Isha Outreach FPO Excellence Awards: কৃষকদের উদ্যোগকে স্বীকৃতি, পুরস্কৃত ইশা আউটরিচের সহায়তাপ্রাপ্ত তিন কৃষক সংগঠন | Sadhguru’s Isha Outreach Supported FPOs Win Top Honors At CII FPO Excellence Awards
নয়াদিল্লি: সদগুরুর সংস্থা ইশা আউটরিচের সহায়তাপ্রাপ্ত তিনটি কৃষক উৎপাদক সংস্থা (FPO) সম্মানিত হল কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII)-এর এফপিও উৎকর্ষ সম্মানে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের থেনচেরিমালাই ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড ‘মার্কেট লিঙ্কেজ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। কর্নাটকের কোডাগুর পন্নাড ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড সম্মানিত হয়েছে ‘টেকনোলজি অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি’ বিভাগে। অন্যদিকে, কোয়েম্বাটুরের সেন্নিয়ান্দভার এফপিও ‘মার্কেট লিঙ্কেজ’ বিভাগে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে।
কৃষকদের উদ্যোগকে স্বীকৃতি-
ইশা আউটরিচের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার এফপিও-র আবেদন তিনটি পর্যায়ে যাচাই করার পর এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ বাড়ানো, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিকাজে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরপর চার বছর ইশা আউটরিচের সহায়তাপ্রাপ্ত এফপিওগুলি এই পুরস্কারে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে।
নারকেল চাষিদের আয় বৃদ্ধি-
সেন্নিয়ান্দভার ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানির সেলভারাজ জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থায় ৭৫০ জন কৃষক সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি, প্রায় ২৪০ জন কৃষকের কাছ থেকে নারকেল কেনে সংস্থাটি। তাঁর দাবি, অন্যান্য ক্রেতাদের তুলনায় প্রতি নারকেল বা প্রতি কেজিতে কৃষকদের ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি দেয় তাঁদের সংস্থা। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য হয়েছে। সেলভারাজ বলেন, “ইশার সহায়তায় আমরা অন্য রাজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যবসায়িক যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারব বলে আত্মবিশ্বাসী। এর ফলে কৃষিপণ্যের বিক্রি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।”
সমবায় উদ্যোগে কৃষিকাজে সহায়তা-
ইশা আউটরিচের ‘সেভ সয়েল ফার্মার্স মুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের এফপিও-র আওতায় একত্রিত করা হয়। কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবসা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত, আর্থিক এবং বিপণন সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয় এই কর্মসূচিতে।
সংস্থার বক্তব্য, সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে কৃষকদের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ প্রসারিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০১৩ সালে ভেল্লিয়াঙ্গিরি উঝাভান এফপিও গঠনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। বর্তমানে তামিলনাড়ু ও কর্নাটক জুড়ে মোট ২৫টি এফপিও-তে সম্প্রসারিত হয়েছে এই উদ্যোগ।
আটটি জেলায় বিস্তৃত নেটওয়ার্ক-
ইশা আউটরিচের তথ্য অনুযায়ী, এই ২৫টি কৃষক উৎপাদক সংস্থার মোট সদস্যসংখ্যা ১৭ হাজারেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। মহিলা কৃষকদের অংশগ্রহণ ১৫ শতাংশ। আটটি জেলার ৫৮০টিরও বেশি গ্রামে মোট ৫৪ হাজার একরের বেশি জমিতে চাষ করেন এই সদস্যরা। নারকেল, কফি, কলা এবং মিলেট-সহ ১৫ ধরনের ফসল উৎপাদন করেন তাঁরা। সংস্থার দাবি, এই ২৫টি এফপিও-র সম্মিলিত ব্যবসার মোট লেনদেন ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।