ডিসেম্বর থেকেই এক ধাক্কায় ১৫% ট্যারিফ বাড়াবে জিও-এয়ারটেল, vodafone
কলকাতা: ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে আবারও ট্যারিফ বৃদ্ধির (Tariff hike)আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসেম্বর মাসে অপারেটররা মোবাইল ট্যারিফ গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়াতে পারে। অ্যামবিট…
কলকাতা: ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে আবারও ট্যারিফ বৃদ্ধির (Tariff hike)আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসেম্বর মাসে অপারেটররা মোবাইল ট্যারিফ গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়াতে পারে। অ্যামবিট ক্যাপিটালসহ একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের রিচার্জ খরচ বেড়ে যাবে।
ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজার মূলত তিনটি বড় বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রিলায়েন্স জিও, ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়া। (Tariff hike)গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতার কারণে ট্যারিফ তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন শিল্পের রিটার্ন দুর্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অ্যামবিট ক্যাপিটাল তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৬-এ ১৫ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এরপর প্রতি দুই বছর অন্তর ১২ শতাংশ হারে আরও বৃদ্ধি হতে পারে।
আরও দেখুনঃ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উত্তেজনা! মিলছে না সৌরভ দাসের দিল্লিতে থাকার প্রমান
বিশ্লেষকদের মতে, ভোডাফোন আইডিয়ার আর্থিক অবস্থা এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কোম্পানিটিকে টিকে থাকতে হলে গ্রাহকপ্রতি গড় আয় বা এআরপিইউ বাড়াতে হবে। (Tariff hike)বর্তমানে তাদের এআরপিইউ প্রায় ১৭৭ টাকা। লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩০০ টাকার উপরে নিয়ে যাওয়া। জিও এবং এয়ারটেলও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ৫জি বিনিয়োগের খরচ পোষাতে ট্যারিফ বাড়াতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এয়ারটেল সম্প্রতি কিছু এন্ট্রি-লেভেল প্ল্যান সরিয়ে নিয়েছে এবং পোস্টপেইড প্ল্যানের দাম বাড়িয়েছে। জিও তাদের কিছু প্ল্যানে প্রাইম মেম্বারশিপ চালু করেছে, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দাম স্থির রাখে। এসব পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হবে মাসিক রিচার্জ খরচ বেড়ে যাওয়া। যারা ২৮ দিনের প্ল্যান ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা বা তার কাছাকাছি বৃদ্ধি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সব প্ল্যানে সমান হারে বৃদ্ধি নাও হতে পারে। প্রিপেইড ও পোস্টপেইড প্ল্যানের ওপর ভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যারিফ বৃদ্ধি ছাড়া খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। (Tariff hike)গত কয়েক বছরে ৫জি নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। সেই বিনিয়োগের রিটার্ন এখনো পর্যাপ্ত নয়। তাই অপারেটররা দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারও তিনটি বেসরকারি অপারেটরের বাজার কাঠামো বজায় রাখতে চায় বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অনেকেই বলছেন, বারবার ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যবহারকারীরা সস্তা প্ল্যানের ওপর নির্ভরশীল। ট্যারিফ বাড়লে তাঁদের ডিজিটাল সংযোগে প্রভাব পড়তে পারে।
অ্যামবিট ক্যাপিটালের মতো সংস্থাগুলো মনে করছে, এই বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে খাতের রাজস্ব বাড়বে এবং কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে। এয়ারটেলকে তাঁরা শীর্ষ পছন্দ হিসেবে দেখছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো অপারেটর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসেম্বরের ট্যারিফ বৃদ্ধির ঘোষণা করেনি। এটি মূলত বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস।