৫,৫০০ কিমি চলার পর Skoda Kylaq-এর আসল সমস্যা কোথায়? - 24 Ghanta Bangla News
Home

৫,৫০০ কিমি চলার পর Skoda Kylaq-এর আসল সমস্যা কোথায়?

Spread the love

গুরুগাঁও: দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, পাহাড়ি রাস্তায় আত্মবিশ্বাসী চালনা, আবার শহরের রাস্তায় যানজটে নাজেহাল। ৫,৫০০ কিলোমিটার চালানোর অভিজ্ঞতায় Skoda Kylaq-এর এমনই এক মিশ্র ছবি উঠে এসেছে। পুনে থেকে প্রাগ পর্যন্ত প্রায় ১৯,০০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ অভিযানে গাড়িটি হাইওয়ে, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ এবং দুর্গম রাস্তা সামলেছে দক্ষতার সঙ্গে। কিন্তু মুম্বইয়ের প্রতিদিনের থেমে থেমে চলা যানজটেই সমস্যায় পড়েছে এই কমপ্যাক্ট SUV। বিশেষ করে ঘণ্টায় ০ থেকে ৩০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা চালককে হতাশ করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের দ্বিতীয় পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, Skoda Kylaq-এর ইঞ্জিনের চরিত্র, জ্বালানি সাশ্রয়, আসনের আরাম এবং স্টিয়ারিংয়ের ব্যবহারিক দিক। গাড়িটি দ্রুতগতির রাস্তায় যেমন চালকের মন জয় করতে পারে, তেমনই নিয়মিত যানজটের মধ্যে চলার সময় তার কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কম গতিতে টার্বো ল্যাগ বড় সমস্যা

মুম্বইয়ে মাত্র আট কিলোমিটারের অফিসযাত্রায় Skoda Kylaq-এর ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে। ঘণ্টায় ০ থেকে ৩০ কিলোমিটার গতির মধ্যে বারবার গতি বাড়ানো ও কমানোর সময় ইঞ্জিনের প্রতিক্রিয়া সব সময় মসৃণ মনে হয়নি। বিশেষ করে ২,০০০ rpm-এর নীচে টর্কের ঘাটতি এবং টার্বো ল্যাগ অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষক।

এর ফলে যানজটে ধীরে এগোনোর সময় চালককে বারবার অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিতে হয়। ইঞ্জিনের টার্বো কার্যকরভাবে কাজ করতে শুরু করলে হঠাৎ শক্তি বেড়ে যাওয়ার অনুভূতিও হতে পারে। শহরের রাস্তায় যেখানে মসৃণভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, সেখানে এই আচরণ চালানোর অভিজ্ঞতাকে কিছুটা অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। বাড়ি থেকে অফিসের নিয়মিত যাত্রায় পরীক্ষক গড়ে মাত্র ৬.৮ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পেয়েছেন। তবে মহিম থেকে বোরিভলির তুলনামূলক গতিশীল রাস্তায় গাড়িটি সর্বোচ্চ ১৪.৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ দেখিয়েছে। অর্থাৎ, যানজটের তীব্রতা এবং গাড়ি চালানোর ধরন Kylaq-এর জ্বালানি খরচে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

ফাঁকা রাস্তায় Skoda Kylaq-এর আসল মজা

শহরের যানজটে সমস্যা থাকলেও রাস্তা কিছুটা ফাঁকা থাকলে Kylaq-এর চরিত্র বদলে যায়। ইঞ্জিনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নির্ভুল স্টিয়ারিং এবং ছোট আকারের কারণে গাড়িটি সহজেই গতির ফাঁক পূরণ করতে পারে। ধীরগতির গাড়িকে ওভারটেক করা কিংবা দ্রুত লেন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এর কমপ্যাক্ট আকার সুবিধা দেয়।

পরীক্ষকের পরিবারের অভিজ্ঞতাতেও এই পার্থক্য ধরা পড়েছে। আগে দক্ষিণ মুম্বইয়ের যানজটে Kylaq চালিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়া তাঁর স্ত্রী তুলনামূলক ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেছেন। অর্থাৎ, গাড়িটির ইঞ্জিন বা চালনার ক্ষমতা সব পরিস্থিতিতে একই রকম অভিজ্ঞতা দেয় না। যানজটমুক্ত রাস্তা এবং হাইওয়েতে এর পারফরম্যান্স বেশি উপভোগ্য।

ছোট SUV হলেও পিছনের আসনে কেমন জায়গা?

Kylaq-এর বাইরের আকার কমপ্যাক্ট হলেও পিছনের আসনে পায়ের জায়গা মোটামুটি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন পরীক্ষক। তবে যাত্রী কতটা লম্বা, তার উপর আরামের অভিজ্ঞতা নির্ভর করতে পারে। প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার এক যাত্রীর কাছে পিছনের আসন কিছুটা ছোট মনে হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ ফুটের সামান্য বেশি উচ্চতার যাত্রীর জন্য জায়গা যথেষ্ট ছিল।

আসনের আরামের ক্ষেত্রে অবশ্য গাড়িটি প্রশংসা পেয়েছে। সামনের ভেন্টিলেটেড আসনগুলি বিশেষভাবে ভালো লেগেছে পরীক্ষকের। এই আসনে রয়েছে দুটি ফ্যান স্পিড। সাধারণত ঠান্ডা আসন ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু Kylaq-এর ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় চালু রেখেও আসনের পৃষ্ঠকে আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখতে পেরেছে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা।

স্টিয়ারিং হুইলের নকশাও প্রশংসা কুড়িয়েছে

Kylaq-এর স্টিয়ারিং হুইল নিয়েও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পরীক্ষক। স্টিয়ারিংয়ের গঠন, বুড়ো আঙুল রাখার জন্য তৈরি অংশ এবং মোটা রিম দীর্ঘ সময় ধরে ধরার ক্ষেত্রে আরাম দেয়। পাশাপাশি, হাতের নাগালে থাকা ক্লিকযোগ্য বোতাম এবং Skoda-র পরিচিত স্ক্রল হুইলগুলি ব্যবহার করতেও সুবিধাজনক।

শহরের যানজটে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিংয়ে খুব বেশি কাজ করতে না হলেও সেটি হাতে আরামদায়ক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। Kylaq-এর স্টিয়ারিংয়ের স্পর্শ ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি এই দিক থেকে ভালো লেগেছে পরীক্ষকের।

কার জন্য উপযুক্ত Skoda Kylaq?

৫,৫০০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, Skoda Kylaq-এর শক্তি মূলত তার চালনার গতিশীলতা, নির্ভুল স্টিয়ারিং এবং তুলনামূলক ফাঁকা রাস্তায় ইঞ্জিনের প্রতিক্রিয়ায়। হাইওয়ে বা শহরের এমন রাস্তায় যেখানে বারবার থামতে হয় না, সেখানে গাড়িটি বেশি আনন্দদায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে, যাঁদের প্রতিদিন ঘন যানজটের মধ্যে অল্প দূরত্ব যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের জন্য কম গতিতে টার্বো ল্যাগ এবং পরীক্ষকের পাওয়া কম মাইলেজ বিবেচনার বিষয়। তবে ৬.৮ ও ১৪.৫ কিলোমিটার প্রতি লিটারের পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট পরীক্ষকের নির্দিষ্ট রুটে পাওয়া ফল, সব চালক বা সব পরিস্থিতিতে একই মাইলেজ মিলবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

এবার দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষায় Kylaq-এর দায়িত্ব অন্য এক চালকের হাতে যাচ্ছে। তাঁর ব্যবহার এবং চালানোর পরিবেশে গাড়িটি কেমন পারফরম্যান্স দেয়, তা পরবর্তী পর্যালোচনায় আরও পরিষ্কার হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *