স্মার্ট চশমায় দাবায় প্রতারণার অভিযোগ, বাড়ছে এআই বিতর্ক - 24 Ghanta Bangla News
Home

স্মার্ট চশমায় দাবায় প্রতারণার অভিযোগ, বাড়ছে এআই বিতর্ক

Spread the love

রোম:  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে দৈনন্দিন জীবন আরও সহজ করে তুলছে স্মার্ট গ্লাস (Smart Glasses)। ফোন হাতে না নিয়েই ছবি তোলা, ফোনে কথা বলা, তথ্য জানা কিংবা এআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুবিধা মিলছে এই প্রযুক্তিতে। কিন্তু সুবিধার পাশাপাশি গোপনীয়তা লঙ্ঘন, গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং এবং অসৎ উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি দাবার খেলার ভিডিও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। অভিযোগ, এআই-চালিত স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষকে না জানিয়েই দাবার খেলায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে কী অভিযোগ?

ভিডিওটি প্রথমে টিকটক নির্মাতা SourGrape02 শেয়ার করেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানে দেখা যায়, একটি পার্কে এক ব্যক্তি এক মহিলাকে দাবা খেলার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি জীবনে মাত্র এক বা দু’বার দাবা খেলেছেন। কিন্তু খেলার সময় তাঁর পারফরম্যান্স দেখে সন্দেহ তৈরি হয় যে, তিনি হয়তো গোপনে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন।

২৩ অক্টোবর এক প্রযুক্তি-বিষয়ক ভাষ্যকার ভিডিওটি এক্সে শেয়ার করেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই ব্যক্তি Ray-Ban Meta স্মার্ট গ্লাস, এআই এবং একটি MacBook ব্যবহার করে দাবায় প্রতারণা করেছেন। ভিডিওটির ফুটেজ ১৮ অক্টোবরের বলে উল্লেখ করা হলেও মূল টিকটক ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছিল বা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কীভাবে এআইয়ের সাহায্য নেওয়ার অভিযোগ?

ভিডিওটির সঙ্গে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি Ray-Ban Meta স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে দাবার বোর্ডের দৃশ্য একটি WhatsApp ভিডিও কলের সাহায্যে MacBook-এ পাঠাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর GPT বোর্ডে থাকা ঘুঁটিগুলির অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করছিল এবং শক্তিশালী দাবা ইঞ্জিন Stockfish সম্ভাব্য সেরা চাল হিসাব করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কম্পিউটারে পাওয়া চালের পরামর্শ স্মার্ট গ্লাসের অডিও ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। ফলে তাঁকে বারবার কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকাতে হচ্ছিল না। ভিডিওর শেষ দিকে মহিলাকে বিস্মিত দেখায় এবং শেষ পর্যন্ত দাবায় চেকমেট হওয়ার দৃশ্য দিয়ে ক্লিপটি শেষ হয়।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সত্যিই ঘটেছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সম্পূর্ণ দাবার খেলাটিও প্রকাশ্যে নেই। ফলে ভিডিওটি দেখে একা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ওই ব্যক্তি এআইয়ের সাহায্যে প্রতারণা করেছেন।

GothamChess-এর প্রশ্ন, দাবার চাল নিয়েও বিতর্ক

ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রিয় দাবা ভাষ্যকার লেভি রোজম্যান, যিনি GothamChess নামে পরিচিত। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি ভাইরাল ক্লিপটির সত্যতা ও গুরুত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

রোজম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা দাবার ঘড়িটি চালু ছিল বলে মনে হয়নি। তাঁর আরও দাবি, ওই খেলায় জিততে প্রতারণার প্রয়োজন ছিল না। কারণ, ভিডিওতে দেখা চালটি দাবার একটি পরিচিত ওপেনিং ফাঁদ, যার নাম Blackburne Shilling Gambit-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই মন্তব্যের ফলে ভিডিওটি ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। একদিকে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে গোপনে বাইরের সাহায্য নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, অন্যদিকে ভিডিওটির ভিত্তিতে প্রতারণার অভিযোগকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে তুলে ধরার যথেষ্ট প্রমাণও নেই।

শুধু দাবা নয়, পরীক্ষাতেও বাড়তে পারে ঝুঁকি

স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে চোখের সামনে থাকা দৃশ্য বিশ্লেষণ করে তথ্য পাওয়ার সুবিধা ভবিষ্যতে একাধিক ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। দাবার মতো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাইরের সাহায্য নেওয়া হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে পোকার, পরীক্ষা এবং এমন অন্যান্য পরিস্থিতিতেও, যেখানে গোপনে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া অন্যদের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা এনে দিতে পারে।

তবে স্মার্ট গ্লাসের ইতিবাচক ব্যবহারও কম নয়। হাত ব্যবহার না করেই যোগাযোগ, নেভিগেশন, ছবি তোলা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়তা করার মতো কাজে এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। সমস্যা তৈরি হয় যখন এই সুবিধাগুলি অন্যের অজান্তে নজরদারি, ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করা কিংবা প্রতিযোগিতায় অসৎ সুবিধা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সুবিধা ও অপব্যবহারের মাঝখানে প্রযুক্তির পরীক্ষা

ভাইরাল দাবার ভিডিওটি এআই-সহায়তায় প্রতারণার অকাট্য প্রমাণ নয়। তবে এটি দেখিয়ে দিয়েছে, ক্যামেরা ও এআই-সমৃদ্ধ পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা কতটা কঠিন হতে পারে।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তাই শুধু নতুন সুবিধা ব্যবহারের প্রশ্নই নয়, কোথায় তার ব্যবহার গ্রহণযোগ্য এবং কোথায় তা অন্যের অধিকার বা প্রতিযোগিতার নিয়ম লঙ্ঘন করছে, সেই সীমারেখা নির্ধারণও জরুরি হয়ে উঠছে।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *