চিনের মেগা প্রজেক্ট রুখতে সিয়াং বাঁধের পরিকল্পনা কেন্দ্রের, কেন ফুঁসছে অরুণাচলের জেন জি?
নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্প (SUMP) বা সিয়াং বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে।…
নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্প (SUMP) বা সিয়াং বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে চিনের উচ্চাভিলাষী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলগত জল-নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার যুক্তি রয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় আদি (Adi) সম্প্রদায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নদীর তীরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। গত ২৩ অক্টোবর এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবন, একটি থানা এবং প্রকল্প রূপায়ণকারী সংস্থা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (NHPC)-র কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মহিলা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের টিয়ার গ্যাস প্রয়োগের মতো ঘটনার পর তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি (Gen Z) আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে।
এই বাঁধ নির্মাণের পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের প্রধান যুক্তি হলো চিনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত চাপের মোকাবিলা করা। তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদ ‘ইয়ার্লং সাংপো’ নামে পরিচিত এবং চিন তাদের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মেডোং কাউন্টিতে প্রায় ৬০,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের নির্মাণকাজ শুরু করেছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে একটি সম্ভাব্য ‘ওয়াটার বম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উজান থেকে চিন নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করলে বা হঠাৎ জল ছেড়ে দিলে ভারত ও বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় মারাত্মক বন্যা বা খরার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এই ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সিয়াং নদীর জলপ্রবাহকে সুনিয়ন্ত্রিত করতে একটি বিশাল জলভাণ্ডার বা বাফার তৈরির পরিকল্পনা করেছে নয়াদিল্লি। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা আকস্মিক জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা মোকাবিলা, জল-নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
তবে সরকারের এই জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি মেনে নিতে নারাজ স্থানীয় আদি সম্প্রদায় ও ‘আদি বানে কেবাং’-এর মতো সংগঠনগুলি। তাঁদের সাফ কথা, সিয়াং নদী কেবল একটি জলের উৎস নয়, বরং এটি তাঁদের জীবনরেখা এবং পবিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই বিশাল বাঁধ নির্মিত হলে তাঁদের পৈতৃক জমি জলের তলায় তলিয়ে যাবে, স্থানীয় জীবিকা ও পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং শত শত বছরের সংস্কৃতি চিরতরে হারিয়ে যাবে। তাছাড়া, রাজ্য সরকার প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Pre-Feasibility Report) চালানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই সমীক্ষার অনুমতি দেওয়া মানে এমন এক প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করা যা ভবিষ্যতে ঠেকানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ভুল ধারণা ও সংশয় দূর করতে স্থানীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিলেও, সামগ্রিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রান্তিক মানুষের বসতি ও অধিকারের এই দ্বন্দ্বে অরুণাচলের সিয়াং উপত্যকার পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
জালিয়াতি রোধে লাইভ ফটো ক্যাপচার-ডিজিটাল পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করল জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা
ভোটার তালিকায় ফের কারচুপির অভিযোগ মহারাষ্ট্রে! সুপ্রিমকোর্টে ধাক্কা কমিশনের