Kharge Remark on PM Modi’s Father: প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে খাড়্গের মন্তব্য, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাহ-নবীনের | Congress President Mallikarjun Kharge’s ‘Modi Ka Baap Bhi Jayega’ remark sparks BJP backlash, Amit Shah hits back - 24 Ghanta Bangla News
Home

Kharge Remark on PM Modi’s Father: প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে খাড়্গের মন্তব্য, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাহ-নবীনের | Congress President Mallikarjun Kharge’s ‘Modi Ka Baap Bhi Jayega’ remark sparks BJP backlash, Amit Shah hits back

Spread the love

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের Image Credit: TV9 Bharatvarsh

পটনা ও নয়াদিল্লি: পটনায় একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের। তাঁর সেই মন্তব্য নিয়ে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। খাড়্গের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। রবিবার সেখানে বক্তব্য রাখার সময় দর্শকাসনে উপস্থিত এক ব্যক্তি খাড়্গেকে বাধা দেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বলেন, মোদী কোথাও যাবেন না। এর জবাবে খাড়্গে বলেন, “মোদী কা বাপ ভি জায়েগা”। অর্থাৎ মোদীর বাবাও চলে যাবেন। একবার নয়, একই মন্তব্য দু’বার করেন তিনি। এরপরই অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সন্তোষ কুমার নামে ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সন্তোষ দাবি করেন, তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, বিদ্রোহ না হলে মোদী যাবেন না। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

খাড়্গেকে আক্রমণ অমিত শাহ ও নীতিন নবীনের-

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অমিত শাহ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন খড়্গে।

এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে শাহের অভিযোগ, মোদী এবং তাঁর পরিবারকে নিশানা করে বারবার আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। অতীতে মোদীর মা-কে নিয়ে মন্তব্য, তাঁকে ‘মৃত্যুর সওদাগর’ বলা এবং তাঁর পেশাগত পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

শাহ বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস প্রতিদিনই শালীনতার সীমা অতিক্রম করে চলেছে।”

খড়্গের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। তাঁর অভিযোগ, এই মন্তব্য কংগ্রেসের ‘আদর্শগত দেউলিয়াপনা’র পরিচয়। উন্নয়ন, সরকারি নীতি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বলার মতো কোনও জোরালো বিষয় না থাকায় কংগ্রেস ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

খড়্গের মন্তব্যকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা করেছে দলটি।

খড়্গের বিরুদ্ধে সরব বিজেপির একাধিক নেতা

এই ইস্যুতে কংগ্রেস সভাপতিকে আক্রমণ করেছেন বিজেপির আরও কয়েকজন নেতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অভিযোগ, মোদীর নীতির সমালোচনা না করে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করছে কংগ্রেস।

বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা খড়্গের মন্তব্যকে ‘বিরক্তিকর, অপরিণত এবং অশালীন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের বক্তব্য, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ, কংগ্রেসের ‘দরবার’ নয় যে সেখানে নেতারা যখন-তখন অন্যদের অপমান করবেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, আগে তিনি মনে করতেন, এই ধরনের মন্তব্য শুধু রাহুল গান্ধীই করেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছর অন্তত ক্ষমতায় থাকবেন মোদী।

মোদী, আরএসএস ও নীতীশকে নিশানা খড়্গের

অন্যদিকে, পটনার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও আক্রমণ করেন খড়্গে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে বিদেশে থাকা কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই টাকা কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরএসএসের আদর্শের সমালোচনা করে খড়্গের অভিযোগ, এই আদর্শ সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উৎসাহিত করে এবং শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে জোট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খড়্গে। তাঁর বক্তব্য, এই জোট নীতীশের সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এ ছাড়াও উত্তরাখণ্ডের হালদওয়ানিতে একটি কংগ্রেস সমাবেশের পর অনুষ্ঠানস্থলে শুদ্ধিকরণ আচার পালনের খবরের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। অস্পৃশ্যতার নিন্দা করে খড়্গে প্রশ্ন করেন, এ ধরনের প্রথা চালু থাকলে সামাজিক ঐক্য কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?

খড়্গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ফলে পটনার ওই অনুষ্ঠানে কালো টাকা, আরএসএস এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে খড়্গে যে প্রশ্নগুলি তুলেছিলেন, সেগুলি ছাপিয়ে এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *