ধনদেবীর সঙ্গেই পূজিত হন সরস্বতী, বসে জিলিপির মেলা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ধনদেবীর সঙ্গেই পূজিত হন সরস্বতী, বসে জিলিপির মেলা

Spread the love

বুদ্ধদেব বেরা, হাড়দা

এলাকার সবাই ব্যস্ত। চারিদিকে সাজো সাজো রব। তোড়জোড় চলছে জিলিপির মেলারও। আজ রবিবার লক্ষ্মী পুজো। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী এ গ্রামে লক্ষ্মীর সঙ্গে পূজিত হন সরস্বতীও। বিনপুর ২ ব্লকের হাড়দা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাড়দা গ্রামে সাহা ও মণ্ডল পরিবারের উদ্যোগে এই পুজো হয়ে থাকে। এ বার ১৬৪ বছরে পড়ল। পূর্বপুরুষের হাত ধরে শুরু হওয়া সেই পুজোর জৌলুস কমেনি এতটুকু।

গ্রামের মানুষ জানান, এই গ্রামের প্রধান পুজো লক্ষ্মী। পাঁচ দিন ধরে চলে এই পুজো। পুজোয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও এর বিশেষ আকর্ষণ জিলিপির মেলা। ২৫০ থেকে ৩০০ কুইন্টালেরও বেশি জিলিপি বিক্রি হয় এই লক্ষ্মীপুজোয়। বসে মাত্র একটি জিলিপির দোকান। নিলামের মাধ্যমে জিলিপির দোকানের বরাদ পেতে হয় বিক্রেতাকে। উদ্যোক্তারা জানান, তিন মাস আগে তিন লক্ষ ৯১ হাজার ৬০১ টাকায় জিলিপির দোকান পেয়েছেন হাড়দা গ্রামের বাসিন্দা সিন্টু সাহা। তিনি বলেন, ‘এই জিলিপির বিশেষত্ব রয়েছে। চালের গুঁড়ি, ময়দার খামি দিয়ে কড়া পাকের জিলিপি করা হয়। সারা বছর এই জিলিপি তৈরি হয় না। লক্ষ্মীপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজোর আগের দিন পর্যন্ত এই জিলিপির দোকানে প্রায় আড়াইশো কুইন্টালের ঊর্ধ্বে জিলিপি বিক্রি হয়। গত বছর প্রায় ২৬ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়েছে। পুজো কমিটিকে জিলিপির দোকানের নিলামের টাকা দেওয়ার পরেও ভালো অঙ্কের টাকা লাভ হয়।’ প্রত্যেক বছর ৬ থেকে ৭ জন কারিগর একনাগারে জিলিপি তৈরি করেন। এ বার ছয়টি উনুনের জন্য নয় জন কারিগর রয়েছেন। জিলিপি তৈরি যাতে না থামে তাই মালিক এই ব্যবস্থা করেছেন। এ বার বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা তাঁর। জিলিপির দাম কিলো প্রতি ১১০ টাকা করা হয়েছে। আগের বছর ১০০ টাকা কিলোয় জিলিপি বিক্রি হয়েছিল। পুজো কমিটির সদস্য ভুবন মণ্ডল বলেন, ‘দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আমাদের আত্মীয়দের এই জিলিপি পাঠানো হয়। সৌদি আরবেও কয়েকবার পাঠানো হয়েছিল।’

কিন্তু গ্রামে লক্ষ্মীর সঙ্গে সরস্বতীর পুজো কেন করা হয়?

হাড়দা শ্রী শ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো কমিটির সম্পাদক কার্তিক মণ্ডল বলেন, ‘বিষ্ণু পুরাণ মতে নারায়ণের দুই স্ত্রী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। আমরা একজনকে ছেড়ে কী ভাবে আরেক জনের পুজো করতে পারি। সে জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা লক্ষ্মী ও সরস্বতী—দুই দেবীকেই পুজো করা শুরু করেন। সেই প্রথাই আমরা মেনে নিয়ে চলছি।’ এই পুজোকে ঘিরে গ্রামের মানুষ মেতে ওঠেন। গ্রামের বাইরে যাঁরা থাকেন, তাঁরাও এ সময়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এক চালাতেই পাশাপাশি থাকেন লক্ষ্মী ও সরস্বতী। সরস্বতীর গায়ের রং সাদা ও লক্ষ্মী হালকা গোলাপি রঙের হয়। সঙ্গে থাকে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর দুই সখী লুক ও লুকানি। লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মাথার উপরে থাকেন নারায়ণ। পুজোতে ফল, মিষ্টির পাশাপাশি ভোগে থাকে লাড্ডু।

২৫ অক্টোবর থেকে লক্ষ্মীপুজো শুরু হবে চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। পুজোর ঘট উত্তোলনের সময়ে বিশেষ সবুজ বাজির ব্যবস্থা রয়েছে। হাড়দা লক্ষ্মীপুজো দেখার জন্য ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার বহু মানুষ আসেন। পুজো কমিটির সভাপতি সমর মণ্ডল বলেন, ‘এ বার পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। হাড়দা গ্রামের ৫০০টি সাহা ও মণ্ডল পরিবার থেকেই এই চাঁদা দেওয়া হয়। বাইরের কারও কাছ থেকে কোনও চাঁদা নেওয়া হয় না।’ পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয় বিনপুর থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *