বিহারে বাড়িতে বাজি বিস্ফোরণে মৃত ৫, সাসপেন্ড থানার ওসি
পটনা: বিহারের (Bihar) সিওয়ান জেলায় বাড়ির ভিতরে মজুত রাখা বাজিতে আগুন লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হল পাঁচ জনের। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন জন, যার…
পটনা: বিহারের (Bihar) সিওয়ান জেলায় বাড়ির ভিতরে মজুত রাখা বাজিতে আগুন লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হল পাঁচ জনের। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন জন, যার মধ্যে দুই নাবালিকাও রয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ আলমপুর গ্রামের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আরও তিন জন সামান্য দগ্ধ হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় স্থানীয় স্তরে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর জামো বাজার থানার ওসি ধীরজ কুমার এবং স্থানীয় চৌকিদার চন্দ্রিকা মাঝিকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন সিওয়ানের পুলিশ সুপার ভারত সোনি।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাড়ির সামনের অংশের ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় ছিটকে পড়ে। বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজ এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতেও সমস্যায় পড়েন উদ্ধারকারীরা।
প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণ, আতঙ্কে গ্রামবাসীরা
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, আলমপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আমিরুদ্দিন মিয়ানের বাড়িতে বাজি মজুত রাখা হয়েছিল। তিনি বাজির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই বাজিতে আগুন লাগার পর একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজ চালানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
সিওয়ানের জেলাশাসক বিজয় প্রকাশ মীনা এবং পুলিশ সুপার ভারত সোনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উদ্ধার ও তদন্তের কাজে মোতায়েন করা হয় দমকল, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে।
মৃতদের মধ্যে দুই নাবালিকা ও প্রতিবেশী বালক
মহারাজগঞ্জের SDPO আমন কুমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বয়সি মহম্মদ আমিরুদ্দিন মিয়ান, তাঁর ১৪ ও ৮ বছরের দুই নাতনি এবং প্রতিবেশী ১০ বছরের এক বালক। পঞ্চম মৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ সুপার ভারত সোনি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় বাড়ির ভিতরে আট জন ছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও গ্রাম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন কোনওভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সামান্য দগ্ধ অবস্থায় তাঁরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।
তবে বাড়ির ভিতরে ঠিক কত জন ছিলেন, তা চিকিৎসক ও তদন্তকারী দলের যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
বাজি তৈরির কাজ চলছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ
সিওয়ানের জেলাশাসক জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে বাজি তৈরির কাজ চলত বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য ছিল। বিস্ফোরণের পর বাড়িতে বাজি মজুত এবং সেখানে বাজি তৈরির সম্ভাব্য কার্যকলাপ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিবারটির বাজি সংক্রান্ত ব্যবসার লাইসেন্স ছিল এবং প্রায় ২০ বছর ধরে তারা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে লাইসেন্সের বৈধতা এবং বাড়িতে বাজি মজুত বা তৈরির কাজ নিয়ম মেনে চলছিল কি না, তা এখনও যাচাই করা হয়নি।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বাজিগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় অনুমতি বৈধ ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কাজ বিধি মেনে চলছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তে বিশেষ পুলিশ দল, এফআইআর দায়ের
বিস্ফোরণের কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে মহারাজগঞ্জের SDPO আমন কুমারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মহারাজগঞ্জের সার্কেল ইনস্পেক্টরকে তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
এলাকায় বাজি সংক্রান্ত লাইসেন্স ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা যাচাই করার নির্দেশ আগে থেকেই আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার। সেই যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হবে।
ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, বাজি মজুতের পরিমাণ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে সেসব বিষয় স্পষ্ট হবে।