রা ভারতের বার্ষিক বায়ুমান নির্দেশিকায় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে বছরের বাকি সময়ে PM10 দূষণ একেবারে না থাকলেও বার্ষিক গড়ের নির্ধারিত সীমা ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে গবেষকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। শীতের মাসগুলিতে দূষণ আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

CREA-র প্রধান গবেষক মনোজ কুমারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর ধারাবাহিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতায় গড় PM10-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৭২ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।

ভারতের বার্ষিক সীমা ৬০, কলকাতার গড় ৭৬ মাইক্রোগ্রাম

ভারতের জাতীয় পরিবেষ্টিত বায়ুমান মানদণ্ড অনুযায়ী, PM10-এর বার্ষিক গড় সীমা প্রতি ঘনমিটারে ৬০ মাইক্রোগ্রাম। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বার্ষিক নির্দেশিত মাত্রা আরও কঠোর, প্রতি ঘনমিটারে মাত্র ১৫ মাইক্রোগ্রাম।

CREA-র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ন’মাসে কলকাতার গড় PM10-এর মাত্রা জাতীয় সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই সময়ের গড় WHO-র নির্দেশিত মাত্রার পাঁচ গুণেরও বেশি। এই পরিসংখ্যান শহরের দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

PM10 বলতে বাতাসে ভাসমান এমন কণাকে বোঝায়, যাদের ব্যাস ১০ মাইক্রোমিটার বা তার কম। এই কণাগুলি শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে এই দূষণের সংস্পর্শে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ALSO READ | চোরবাগান-কাণ্ড: আটক দ্বিতীয় ঘোষক কুশল মজুমদার, নেপথ্যে কার নির্দেশ?

কীভাবে হিসাব করল CREA?

বার্ষিক দূষণের চাপ বোঝাতে CREA একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। গবেষকেরা বছরের শুরু থেকে নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত নথিভুক্ত PM10-এর ঘনত্বের পরিমাণ যোগ করে ৩৬৫ দিয়ে ভাগ করেছেন। এই হিসাবের ভিত্তিতে যে দিন কোনও শহরের গড় দূষণ জাতীয় বার্ষিক সীমা ৬০ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছে, সেই দিনটিকে কার্যত বার্ষিক দূষণসীমা অতিক্রমের সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসের মধ্যেই দিল্লি নির্ধারিত সীমায় পৌঁছেছিল বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বেঙ্গালুরু এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি কলকাতা সেই সীমা অতিক্রম করে। বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার সময় চেন্নাই ও মুম্বইও নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

তবে এই হিসাবকে দৈনিক বায়ুমান সূচক বা AQI-এর সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। এটি বছরের শুরু থেকে জমা হওয়া দূষণের মাত্রা বোঝানোর একটি পদ্ধতি। CREA-র বিশ্লেষণের মূল উদ্দেশ্য হল, শুধু কোনও একটি দিনের দূষণ নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দূষণের সংস্পর্শে থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা।

ALSO READ | রেখার জাদু থামল চিরতরে! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী

শীতের মাসে দূষণ বাড়ার আশঙ্কা

কলকাতায় সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের গতি দুর্বল হওয়া এবং বায়ুমণ্ডলে দূষণ ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি কমে যাওয়ার কারণে দূষণকারী কণাগুলি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জমা হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েই বার্ষিক PM10 সীমা অতিক্রম করার তথ্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শীতের দূষণপ্রবণ সময় শুরু হওয়ার আগে থেকেই শহরের বাতাসে দূষণের চাপ বেশি থাকায় আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু দৈনিক AQI দেখলেই কি দূষণের পুরো ছবি বোঝা যায়?

CREA-র বিশ্লেষণ দৈনিক AQI-এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দূষণের হিসাবের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কোনও একটি দিনে বায়ুমানের সূচক তুলনামূলক ভালো থাকলেও বছরের দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকার প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না।

কলকাতার ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় PM10-এর গড় মাত্রা বৃদ্ধি এবং শীতের আগে বার্ষিক সীমা অতিক্রম, দু’টি বিষয়ই নজর কাড়ছে। শহরের বায়ুমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে দৈনিক সূচকের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও এই বিশ্লেষণে সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *