‘সরকারের ঘুম ভাঙাতে’ মণিপুরে শব্দ বিক্ষোভ, উত্তাল রাজভবন চত্বর
ইম্ফল: গত বেশ কয়েক মাস ধরে চলা জাতিহিংসা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে উত্তপ্ত মণিপুর। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যের পাঁচটি উপত্যকা…
ইম্ফল: গত বেশ কয়েক মাস ধরে চলা জাতিহিংসা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে উত্তপ্ত মণিপুর। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যের পাঁচটি উপত্যকা জেলা জুড়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এক অভিনব ও তীব্র প্রতিবাদে সামিল হলেন। ‘ফেডারেশন অফ হোমেই’ (Federation of Haomee) নামের একটি নাগরিক সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এই ‘সাউন্ড প্রটেস্ট’ বা শব্দ বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে ইম্ফল সহ বিভিন্ন এলাকা। সরকারের কর্ণকুহরে জনগণের ক্ষোভের বার্তা পৌঁছতেই এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত আধ ঘণ্টা ধরে রাজ্যের বিভিন্ন লোকালয়ে চলে এই প্রতিবাদ। ইম্ফলের রাজপথে নেমে বিক্ষোভকারীরা থালা-বাসন ও রান্নার পাত্র বাজান, অনেকে আবার হাতুড়ি দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে আঘাত করেন এবং গাড়ির হর্ন বাজিয়ে তীব্র আওয়াজ তোলেন। পাশাপাশি, বহু মানুষ ড্রাম ও ঢোল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। এক আন্দোলনকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “নেতাদের কানে আমাদের এই যন্ত্রণা পৌঁছে দিতেই আমরা এই শব্দ করছি। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আমরা এতদিন ধরে তাঁদের কাছে আকুতি জানিয়েছি, কিন্তু তাঁরা চোখ বুজে বসে আছেন। সেই কারণেই আজ আমরা এই প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছি।”
কাংলা দুর্গ চত্বরে বিক্ষোভ ও পুলিশের লাঠি-জলকামান
বিক্ষোভের অঙ্গ হিসেবে শুক্রবার রাত সাতটা ৫০ মিনিট থেকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে গোটা ইম্ফল শহরজুড়ে বাড়ির আলো নিভিয়ে অন্ধকার করে রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল মণিপুরের প্রাক্তন রাজবংশের প্রাচীন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘কাংলা’ (Kangla) দুর্গের দিকে মিছিল করে এগোতে থাকে। রাজভবন ও মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক চত্বরের দিকে মিছিল এগোলে প্যালেস কম্পাউন্ড, মৈরাংখোম এবং কেইসামপাত জংশনে পুলিশ বাধা দেয়।
তবে জনস্রোত এতটাই বেশি ছিল যে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শত শত বিক্ষোভকারী কাংলা গেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। রাজভবনের কাছাকাছি জমায়েত হওয়া বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শেষপর্যন্ত বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায়। রাত আটটার পর রাজভবনের আশপাশে কড়া ব্যারিকেড গড়ে তোলে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপ করা হলেও এই বিক্ষোভের জেরে হতাহতের বা বড় কোনো হিংসাত্মক ঘটনার খবর মেলেনি।
শান্তি ফেরানোর দাবিতে নাগরিক সমাজের চাপ
মণিপুরে জাতিগত হিংসা থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে। লাগাতার খুন ও হানাহানি বন্ধ করে দ্রুত শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতেই এদিন নাগরিক সংগঠনের আহ্বানে দলমত নির্বিশেষে পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ইম্ফল উপত্যকার এই স্বতঃস্ফূর্ত শব্দ বিক্ষোভ বুঝিয়ে দিল, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে এবার আরও জোরালোভাবে সোচ্চার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ডিসেম্বর থেকেই এক ধাক্কায় ১৫% ট্যারিফ বাড়াবে জিও-এয়ারটেল, vodafone
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উত্তেজনা! মিলছে না সৌরভ দাসের দিল্লিতে থাকার প্রমান