iPhone 18 Pro Max রিভিউ, ব্যাটারিতে বড় চমক কতটা উন্নত ক্যামেরা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

iPhone 18 Pro Max রিভিউ, ব্যাটারিতে বড় চমক কতটা উন্নত ক্যামেরা?

Spread the love

মুম্বই: Apple-এর নতুন iPhone 18 Pro Max-এ সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্যামেরার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যাটারি ব্যাকআপ। তিন সপ্তাহের ব্যবহারে ফোনটি প্রায় দেড় দিন পর্যন্ত চলেছে বলে দাবি করেছেন পরীক্ষক। পাশাপাশি রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের তিনটি রিয়ার ক্যামেরা, ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার, উন্নত কুলিং ব্যবস্থা এবং নতুন iOS 27। তবে আগের প্রজন্মের iPhone 17 Pro Max-এর তুলনায় দৈনন্দিন ব্যবহারে পারফরম্যান্সের পার্থক্য খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে নতুন ফোনটি কতটা আকর্ষণীয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর চাহিদার উপর।

ডিজাইন ও পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন নেই

iPhone 18 Pro Max-এ আগের মডেলের অ্যালুমিনিয়াম ইউনিবডি নির্মাণ এবং প্রিমিয়াম ফিনিশ বজায় রাখা হয়েছে। Action Button, Camera Control এবং USB Type-C পোর্টও রয়েছে। সামগ্রিক ডিজাইনে বড় পরিবর্তন না থাকায় বাইরে থেকে ফোনটিকে আগের প্রজন্মের মডেল থেকে আলাদা করা কঠিন হতে পারে।

দৈনন্দিন ব্যবহারে অ্যাপ দ্রুত খোলে, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো সহজ এবং ইন্টারফেসও মসৃণ। তবে iPhone 17 Pro Max-ও এই কাজগুলি দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীরা নতুন প্রসেসরের অতিরিক্ত ক্ষমতা খুব একটা অনুভব নাও করতে পারেন।

গেমিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য নতুন হার্ডওয়্যারের সুবিধা বেশি বোঝা যায়। পরীক্ষক প্রায় ৪০ মিনিট সর্বোচ্চ ফ্রেম রেটে BGMI খেলেছেন। সেই সময় ফোনের ক্যামেরা মডিউলের ঠিক নীচের অংশে তাপ জমলেও তা অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছয়নি। গেম শেষ হওয়ার পর ফোনটি তুলনামূলক দ্রুত ঠান্ডাও হয়ে এসেছে। নতুন কুলিং ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের গেমিংয়ে কার্যকর বলে মনে হয়েছে পরীক্ষকের, যদিও সব ধরনের কাজেই ফোন ঠান্ডা থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

iOS 27-এ নতুন ইন্টারফেস ও AI ফিচার

iPhone 18 Pro Max-এ রয়েছে iOS 27। নতুন সফটওয়্যারে Liquid Glass ইন্টারফেসে পরিমার্জন, নতুন আইকন, Lock Screen কাস্টমাইজেশনের আরও সুযোগ এবং বড় আকারের উইজেট ব্যবহারের সুবিধা যোগ হয়েছে।

নতুন ইন্টারফেস দেখতে আরও পরিষ্কার হলেও আগের iOS ব্যবহারকারীদের কিছুটা অভ্যস্ত হতে সময় লাগতে পারে। পরিচিত কিছু ভিজ্যুয়াল উপাদান ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন থাকায় প্রথম থেকেই সবকিছু স্বাভাবিক মনে নাও হতে পারে।

Siri AI-কে ঘিরেও Apple-এর বড় পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সহকারী আরও স্বাভাবিক কথোপকথন, স্ক্রিনে কী দেখা যাচ্ছে তা বুঝে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং লেখার খসড়া তৈরি বা সম্পাদনার মতো সুবিধা দেওয়ার কথা। তবে পরীক্ষকের ভারতীয় রিভিউ ইউনিটে Siri AI-এর বিটা সংস্করণ দেরিতে উপলব্ধ হওয়ায় এই ফিচারগুলির পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

Photos অ্যাপে Extend, Reframe এবং উন্নত Clean Up-এর মতো টুলও রয়েছে। তবে iOS 27-এর অনেক সুবিধাই সমর্থিত পুরনো iPhone-এ পাওয়া যেতে পারে। ফলে শুধু নতুন সফটওয়্যার ফিচারের জন্য iPhone 17 Pro Max থেকে আপগ্রেড করার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়।

