৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ২০২৬ সালের সেরা ৮টি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি - 24 Ghanta Bangla News
Home

৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ২০২৬ সালের সেরা ৮টি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি

Spread the love

গুরুগাঁও: প্রতিদিন অফিস যাতায়াতের জন্য নতুন গাড়ি (Best Used Cars) কেনা অনেকের বাজেটের বাইরে হতে পারে। তবে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ভালো অবস্থায় থাকা একটি পুরনো গাড়ি কিনে দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ সামলানো সম্ভব। ২০২৬ সালে এই বাজেটে Maruti Suzuki Swift, Tata Tiago, Hyundai Grand i10, Wagon R, Ignis, Baleno, Celerio এবং Honda Amaze-এর মতো একাধিক ব্যবহৃত গাড়ি বিবেচনা করতে পারেন ক্রেতারা।

তবে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় শুধু দাম বা মডেলের বছর দেখলেই হবে না। গাড়ির সার্ভিস হিস্ট্রি, ইঞ্জিনের অবস্থা, দুর্ঘটনার রেকর্ড, ক্লাচ ও গিয়ারবক্সের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে মেরামতের সম্ভাব্য খরচও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিদিন যানজটের মধ্যে গাড়ি চালাতে হলে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক গিয়ারবক্সের মধ্যে সঠিক বিকল্প বেছে নেওয়া দরকার।

১. Maruti Suzuki Swift

আনুমানিক দাম: ৩.৬০ লক্ষ থেকে ৪.৯৫ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৬-২০১৯
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: VXi, ZXi এবং VXi AGS

Maruti Suzuki Swift শহরের রাস্তায় প্রতিদিন গাড়ি চালানোর জন্য একটি ব্যবহারিক বিকল্প। গাড়িটির কমপ্যাক্ট আকারের কারণে সরু রাস্তা, ব্যস্ত বাজার এবং অল্প জায়গায় পার্কিং করা তুলনামূলক সহজ। ১.২ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত পারফরম্যান্স দেয়। প্রথমবার গাড়ি কিনছেন, এমন ক্রেতাদের কাছেও এর পরিচিত কেবিন ও সহজ চালনার অভিজ্ঞতা আকর্ষণীয় হতে পারে।

এই বাজেটে VXi, ZXi এবং VXi AGS ভ্যারিয়েন্ট বিবেচনা করা যায়। ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের পাশাপাশি কিছু গাড়িতে AMT অটোমেটিকও পাওয়া যেতে পারে। যানজটে বারবার ক্লাচ ব্যবহার এড়াতে AMT সুবিধাজনক হলেও গিয়ার পরিবর্তনের সময় ঝাঁকুনি হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।

কেনার আগে যা দেখবেন: খারাপ রাস্তায় চালানোর সময় স্টিয়ারিং থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কি না, পরীক্ষা করুন। ম্যানুয়াল গাড়িতে ক্লাচ অতিরিক্ত শক্ত বা স্লিপ করছে কি না দেখুন। পাশাপাশি সার্ভিস রেকর্ড এবং দুর্ঘটনার পরে মেরামতের চিহ্ন খতিয়ে দেখুন।

কারা কিনবেন: প্রথমবার গাড়ি কিনছেন এবং শহরে সহজে চালানো যায়, এমন হ্যাচব্যাক চান যাঁরা।

২. Tata Tiago

আনুমানিক দাম: ৩.২০ লক্ষ থেকে ৪.৯৫ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৯-২০২২
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: XT, XZ+ এবং XZA

নিরাপত্তা, কেবিনের অনুভূতি এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধাকে গুরুত্ব দিলে Tata Tiago বিবেচনা করতে পারেন। গাড়িটিতে রয়েছে ১.২ লিটারের Revotron পেট্রল ইঞ্জিন। ছোট পরিবারের জন্য কেবিনে যথেষ্ট ব্যবহারিক জায়গা রয়েছে। নির্বাচিত ভ্যারিয়েন্টে টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম এবং স্মার্টফোন সংযোগের সুবিধাও পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত Global NCAP পরীক্ষায় Tiago চার তারকার নিরাপত্তা রেটিং পেয়েছিল। তবে এই রেটিং নির্দিষ্ট পরীক্ষিত কনফিগারেশনের জন্য, তাই একে গাড়ির সব সংস্করণের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

কেনার আগে যা দেখবেন: ইঞ্জিন চালু অবস্থায় সামান্য কম্পন স্বাভাবিক হতে পারে। তবে স্টিয়ারিং বা প্যাডেলে অতিরিক্ত কাঁপুনি থাকলে পরীক্ষা করান। AMT সংস্করণে ধীরগতিতে চালানোর সময় গিয়ার পরিবর্তনে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি বা দেরি হচ্ছে কি না দেখুন।

কারা কিনবেন: যাঁরা শহরের জন্য কমপ্যাক্ট গাড়ি চান এবং নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেন।

৩. Hyundai Grand i10

আনুমানিক দাম: ৩.২০ লক্ষ থেকে ৪.৭৫ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৬-২০১৯
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: Sportz, Asta এবং নির্বাচিত অটোমেটিক সংস্করণ

শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতে আরামকে অগ্রাধিকার দিলে Hyundai Grand i10 ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে রয়েছে ১.২ লিটারের Kappa পেট্রল ইঞ্জিন। হালকা স্টিয়ারিং এবং ম্যানুয়াল সংস্করণে তুলনামূলক সহজ ক্লাচ ব্যবহারের সুবিধা থাকায় ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালানো সুবিধাজনক হতে পারে। পিছনের আসনেও পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে যাতায়াতের মতো জায়গা রয়েছে।

এই গাড়ির অন্যতম আকর্ষণ নির্বাচিত ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া চার-গতির টর্ক কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স। AMT-এর তুলনায় এই ধরনের অটোমেটিক সাধারণত মসৃণভাবে গিয়ার পরিবর্তন করে। তবে ঘন যানজটে জ্বালানি খরচ ম্যানুয়াল সংস্করণের চেয়ে বেশি হতে পারে।

কেনার আগে যা দেখবেন: গাড়ি দাঁড় করিয়ে এবং চালানোর সময় এয়ার কন্ডিশনার পরীক্ষা করুন। কুলিং ঠিক থাকছে কি না, অস্বাভাবিক শব্দ বা লিক রয়েছে কি না দেখুন। অটোমেটিক সংস্করণে গিয়ার পরিবর্তন মসৃণ হচ্ছে কি না এবং সার্ভিসের রেকর্ডও যাচাই করুন।

কারা কিনবেন: যাঁরা নিয়মিত যানজটে গাড়ি চালান এবং প্রচলিত অটোমেটিক গিয়ারবক্স-সহ আরামদায়ক হ্যাচব্যাক চান।

৪. Maruti Suzuki Wagon R

আনুমানিক দাম: ৩.৪০ লক্ষ থেকে ৪.৮৫ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৮-২০২১
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: LXi, VXi, ZXi এবং নির্বাচিত S-CNG সংস্করণ

Wagon R-এর প্রধান শক্তি ব্যবহারিক নকশা। উঁচু ছাদ ও সোজা হয়ে বসার ব্যবস্থা গাড়িতে ওঠানামা সহজ করে। বড় জানালার কারণে চালক চারপাশের রাস্তা ভালোভাবে দেখতে পারেন। গাড়িটির ছোট আকার সরু গলি ও ব্যস্ত আবাসিক এলাকায় পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও সুবিধা দেয়।

এই বাজেটে ১.০ লিটার এবং ১.২ লিটার পেট্রল ইঞ্জিনের সংস্করণ পাওয়া যেতে পারে। নির্বাচিত ভ্যারিয়েন্টে কারখানায় লাগানো CNG ব্যবস্থাও রয়েছে। নিয়মিত বেশি দূরত্ব যাতায়াত করলে এবং কাছাকাছি CNG স্টেশন থাকলে এই বিকল্প জ্বালানির খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে CNG ট্যাঙ্কের কারণে বুট স্পেস কমে যায়।

কেনার আগে যা দেখবেন: আসন, প্যাডেল এবং দরজার কবজায় অতিরিক্ত ক্ষয় রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। গাড়িটি আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তারও ইঙ্গিত মিলতে পারে। CNG সংস্করণ হলে সংশ্লিষ্ট নথি এবং সিস্টেম যোগ্য প্রযুক্তিবিদকে দিয়ে পরীক্ষা করান। অসমান রাস্তায় সাসপেনশন থেকে শব্দ হচ্ছে কি না শুনুন।

কারা কিনবেন: যাঁরা সহজে ওঠানামা, ভালো দৃশ্যমানতা এবং দৈনন্দিন শহুরে ব্যবহারের সুবিধা চান।

৫. Maruti Suzuki Ignis

আনুমানিক দাম: ৩.৭৫ লক্ষ থেকে ৪.৯০ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৭-২০২০
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: Delta ও Zeta, ম্যানুয়াল অথবা AMT

Swift-এর বিকল্প হিসেবে Maruti Suzuki Ignis বিবেচনা করতে পারেন, বিশেষ করে যদি একটু উঁচুতে বসে গাড়ি চালাতে এবং আলাদা ধরনের ডিজাইন পছন্দ করেন। এতে রয়েছে ১.২ লিটারের চার-সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন। ছোট আকারের কারণে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়িটি চালানো সহজ। তুলনামূলক বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স অসমান রাস্তা এবং ঢালু পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে।

Delta ও Zeta ভ্যারিয়েন্টে ম্যানুয়াল এবং AMT বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। তবে পিছনের সাসপেনশন কিছু পরিস্থিতিতে শক্ত মনে হতে পারে। তাই কেনার আগে অসমান রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখা জরুরি।

কেনার আগে যা দেখবেন: খারাপ রাস্তায় চালিয়ে স্টিয়ারিং বা সাসপেনশন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন। মোড় নেওয়ার পর স্টিয়ারিং স্বাভাবিকভাবে আগের অবস্থায় ফিরছে কি না দেখুন। টায়ারের অসমান ক্ষয় থাকলে হুইল অ্যালাইনমেন্ট বা সাসপেনশনের সমস্যা থাকতে পারে।

কারা কিনবেন: যাঁরা কমপ্যাক্ট গাড়ি, উঁচু বসার অবস্থান এবং আলাদা ডিজাইন পছন্দ করেন।

৬. Maruti Suzuki Baleno

আনুমানিক দাম: ৩.৯০ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৬-২০১৯
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: Delta ও Zeta পেট্রল ম্যানুয়াল

ছোট হ্যাচব্যাকের তুলনায় বেশি কেবিন স্পেস দরকার হলে Maruti Suzuki Baleno ভালো বিকল্প। গাড়িটির পিছনের আসনে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে এবং ৩৩৯ লিটারের বুট পরিবার নিয়ে যাতায়াত, বাজার করা কিংবা সপ্তাহান্তে ভ্রমণের কাজে সুবিধা দেয়। ১.২ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন নিয়মিত যাতায়াতের জন্য উপযোগী।

প্রস্তাবিত ভ্যারিয়েন্টগুলির মধ্যে Delta ও Zeta পেট্রল ম্যানুয়াল রয়েছে। গাড়িটি Swift-এর চেয়ে বড় হলেও শহরের রাস্তায় চালানো তুলনামূলক সহজ। তবে কিছু গাড়ির দাম ৫ লক্ষ টাকার সীমার কাছাকাছি হতে পারে। তাই গাড়ির বয়স, চালানো দূরত্ব এবং সার্ভিসের রেকর্ডের সঙ্গে চাওয়া দামের তুলনা করুন।

কেনার আগে যা দেখবেন: যাত্রী নিয়ে চালানোর সময় সাসপেনশন থেকে শব্দ হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন। টায়ারের অবস্থা এবং দুর্ঘটনার ইতিহাস যাচাই করুন। অটোমেটিক সংস্করণ বিবেচনা করলে শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গিয়ারবক্সের অবস্থা ও সার্ভিস রেকর্ড পরীক্ষা করুন।

কারা কিনবেন: ছোট পরিবার এবং এমন যাঁরা দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে হাইওয়েতেও গাড়ি চালাতে চান।

৭. Maruti Suzuki Celerio

আনুমানিক দাম: ৩ লক্ষ থেকে ৪.৬০ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৭-২০২১
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: VXi ও ZXi, ম্যানুয়াল অথবা AMT

দৈনন্দিন গাড়ি চালানো সহজ এবং সাশ্রয়ী রাখতে চাইলে Maruti Suzuki Celerio বিবেচনা করা যায়। ছোট বডির কারণে গাড়িটি পার্ক করা সহজ এবং শহরের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এর পেট্রল ইঞ্জিন যথেষ্ট। Baleno-র মতো বেশি জায়গা না থাকলেও একা বা একজন যাত্রীকে নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারিক বিকল্প হতে পারে।

নির্বাচিত সংস্করণে Maruti-র AGS AMT গিয়ারবক্স রয়েছে। এতে ক্লাচ প্যাডেল ব্যবহার করতে হয় না, যা যানজটে সুবিধা দিতে পারে। তবে প্রচলিত অটোমেটিকের তুলনায় গিয়ার পরিবর্তনের ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হতে পারে।

কেনার আগে যা দেখবেন: AMT সংস্করণে গাড়ি চলতে শুরু করার সময় ক্লাচে কাঁপুনি বা গিয়ার পরিবর্তনে দেরি হচ্ছে কি না দেখুন। পাশাপাশি ক্লাচ, টায়ার, ব্রেক এবং সার্ভিস রেকর্ড পরীক্ষা করুন। গাড়িটি দীর্ঘদিন যানজটে চলেছে কি না, সেটিও বিবেচনা করুন।

কারা কিনবেন: একা যাতায়াত করেন, প্রথম গাড়ি কিনছেন অথবা সহজে পার্ক করা যায় এমন ছোট গাড়ি চান যাঁরা।

৮. Honda Amaze

আনুমানিক দাম: ৩.৬৫ লক্ষ থেকে ৪.৯৫ লক্ষ টাকা
মডেল ইয়ার: ২০১৬-২০১৯
বিবেচ্য ভ্যারিয়েন্ট: S ও V পেট্রল, ম্যানুয়াল অথবা CVT

হ্যাচব্যাকের বদলে সেডান পছন্দ হলে Honda Amaze একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে রয়েছে ১.২ লিটারের i-VTEC পেট্রল ইঞ্জিন এবং ৪২০ লিটারের বুট স্পেস। ফলে বাজার করা, পরিবারের লাগেজ নিয়ে যাতায়াত কিংবা বিমানবন্দরে যাওয়ার মতো কাজে এটি সুবিধাজনক।

নির্বাচিত সংস্করণে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের পাশাপাশি CVT অটোমেটিকও পাওয়া যায়। যানজটে CVT চালকের ক্লান্তি কমাতে পারে। তবে ব্যবহৃত অটোমেটিক গাড়ি কেনার সময় গিয়ারবক্সের অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস বিশেষভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।

কেনার আগে যা দেখবেন: স্পিড ব্রেকারে গাড়ির নীচের অংশ বা সামনের বাম্পারে ঘষা লেগেছে কি না পরীক্ষা করুন। CVT সংস্করণে ট্রান্সমিশনের সার্ভিস রেকর্ড দেখুন এবং টেস্ট ড্রাইভের সময় অস্বাভাবিক শব্দ, কাঁপুনি বা অসমান অ্যাক্সিলারেশন হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।

কারা কিনবেন: যাঁরা বড় বুট স্পেস-সহ সেডান চান এবং প্রয়োজনে অটোমেটিক গিয়ারবক্সের সুবিধা নিতে চান।

৫ লক্ষ টাকার মধ্যে পুরনো গাড়ি কেনার আগে যে বিষয়গুলি দেখবেন

গাড়ির মডেল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একই বছরের দুটি গাড়ির অবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। গাড়িটি কীভাবে চালানো হয়েছে, নিয়মিত সার্ভিস হয়েছে কি না এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কি না, তার উপর দীর্ঘমেয়াদি খরচ নির্ভর করে। তাই টাকা দেওয়ার আগে অভিজ্ঞ মেকানিককে দিয়ে পরীক্ষা করানো ভালো।

  • সার্ভিস হিস্ট্রি: নিয়মিত সার্ভিসের রেকর্ড দেখুন। ওডোমিটারে দেখানো দূরত্ব গাড়ির বয়স ও সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না যাচাই করুন।
  • দুর্ঘটনা ও বন্যার ক্ষতি: বডি প্যানেল, রঙের পার্থক্য, বুটের মেঝে, কেবিন এবং মরচে পড়ার চিহ্ন পরীক্ষা করুন।
  • ইঞ্জিন, ক্লাচ ও গিয়ারবক্স: ঠান্ডা ইঞ্জিনে গাড়ি চালু করে অস্বাভাবিক শব্দ শুনুন। ম্যানুয়াল বা অটোমেটিক গিয়ারবক্সের কার্যকারিতা টেস্ট ড্রাইভে যাচাই করুন।
  • টায়ার, ব্রেক ও সাসপেনশন: টায়ারের অসমান ক্ষয়, নকিং শব্দ এবং দুর্বল ব্রেকিং অতিরিক্ত মেরামতের খরচের ইঙ্গিত হতে পারে।
  • এয়ার কন্ডিশনার: গাড়ি দাঁড় করিয়ে এবং চালানোর সময় AC পরীক্ষা করুন।
  • নথিপত্র ও মালিকানা: রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, বিমা, দূষণ নিয়ন্ত্রণের শংসাপত্র, বকেয়া চালান এবং ঋণের অবস্থা যাচাই করুন। মালিকানা আইনসম্মতভাবে হস্তান্তর করা যাবে কি না নিশ্চিত হন।
  • জ্বালানি ও স্থানীয় নিয়ম: পুরনো ডিজেল বা BS4 পেট্রল গাড়ি কেনার আগে নিজের শহরে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ পরীক্ষা করুন। নিয়ম স্থানভেদে আলাদা হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিতও হতে পারে।

গাড়ির দাম ছাড়াও মেরামতের জন্য টাকা রাখুন

আপনার মোট বাজেট যদি ৫ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে পুরো অর্থ গাড়ি কেনার পিছনে খরচ না করাই ভালো। কেনার পর প্রাথমিক সার্ভিস, ব্যাটারি, টায়ার, ব্রেকের যন্ত্রাংশ বা অন্যান্য তরল পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। গাড়ির অবস্থা অনুযায়ী এই খরচ কম-বেশি হবে।

তাই গাড়ির দাম ঠিক করার সময় প্রাথমিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা অর্থ রাখুন। কম দামে গাড়ি পেলেই সেটি সাশ্রয়ী হবে, এমন নয়। কেনার পরপরই বড় মেরামতের প্রয়োজন হলে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।

দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য কোন গাড়িটি বেছে নেবেন?

প্রতিদিন অফিস যাতায়াত এবং যানজটের মধ্যে চালানোর জন্য Maruti Suzuki Swift, Wagon R ও Celerio দিয়ে খোঁজ শুরু করতে পারেন। Swift-এর চালনার অভিজ্ঞতা আকর্ষণীয়, Wagon R-এ বসার অবস্থান উঁচু এবং দৃশ্যমানতা ভালো, আর Celerio ছোট হওয়ায় পার্ক করা সহজ।

আরও বেশি কেবিন স্পেস বা আরাম চাইলে Tata Tiago, Hyundai Grand i10 এবং Maruti Suzuki Baleno বিবেচনা করুন। Tiago-র পরীক্ষিত সংস্করণের ক্র্যাশ-টেস্ট রেটিং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। Grand i10-এর প্রচলিত অটোমেটিক গিয়ারবক্স যানজটে সুবিধাজনক হতে পারে, আর Baleno-তে পিছনের যাত্রী ও লাগেজের জন্য বেশি জায়গা রয়েছে। সেডান পছন্দ হলে Honda Amaze-এর বড় বুট এবং নির্বাচিত সংস্করণের CVT গিয়ারবক্স বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

শেষ পর্যন্ত গাড়ি বেছে নেওয়ার সময় শুধু মডেল ইয়ার বা বিক্রেতার চাওয়া দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। গাড়ির বর্তমান অবস্থা, সার্ভিস হিস্ট্রি এবং সম্ভাব্য মেরামতের খরচের তুলনা করুন। ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা, পরিষ্কার ইতিহাসের একটি পুরনো গাড়ি অনেক সময় নতুন বছরের কিন্তু অবহেলিত গাড়ির চেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পছন্দ হতে পারে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *