কলকাতার দুই বাজি বাজারে অনিশ্চয়তা, আয়োজক নিয়ে টানাপোড়েন - 24 Ghanta Bangla News
Home

কলকাতার দুই বাজি বাজারে অনিশ্চয়তা, আয়োজক নিয়ে টানাপোড়েন

Spread the love

কলকাতা: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে কলকাতার দুই পরিচিত বাজি বাজার (Firecracker Market), শ্যামবাজারের তালা পার্ক এবং শহিদ মিনার ময়দানে এ বার আয়োজক নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা…

কলকাতা: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে কলকাতার দুই পরিচিত বাজি বাজার (Firecracker Market), শ্যামবাজারের তালা পার্ক এবং শহিদ মিনার ময়দানে এ বার আয়োজক নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট সংগঠনের উদ্যোগে এই বাজারগুলি বসে এলেও, এ বার নতুন আবেদনকারীরাও আয়োজনের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী। ফলে বাজারের আয়োজন কারা করবে, তা নিয়ে বাজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাজি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের খবর, নতুন আবেদনকারীদের জায়গা করে দিতে বাজারে স্টলের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বর্তমান আয়োজকদের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। এত দিন শহিদ মিনার ময়দানের বাজি বাজারের আয়োজন করে এসেছে বরাবাজার ফায়ারওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। অন্যদিকে, তালা পার্কের বাজি বাজার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নর্থ ডিভিশন বাজি বাজার সোসাইটি।

ALSO READ | দীপাবলির আগেই নতুন ট্রেন বাংলায়! চালু হল সাঁতরাগাছি-জয়পুর খাতিপুরা এক্সপ্রেস

শহিদ মিনারে আয়োজক নির্বাচন নিয়ে জট

বরাবাজার ফায়ারওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শান্তনু দত্ত জানিয়েছেন, তাঁরা মে মাসে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই অন্য এক পক্ষ আবেদন করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। ফলে শহিদ মিনার ময়দানে এ বার কারা বাজি বাজার আয়োজনের অনুমতি পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শান্তনু দত্তের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত এক-দু’দিনের মধ্যে আসতে পারে, অথবা ২৮ অক্টোবর কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বাজি ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। শহিদ মিনার ময়দানে বাজি বাজার বসানোর জন্য পুলিশের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং স্থানীয় প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন।

দত্তের আশঙ্কা, আয়োজক নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্টল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে। বাজি দাহ্য পদার্থ হওয়ায় বাজার বসানোর আগে একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। সেই প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দরকার।

ALSO READ | চোরবাগান-কাণ্ড: আটক দ্বিতীয় ঘোষক কুশল মজুমদার, নেপথ্যে কার নির্দেশ?

চারটি জায়গায় একসঙ্গে বাজার বসানোর প্রস্তাব

তালা পার্কের বাজি বাজারের অন্যতম আয়োজক শুভঙ্কর মান্না জানিয়েছেন, তাঁরা পুলিশকে প্রস্তাব দিয়েছেন, ২ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চারটি নির্ধারিত স্থানে একই সঙ্গে বাজি বাজার বসানোর অনুমতি দেওয়া হোক। এই সময়সীমার মধ্যেই কালীপুজো ও দীপাবলি পড়ছে।

বাজি শিল্পের এক সূত্রের দাবি, তালা পার্কের বাজার আয়োজনের জন্য এ বার এক স্থানীয় বাসিন্দাও আবেদন করেছেন। নতুন আবেদনকারীদের জায়গা করে দেওয়ার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে তালা পার্কের আয়োজকেরা এ বার আরও বেশি স্টল বসানোর অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তবে স্টলের সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে পুলিশের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

কলকাতায় তালা পার্ক ও শহিদ মিনার ছাড়াও কালিকাপুর এবং বেহালায় বাজি বাজার বসে। ফলে এ বার শহরের বাজি বিক্রির প্রস্তুতি এবং বাজার পরিচালনার অনুমতি নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

সবুজ বাজি বিক্রির উপর জোর, ৩০ অক্টোবর নমুনা পরীক্ষা

নিয়ম মেনে বাজি বিক্রির ক্ষেত্রে সবুজ বাজির উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। কম নির্গমনকারী এই বাজি ব্যবহার ও বিক্রির অনুমতি রয়েছে। আইন মেনে বাজি কিনতে চান এমন বহু সাধারণ মানুষের কাছে বাজি বাজারগুলি গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার কেন্দ্র।

সূত্রের খবর, কালীপুজো ও দীপাবলির আগে বিক্রির জন্য নির্ধারিত সবুজ বাজির নমুনা পরীক্ষা ৩০ অক্টোবর তালা পার্কে হওয়ার কথা। বাজারের আয়োজক নির্বাচন, স্টলের সংখ্যা এবং নিরাপত্তার প্রস্তুতি, সবকিছুর উপর নির্ভর করছে উৎসবের আগে বাজি বাজারের চূড়ান্ত ব্যবস্থা।

এখন কলকাতা পুলিশের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বাজি ব্যবসায়ীরা। দ্রুত অনুমতি মিললে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজার তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। অন্যথায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করে স্টল চালু করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *