‘জঙ্গলমহলকে সাজিয়ে তোলা আমার দায়িত্ব,’ মানিকপাড়ার মঞ্চ থেকে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর
ঝাড়গ্রাম/গোপীবল্লভপুর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝাড়গ্রাম সফরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার গোপীবল্লভপুরের মানিকপাড়ায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ…
ঝাড়গ্রাম/গোপীবল্লভপুর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝাড়গ্রাম সফরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার গোপীবল্লভপুরের মানিকপাড়ায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে একাধিক প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়ে যে কথা দিয়েছিলেন, আমি আজ সেই কথা রাখতে এসেছি।”
কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা ও রাজ্য বাজেটের অনুমোদনে বিশেষ জনজাতি শ্রেণির মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার প্রকল্প এদিন চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছে প্রতি সপ্তাহে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং আলিপুরদুয়ার জেলার মানুষ এই সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে শুধু ঝাড়গ্রামে ২৫ হাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। আগামী দিনে সারা রাজ্যেই এই পরিষেবা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি, তফশিলি জাতি ও উপজাতির ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে। হোস্টেলে থাকার ভাতাও ১৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৩০০ টাকা। এদিনের মঞ্চ থেকে লোধা শবর ও বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের হাতে পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, পাট্টা ও চশমা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া আদিবাসী ঋণের মাধ্যমে ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং ঝাড়গ্রামে একটি নতুন আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
জঙ্গলমহলের অতীত ও উন্নয়নের রূপরেখা
জঙ্গলমহলের অতীত রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, একসময় জঙ্গলমহলের মানুষকে মাওবাদী তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সিপিএমের বিরুদ্ধে লাল সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
এলাকার পরিকাঠামো ও পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জঙ্গলমহলের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আগামী ‘জনজাতি গৌরব দিবস’-এ শিলদায় উপস্থিত থাকার ঘোষণা করার পাশাপাশি জেলার সমস্ত ‘লোক প্রসার শিল্পী’র হাতে ভাতার উপহার তুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। জঙ্গলমহলের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আমাকে জঙ্গলমহলের কুটুম বলে ডেকেছেন। তাই জঙ্গলমহলকে সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব আমার।”
বদলের বাংলায় নতুন জীবন পাচ্ছে দার্জিলিঙের হৃদয় শতাব্দীপ্রাচীন ক্যাপিটল হল
বঙ্গোপসাগরে ঘনাচ্ছে নতুন নিম্নচাপ, শক্তি বাড়িয়ে কবে ধেয়ে আসবে ঘূর্ণিঝড়?