ডলার কেনায় রেকর্ড আরবিআইয়ের! এই এক মাসে কিনল ৪৩.২৬ বিলিয়ন ডলার
মুম্বই: ডলার কেনার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI Record)। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মাসিক বুলেটিন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগস্টে নিট ৪৩.২৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে RBI। জুলাই মাসে নিট ডলার কেনার পরিমাণ ছিল ১৮.৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে ডলার কেনার পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এই বিপুল ক্রয়ের পিছনে রয়েছে বিশেষ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বা সোয়াপ উইন্ডোর মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ।
অগস্টে ৭৪.৪৭ বিলিয়ন ডলার কিনেছে RBI
RBI-র তথ্য অনুযায়ী, অগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মোট ৭৪.৪৭ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। একই সময়ে বিক্রি করেছে ৩১.২১ বিলিয়ন ডলার। কেনা ও বিক্রির পার্থক্য হিসাব করলে নিট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩.২৬ বিলিয়ন ডলার।
এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল FCNR(B) আমানত, বহির্বাণিজ্যিক ঋণ (External Commercial Borrowings বা ECB) এবং বিদেশি মুদ্রায় নেওয়া অন্যান্য ঋণের জন্য RBI-র চালু করা বিশেষ ছাড়যুক্ত সোয়াপ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাঙ্কগুলি যে ডলার সংগ্রহ করেছিল, তার একটি বড় অংশ সোয়াপ উইন্ডোর মাধ্যমে আবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে ফিরে আসে।
RBI প্রথমে এই সুবিধা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ১৪ অগস্টের মধ্যে ব্যাঙ্কগুলি ৫২.৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করায় সুবিধাটির মেয়াদ এগিয়ে এনে ৩১ অগস্ট করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলারের প্রবাহ RBI-র ক্রয়ের পরিমাণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
FY27-এ ডলার বিক্রেতা থেকে ক্রেতা RBI
গত অর্থবর্ষে ডলার বিক্রির প্রবণতা থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে RBI-র অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসে নিট ডলার বিক্রি করার পর জুনে আবার নিট ক্রেতা হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। জুলাই ও অগস্টে ডলার কেনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
RBI-র হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে অগস্টের শেষ পর্যন্ত নিট ডলার কেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭.৪৩ বিলিয়ন ডলারে। জুলাইয়ের শেষে এই অঙ্ক ছিল ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসে নিট ক্রয়ের পরিমাণে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে।
এর বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে RBI-র মোট নিট ডলার বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫৩.১৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসের নিট ক্রয় গত অর্থবর্ষের বিক্রির প্রায় সমপরিমাণে পৌঁছে গিয়েছে।
ফরওয়ার্ড মার্কেটে নিট শর্ট পজিশন রেকর্ড ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি
ডলার কেনাবেচার পাশাপাশি ফরওয়ার্ড মার্কেটেও RBI-র অবস্থানে বড় পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগস্টের শেষে ফরওয়ার্ড মার্কেটে RBI-র বকেয়া নিট শর্ট ডলার পজিশন বেড়ে রেকর্ড ২০০.০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের শেষে এই পরিমাণ ছিল ১৩৬.৭৭ বিলিয়ন ডলার। এক মাসে বৃদ্ধি প্রায় ৬৩.২৯ বিলিয়ন ডলার।
ফরওয়ার্ড চুক্তিতে নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তারিখে মুদ্রা কেনা বা বিক্রির প্রতিশ্রুতি থাকে। তাই এই বাজারে শর্ট পজিশনের বৃদ্ধি মানেই একই সময়ে স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে, এমন নয়। ভবিষ্যতে মুদ্রা লেনদেনের চুক্তিগত অবস্থান বুঝতে এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ।
এক বছরের কম মেয়াদের ফরওয়ার্ড চুক্তিতে RBI-র শর্ট পজিশন জুলাইয়ের ৪৭.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে অগস্টে ৫৫.১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এক বছরের বেশি মেয়াদের চুক্তিতে এই অবস্থান ৯১.৫৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৭৬.৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
লং পজিশন বাড়ায় স্বল্পমেয়াদি নিট শর্ট পজিশন কমেছে
অগস্টের শেষে RBI-র লং ডলার পজিশনও বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষে যেখানে এই পরিমাণ ছিল ২.৪৩ বিলিয়ন ডলার, অগস্টের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৬ বিলিয়ন ডলারে। এই লং পজিশনগুলির সবকটির মেয়াদ এক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
লং পজিশন সমন্বয় করার পর এক বছরের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া চুক্তিতে RBI-র নিট শর্ট পজিশন জুলাইয়ের প্রায় ৪৫.২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে অগস্টে প্রায় ২৩.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, মোট ফরওয়ার্ড শর্ট পজিশন বাড়লেও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে লং পজিশন সমন্বয়ের পর নিট অবস্থান কমেছে।
টাকার প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হারেও পরিবর্তন
এদিকে, ভারতীয় টাকার প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার বা রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (REER) সেপ্টেম্বর মাসে বেড়ে ৮৯.৩৫ হয়েছে। অগস্টে এই সূচক ছিল ৮৮.৭২।
REER হিসাব করার সময় টাকার নামমাত্র কার্যকর বিনিময় হার বা NEER-এর সঙ্গে ভারতের এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলির মুদ্রাস্ফীতির পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। সাধারণভাবে, REER-এর মান ১০০-এর উপরে থাকলে ভিত্তিবর্ষের তুলনায় সংশ্লিষ্ট মুদ্রার প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের রফতানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে প্রভাব পড়তে পারে।
অগস্টে RBI-র রেকর্ড ডলার কেনা, ফরওয়ার্ড মার্কেটে শর্ট পজিশনের বৃদ্ধি এবং REER-এর পরিবর্তন বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যানের প্রভাব বুঝতে সোয়াপ ব্যবস্থার অর্থপ্রবাহ, ফরওয়ার্ড চুক্তির মেয়াদ এবং টাকার বিনিময় হারের পরবর্তী গতিবিধি একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business