ক্যামেরায় ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচারই বড় আকর্ষণ

iPhone 18 Pro Max-এর পিছনে রয়েছে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। মূল ক্যামেরার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার। ব্যবহারকারী f/1.48, f/1.8, f/2.8 এবং f/4-এর মধ্যে অ্যাপারচার পরিবর্তন করতে পারেন। এর ফলে ক্যামেরায় কতটা আলো প্রবেশ করবে এবং ছবির কতটা অংশ ফোকাসে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়ে।

কম আলোয় প্রশস্ত অ্যাপারচার বেশি আলো সংগ্রহ করতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, তুলনামূলক সরু অ্যাপারচার ব্যবহার করলে বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বিষয়গুলিকে ফোকাসে রাখার সুবিধা মিলতে পারে। তবে অ্যাপারচার পরিবর্তন করলেই প্রতিটি ছবি ভালো হবে এমন নয়। দৃশ্যের আলো, শাটার স্পিড এবং ছবির ধরন অনুযায়ী ফলাফল বদলাতে পারে।

দিনের আলোয় মূল ক্যামেরা থেকে ভালো ডিটেল, স্বাভাবিক রং এবং কার্যকর ডায়নামিক রেঞ্জ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষক। কম আলোতেও ছবিতে ডিটেল ধরে রাখা, নয়েজ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাভাবিক রং বজায় রাখার ক্ষেত্রে ফোনটি প্রশংসা পেয়েছে।

ক্যামেরা অ্যাপে অ্যাপারচার, শাটার স্পিড ও হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণের সুবিধা এবং হিস্টোগ্রাম যোগ হওয়ায় ফটোগ্রাফি উৎসাহীদের জন্য আরও বেশি ম্যানুয়াল কন্ট্রোল পাওয়া যাবে। যাঁরা শুধু ক্যামেরা খুলে ছবি তোলেন, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে।

টেলিফটো ও আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা

টেলিফটো ক্যামেরায় ভালো ডায়নামিক রেঞ্জ এবং আকর্ষণীয় রং পাওয়া গিয়েছে। জুম করে তোলা ছবিতে আগের মডেলের তুলনায় কিছুটা বেশি শার্পনেসও দেখা গেছে। ফোনটিতে ৪x অপটিক্যাল জুম এবং ৮x অপটিক্যাল-কোয়ালিটি জুমের সুবিধা রয়েছে। তবে ৮x অপটিক্যাল-কোয়ালিটি জুমকে আলাদা ৮x অপটিক্যাল লেন্সের সমতুল্য ভাবা ঠিক হবে না।

আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরাও বাইরের দৃশ্য তোলার ক্ষেত্রে ভালো ফল দিয়েছে। স্বাভাবিক রং, পর্যাপ্ত ডিটেল এবং ভালো ডায়নামিক রেঞ্জের পাশাপাশি এই ক্যামেরা দিয়ে ম্যাক্রো ছবিও তোলা যায়।

১৮ মেগাপিক্সেলের Center Stage ফ্রন্ট ক্যামেরা আগের প্রজন্মের মতোই রয়েছে। সেলফি, পোর্ট্রেট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারের ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া গেলেও iPhone 17 Pro Max-এর তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তন নেই।

ভিডিও নির্মাতাদের জন্য ফোনটি 4K Dolby Vision রেকর্ডিংয়ে সর্বোচ্চ ১২০ fps পর্যন্ত সমর্থন করে। পাশাপাশি ProRes RAW, Apple Log 2, Smart Focus Tracking এবং উন্নত ভিডিও কন্ট্রোলের মতো সুবিধা রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত এক্সপোজার ও রঙের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এগুলি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজে লাগতে পারে।

ব্যাটারিই iPhone 18 Pro Max-এর সবচেয়ে বড় শক্তি

ব্যাটারির ক্ষেত্রেই নতুন মডেলটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ভারতীয় সংস্করণে রয়েছে ৫,৩৯১mAh ব্যাটারি, যেখানে iPhone 17 Pro Max-এ ছিল ৪,৮২৩mAh ব্যাটারি। অর্থাৎ, ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

পরীক্ষকের দাবি, তিন সপ্তাহের ব্যবহারে ফোনটি নিয়মিত প্রায় দেড় দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ দিয়েছে। ভারী ব্যবহারের পরেও এই ফল পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর ব্যবহৃত iPhone 17 Pro Max সাধারণত এক দিন চলত এবং ব্যস্ত দিনের শেষে প্রায় ২৫ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট থাকত।

দীর্ঘ গাড়িযাত্রায় Apple Maps চালু রাখা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বেশি রাখা এবং মাঝে মাঝে মিউজিক স্ট্রিমিংয়ের মতো কাজেও নতুন মডেলটি ভালো ব্যাকআপ দিয়েছে। তবে বাস্তবে ব্যাটারির স্থায়িত্ব নেটওয়ার্ক, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, গেমিং, ভিডিও রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতীয় সংস্করণে ফিজিক্যাল ন্যানো-SIM স্লট থাকায় ব্যাটারির ক্ষমতা eSIM-নির্ভর কিছু আন্তর্জাতিক সংস্করণের তুলনায় কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সংস্করণগুলিতে ৫,৫৬৭mAh ব্যাটারি রয়েছে।

চার্জিংয়েও উন্নতি

সামঞ্জস্যপূর্ণ ৬০W অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে প্রায় ১৫ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ পাওয়া যেতে পারে বলে Apple-এর দাবি। ৩৫W অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে ৫০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। ফোনটি ২৫W পর্যন্ত Qi2 ওয়্যারলেস চার্জিংও সমর্থন করে।

তবে দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা পেতে উপযুক্ত অ্যাডাপ্টার প্রয়োজন, যা আলাদাভাবে কিনতে হতে পারে। Android-এর কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ ফোনের তুলনায় চার্জিংয়ের গতি এখনও খুব বেশি নয়। কিন্তু বড় ব্যাটারি এবং উন্নত ব্যাকআপের সঙ্গে দ্রুত চার্জিং মিলিয়ে সামগ্রিক অভিজ্ঞতা আগের তুলনায় সুবিধাজনক হয়েছে।

iPhone 18 Pro Max-এর দাম কত?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে iPhone 18 Pro Max-এর প্রারম্ভিক দাম ১,৭৯,৯০০ টাকা। এই দামে ফোনটি প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ বিভাগে পড়ে, যেখানে ক্যামেরার জুম ক্ষমতা ও চার্জিংয়ের গতির মতো ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা রয়েছে।

যাঁরা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, নিয়মিত গেম খেলেন, ভ্রমণের সময় নেভিগেশন চালান কিংবা মোবাইলেই ভিডিও তৈরি করেন, তাঁদের কাছে উন্নত ব্যাটারি ব্যাকআপ বড় সুবিধা হতে পারে। অন্যদিকে, iPhone 17 Pro Max ব্যবহারকারীদের জন্য শুধু প্রসেসর বা ক্যামেরার পরিবর্তনের কারণে নতুন ফোন কেনার যথেষ্ট কারণ নাও থাকতে পারে।

চূড়ান্ত রায়: কাদের জন্য এই iPhone?

iPhone 18 Pro Max একটি শক্তিশালী ও পরিমার্জিত ফ্ল্যাগশিপ। এর ব্যাটারি ব্যাকআপ, উন্নত কুলিং ব্যবস্থা এবং ক্যামেরার অতিরিক্ত ম্যানুয়াল কন্ট্রোল উল্লেখযোগ্য সুবিধা। তবে ডিজাইন, দৈনন্দিন পারফরম্যান্স এবং ক্যামেরার সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় আগের মডেলের তুলনায় বিপ্লবী পরিবর্তন নেই।

iPhone 17 Pro Max থেকে সরাসরি আপগ্রেড করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করা উচিত। দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ যদি প্রধান অগ্রাধিকার হয়, তাহলে নতুন মডেলটি আকর্ষণীয়। কিন্তু পুরনো ফোনটি ভালো অবস্থায় থাকলে এবং ব্যাটারি নিয়ে সমস্যা না থাকলে আপগ্রেডের প্রয়োজনীয়তা সীমিত।

অন্যদিকে, iPhone 16 Pro Max বা তারও পুরনো মডেল থেকে আপগ্রেড করলে পারফরম্যান্স, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার উন্নতি তুলনামূলক বেশি অনুভব করা যেতে পারে। সব মিলিয়ে, iPhone 18 Pro Max-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য নতুন ডিজাইন নয়, বরং আগের ভালো ফোনটিকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলা।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *