চিন সীমান্তে সংঘাত অব্যাহত, ITBP ডিজিপির মন্তব্যের পরেই কেন্দ্রকে আক্রমণ কংগ্রেসের - 24 Ghanta Bangla News
Home

চিন সীমান্তে সংঘাত অব্যাহত, ITBP ডিজিপির মন্তব্যের পরেই কেন্দ্রকে আক্রমণ কংগ্রেসের

Spread the love

নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ভারতীয় ও চিনা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত এবং মুখোমুখি পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর মহানির্দেশক (DG) শত্রুজিৎ কাপুর বৃহস্পতিবার…

নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ভারতীয় ও চিনা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত এবং মুখোমুখি পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর মহানির্দেশক (DG) শত্রুজিৎ কাপুর বৃহস্পতিবার এই কথা স্বীকার করেছেন, যা এই ধরনের সংঘর্ষের প্রথম সরকারি নিশ্চিতকরণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপি জওয়ানদের (যাঁরা ‘হিমবীর’ নামে পরিচিত) উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় শত্রুজিৎ কাপুর জানান যে, এই মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় বাহিনীর ‘শৌর্য কমান্ডো’ (Shaurya Commando) দলগুলি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে। তিনি বলেন, “সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে একাধিক জায়গায় মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনও চলছে। সেখানে আমাদের শৌর্য কমান্ডো টিমগুলি দুর্দান্ত কাজ করেছে।”

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাস থেকেই অরুণাচল প্রদেশে একাধিক ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর সামনে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকালেও এই ধরনের মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত ছিল।

আইটিবিপি প্রধানের এই মন্তব্যের পরই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই সংঘাতের বিষয়ে সরকার এতদিন সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছিল।

জয়রাম রমেশ লেখেন, “২০২০ সালের ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনকে যে কুখ্যাত ক্লিনচিট দিয়েছিলেন, আজ তার চড়া মূল্য চোকাতে হচ্ছে ভারতকে।” তিনি আরও লেখেন, “স্বয়ংঘোষিত বিশ্বগুরুর চিনের প্রতি একপক্ষীয় ছাড় দেওয়ার নীতি যখন অব্যাহত, ঠিক সেই সময়ই আইটিবিপির ডিজিপি অরুণাচল প্রদেশে পিএলএ-র (PLA) সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন (যা অত্যন্ত সঠিক)। অথচ প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।”

ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে আইটিবিপি

চলমান সংঘাতের আবহে বাহিনীর আধুনিকীকরণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে আইটিবিপি। অনুষ্ঠানে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা তুলে ধরে ডিজি শত্রুজিৎ কাপুর জানান, এই প্রযুক্তি প্রথাগত যুদ্ধের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এবং এর ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকাও পরিবর্তিত হচ্ছে।

বাহিনীর প্রতিটি প্লাটুনে একটি করে ড্রোন ইউনিট গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে আইটিবিপির। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে ড্রোন উৎপাদন এবং চালক (Pilots) প্রশিক্ষণের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। পাশাপাশি একটি পৃথক স্ট্রাইক কর্পস গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বাজেট আরও বাড়ার আশা করে আইটিবিপি প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা শুধুমাত্র ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থার জন্য আলাদা করে রাখতে চলেছে।

অল-টেরেন ভেহিকেল (All-terrain vehicles), স্বয়ংক্রিয় গ্রাউন্ড ভেহিকেল এবং কুইক রিঅ্যাকশন ভেহিকেল সংগ্রহের মাধ্যমে গতিশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্রের গোলাবারুদও আধুনিক করা হচ্ছে।

এলএসি বরাবর মাটির নিচে তৈরি হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টার

ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জওয়ান ও সামরিক সম্পদ সুরক্ষায় ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে আইটিবিপি। পাইলট প্রজেক্টের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই সীমান্ত চৌকিগুলিতে (BOPs) বেশ কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ শেল্টার বা আশ্রয়স্থল তৈরি করা হয়েছে। উদীয়মান হুমকিগুলির মোকাবিলায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা এবং পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইটিবিপি প্রধান।

‘অনুপ্রবেশকারীদের ভোট রক্ষা করতেই…’, সিইসি বিরোধিতায় রাহুলকে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের

রাইহান বঢ়ড়া প্রদর্শনীতে সেন্সরশিপ! বিকানের হাউসে ৭৫টি ছবি সরানোর নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *