ঘোষ গ্রামের ১৫০০ বছরের Lakshmi Puja-র অজানা কাহিনি। Ei Samay
কী করে হলো পুজোর শুরু?
জনশ্রুতি, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সাধক কামদেব ব্রহ্মচারী দেবীর সাধনার উপযুক্ত স্থান খুঁজতে খুঁজতে বীরভূমের রাঢ় অঞ্চলে এসে পৌঁছন। একচক্রধাম বীরচন্দ্রপুরে কিছুদিন থাকার পর ভরা বর্ষায় নদী পেরিয়ে তিনি ঘোষ গ্রামে আসেন। ক্লান্ত হয়ে এক নিমগাছের তলায় আশ্রয় নেন। কথিত, পরে সেই গাছের তলাতেই তিনি সাধনা শুরু করেন। দীর্ঘদিনের কঠোর সাধনার পর একদিন স্বপ্নে দেবী লক্ষ্মীর দর্শন পান তিনি। দেবী তাঁকে সেই স্থানেই নিজের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করার নির্দেশ দেন।
শ্বেতপদ্ম ও কাঠের মূর্তির কাহিনি
দেবীর আরাধনা শুরু করার জন্য সাধককে সাহায্য করেন গ্রামের এক কৃষক, সজল ঘোষ। কথিত, একদিন পুকুরে ভাসতে থাকা একটি শ্বেতপদ্ম তুলতে গিয়ে কৃষক বার বার ব্যর্থ হন। পরে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি সাধক কামদেব ব্রহ্মচারীর কাছে পৌঁছন। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দু’জনে মিলে পুকুর থেকে ওই শ্বেতপদ্ম ও একটি ভাসমান কাঠখণ্ড সংগ্রহ করেন। সেই কাঠে গঙ্গামাটি লাগিয়ে দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি তৈরি করে পুজো শুরু করেন সাধক।
পরবর্তীকালে এই পুজোর কথা জানতে পেরে মুর্শিদাবাদের কান্দির রাজা গ্রামে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সেই থেকেই গ্রামের মানুষের কাছে দেবী লক্ষ্মী হয়ে ওঠেন সর্বজনীন আরাধ্যা। আজও কোজাগরী পূর্ণিমায় মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমে। পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ নবঘটের আরাধনা। ন’টি ঘটে জল ভরে পুজো করা হয়। সে দিন সকাল থেকেই বিশেষ পুজো হয়, রাতে হয় মহাযজ্ঞ। ১০৮টি ক্ষীরের নাডু আহুতি দেওয়া হয় যজ্ঞে।