২০২৯-এর মধ্যে ISRO-র চার লঞ্চ প্যাড, বেসরকারিকরণ নিয়ে বড় বার্তা - 24 Ghanta Bangla News
Home

২০২৯-এর মধ্যে ISRO-র চার লঞ্চ প্যাড, বেসরকারিকরণ নিয়ে বড় বার্তা

Spread the love

চেন্নাই: ভারতের মহাকাশ অভিযান আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে চারটি কার্যকর লঞ্চ প্যাড চালু করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানালেন সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ISRO-কে বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে দেশের মহাকাশ কর্মসূচি এবং বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের চাহিদা বাড়তে থাকায় বেসরকারি সংস্থা ও স্টার্টআপগুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।

শনিবার চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ISRO-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন নারায়ণন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদা সামাল দিতে সরকারি মহাকাশ সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কুলাসেকারাপট্টিনামে ২,০০০ একরের নতুন মহাকাশ কেন্দ্র

ISRO-র পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলার কুলাসেকারাপট্টিনামে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য একটি বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলা। প্রায় ২,০০০ একর জমিতে তৈরি হতে চলা এই পরিকাঠামো Small Satellite Launch Vehicle বা SSLV উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহার করা হবে।

এই কেন্দ্রের লক্ষ্য, ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদা মেটাতে ভারতের সক্ষমতা বাড়ানো। পরিকল্পিত পরিকাঠামোর মধ্যে থাকবে স্যাটেলাইট ও রকেট সংযোজনের ভবন, উৎক্ষেপণ প্যাড, রেল-ট্র্যাক ব্যবস্থা এবং টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং ও কমান্ড সিস্টেম।

২০২৯ সালের মধ্যে চারটি কার্যকর লঞ্চ প্যাড চালুর কথা জানালেও বাকি তিনটি লঞ্চ প্যাড কোথায় তৈরি হবে বা সেগুলির পরিকাঠামো কী ধরনের হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ISRO চেয়ারম্যান।

ISRO বেসরকারিকরণ হবে না, জানালেন চেয়ারম্যান

মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নারায়ণন। তাঁর বক্তব্য, ISRO-কে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরং সরকারি সংস্থাটি বেসরকারি উদ্যোগ এবং স্টার্টআপগুলিকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, যাতে তারা মহাকাশ শিল্পের প্রসারে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে।

নারায়ণনের মতে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা হস্তান্তর, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। মহাকাশ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক পরিষেবার চাহিদা বাড়ায় উৎক্ষেপণ ও সংশ্লিষ্ট কাজের একটি বড় অংশে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ, ISRO-র মূল ভূমিকা বজায় রেখেই বেসরকারি সংস্থাগুলিকে মহাকাশ প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক পরিষেবার বৃহত্তর পরিসরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

আগামী দুই মাসে গগনযানের প্রথম মানবহীন পরীক্ষা?

ভারতের প্রথম মানববাহী মহাকাশ অভিযান গগনযান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ISRO চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে গগনযান কর্মসূচির প্রথম মানবহীন পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তার পরে মহাকাশচারীদের নিয়ে অভিযান চালানোর আগে আরও দুটি মানবহীন পরীক্ষা করা হবে।

এই পরীক্ষাগুলিতে মহাকাশযানের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা পরিকাঠামো, ক্রু এসকেপ ব্যবস্থা এবং মডিউলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হবে। বিভিন্ন চাপ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিস্থিতিতে মহাকাশযানের কার্যকারিতা যাচাই করাও এই পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।

নারায়ণন জানিয়েছেন, গগনযান অভিযানের প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৮,০০০টি ভূমিভিত্তিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ISRO। পাশাপাশি, নির্বাচিত চার মহাকাশচারী বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

তবে মানবহীন পরীক্ষার নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণের তারিখ এবং পরবর্তী ধাপের সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত সময়কে পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবেই দেখা উচিত।

চন্দ্রযান-৫ অভিযানে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা

চাঁদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ISRO চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চন্দ্রযান-৫ হবে জাপানের মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি চন্দ্র অভিযান।

এই মিশনে প্রায় ৩৫০ কেজি ওজনের একটি রোভার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ১০০ দিন ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। এর মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভারত ও জাপানের এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে চন্দ্র অনুসন্ধানে দুই দেশের যৌথ মহাকাশ কর্মসূচি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের মহাকাশ শিল্পে কী প্রভাব পড়তে পারে?

চারটি কার্যকর লঞ্চ প্যাড তৈরির লক্ষ্যমাত্রা, SSLV-র জন্য বিশেষ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ভারতের মহাকাশ শিল্পের প্রসারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়লে ভারতীয় সংস্থা ও স্টার্টআপগুলির জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পাশাপাশি, গগনযান ও চন্দ্রযান-৫-এর মতো অভিযান ভারতের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচি এবং চন্দ্র অনুসন্ধানের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন লঞ্চ প্যাডগুলির নির্মাণ, উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো এবং মহাকাশ অভিযানের নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়নের উপরই এই পরিকল্পনাগুলির সাফল্য নির্ভর করবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *