চলতি বছরেই সৌদি থেকে বাংলাদেশে ফিরল গর্ভবতী ৯৭৯ যৌ*নদাসী - 24 Ghanta Bangla News
Home

চলতি বছরেই সৌদি থেকে বাংলাদেশে ফিরল গর্ভবতী ৯৭৯ যৌ*নদাসী

Spread the love

ঢাকা: সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া বাংলাদেশি (Bangladeshi )নারীদের অনেকেই গুরুতর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। এই বাস্তবতা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠন…

ঢাকা: সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া বাংলাদেশি (Bangladeshi )নারীদের অনেকেই গুরুতর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। এই বাস্তবতা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হলেও সমস্যা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি নারী সৌদি আরবসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যান। দারিদ্র্য, পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ এবং উন্নত জীবনের আশা তাদের এই পথে ঠেলে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের মাধ্যমে তারা যান। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা অনেকের জন্যই ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

আরও দেখুনঃ বাংলাদেশে দুর্গাপুজোয় ব্যাপক নিরাপত্তা! সংখ্যালঘুদের শুভেচ্ছা তারেকের

২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে বিদেশ থেকে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের মধ্যে সৌদি আরব থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যা ফিরেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের কল্যাণ ডেস্কে নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯৭৯ জন নারী সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন।

অনেকেই নির্যাতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ, বেতন না পাওয়া এবং মানসিক-শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার নারী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। কিছু নারী গর্ভবতী অবস্থায় ফিরেছেন এবং তারা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন।

ফিরে আসা নারীরা অনেক সময় জানান, নিয়োগকর্তার বাড়িতে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়, বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হয় না এবং দিন-রাত অতিরিক্ত কাজ করানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগও উঠেছে। কাফালা ব্যবস্থার কারণে গৃহকর্মীরা নিয়োগকর্তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা তাদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অনেকেই সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে অভিযোগ করতে চান না।

এই সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, কাঠামোগতও। (Bangladeshi)বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চুক্তি ও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন। অনেক নারী দূতাবাসের সেফ হাউজে আশ্রয় নেন বা পুলিশের কাছে সাহায্য চান। দেশে ফিরে এসেও তারা মানসিক আঘাত, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিক্রুটিং প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নজরদারি, প্রাক-প্রস্থান প্রশিক্ষণ, দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকা এবং ফিরে আসা নারীদের জন্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা জরুরি। শুধু নারীদের বিদেশে পাঠানো নয়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে নিয়োগকারী দেশগুলোতে শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *