৮.৯৪ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলা, ইয়াসিন মালিকের বিচার শুরু
নয়াদিল্লি: পাকিস্তান থেকে হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ আসা এবং জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে সেই টাকা ব্যবহারের অভিযোগে ইয়াসিন মালিক (Yasin Malik) -সহ সাত জনের বিরুদ্ধে বিচার…
নয়াদিল্লি: পাকিস্তান থেকে হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ আসা এবং জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে সেই টাকা ব্যবহারের অভিযোগে ইয়াসিন মালিক (Yasin Malik) -সহ সাত জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিল বিশেষ NIA আদালত। মামলায় আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যপ্রমাণ নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযোগ, এই মামলায় অভিযুক্তদের মাধ্যমে ৮.৯৪ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি ও গ্রহণ করা হয়েছিল।
নিষিদ্ধ জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (JKLF) প্রধান ইয়াসিন মালিক দিল্লির তিহাড় জেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির হন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং আদালতকে জানান, মামলায় তিনি নিজের পক্ষে লড়বেন। শুনানি হয় বন্ধ কক্ষে।
পাকিস্তান থেকে হাওয়ালা পথে টাকা আসার অভিযোগ
ED-র দাবি, হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ জম্মু-কাশ্মীরে পৌঁছে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নাশকতামূলক কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই অর্থ পাকিস্তানের বিভিন্ন সূত্র থেকে এসেছিল।
ED আরও অভিযোগ করেছে, দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ করে কুরিয়াররা তা হুরিয়ত নেতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই অর্থের উৎস এবং তা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে এই অভিযোগগুলি ED-র বক্তব্য এবং প্রসিকিউশনের মামলার অংশ। বিচার চলাকালীন সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারিত হবে।
২০১৭ সালে শুরু তদন্ত, PMLA-তে অভিযোগ
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৭ সালে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র তদন্ত থেকে। অর্থ পাচারের অভিযোগে ED ওই বছরের ১৪ জুন তাদের এনফোর্সমেন্ট কমপ্লেন্ট নথিভুক্ত করে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ NIA আদালত সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে Prevention of Money Laundering Act (PMLA)-এর অধীনে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নথিভুক্ত তথ্য ও উপাদান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রবল সন্দেহ তৈরি করে। সেই নির্দেশের পর এবার মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ নথিভুক্ত করার পর্যায়ে এগোল বিচারপ্রক্রিয়া।
ইয়াসিন মালিক ছাড়াও অভিযুক্ত কারা?
ইয়াসিন মালিক ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন জহুর আহমদ শাহ ওয়াতালি, শাবির আহমদ শাহ, মাসারত আলম এবং আবদুল রশিদ শেখ। নাভাল কিশোর কাপুর ও Trison Farms and Constructions Pvt Ltd-ও এই মামলায় অভিযুক্ত।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত অর্থের লেনদেন জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপকে আর্থিক সহায়তা জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তার প্রমাণ বিচার চলাকালীন খতিয়ে দেখা হবে।
তিহাড় জেলে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন ইয়াসিন
ইয়াসিন মালিক বর্তমানে দিল্লির তিহাড় জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২২ সালে একটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল।
এবার ৮.৯৪ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যপ্রমাণ নথিভুক্ত করার পর্যায় শুরু হওয়ার কথা।