এনআইএ-র মামলায় নতুন মোড়! আমেরিকা থেকে ফিরে আদালতে ম্যাথু ভ্যানডাইক
নয়াদিল্লি: মায়ানমার ট্রেনিং ক্যাম্প মামলায় অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক(Matthew VanDyke) আজ দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্টে হাজির হয়েছেন। তিনি সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছেন।…
নয়াদিল্লি: মায়ানমার ট্রেনিং ক্যাম্প মামলায় অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক(Matthew VanDyke) আজ দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্টে হাজির হয়েছেন। তিনি সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছেন। গত মাসে আদালত তাঁকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য এক মাসের জন্য আমেরিকায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। সেই শর্ত অনুযায়ী তিনি ভারতে ফিরে এসেছেন এবং নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। এই ঘটনা মামলাটির নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্চ মাসের ১৩ তারিখে কলকাতা বিমানবন্দরে আটক হন ম্যাথু ভ্যানডাইক (Matthew VanDyke)। একইদিন দিল্লি ও লখনউ বিমানবন্দরে আটক হন ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিক। তাঁরা হলেন হুরবা পেত্রো, তারাস স্লিভ্যাক, ইভান সুকম্যানভস্কি, মারিয়ান স্টেফানকিভ, মাকসিম হনচারুক এবং ভিক্তর কামিনস্কি। জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তাঁদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে।
অভিযোগ ছিল, তাঁরা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরামের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে প্রবেশ করে ভিক্টোরিয়া ক্যাম্পে ড্রোন অপারেশন, অ্যাসেম্বলি ও জ্যামিং প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেন। এই গোষ্ঠীগুলো মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে দাবি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে এনআইএ যে চার্জশিট দাখিল করে, তাতে শুধু ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ ও ২৩ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ইউএপিএ ধারাগুলো বাদ দেওয়া হয়, যদিও সংস্থা জানায় যে এই বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। (Matthew VanDyke)এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর বিশেষ এনআইএ জজ প্রশান্ত শর্মা ডিফল্ট জামিন মঞ্জুর করেন। ম্যাথুকে এক লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও সমপরিমাণ জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত নির্দেশ দেয় যে তিনি দিল্লিতে থাকবেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার ডাকে সাড়া দেবেন।
জামিন পাওয়ার পর তিনি ইমিগ্রেশন লঙ্ঘনের জন্য এফআরআরও-কে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেন যাতে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আমেরিকা যেতে পারেন।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আদালত তাঁকে এবং ছয়জন ইউক্রেনীয়কে এক মাসের জন্য নিজ নিজ দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়। শর্ত ছিল, এক মাস শেষে ভারতে ফিরে আসতে হবে এবং ফিরে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। পাসপোর্টও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সেই শর্ত মেনে ম্যাথু ভ্যানডাইক আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছেন এবং আজ রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্টে হাজির হয়েছেন। (Matthew VanDyke)আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ফিরে আসার পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। অন্যদিকে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিক এখনও ভারতে ফেরেননি বলে জানা গেছে। তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে আদালত পরে সিদ্ধান্ত নেবে।
ম্যাথু ভ্যানডাইক (Matthew VanDyke)একজন পরিচিত মুখ। তিনি নিজেকে স্বাধীনতা যোদ্ধা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলে পরিচয় দেন। লিবিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতে তাঁর অংশগ্রহণের কথা আগেও প্রচারিত হয়েছে। তাঁর সংস্থা সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করে বলে দাবি করা হয়। এই মামলায় এনআইএ অভিযোগ করেছিল যে তাঁরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে মায়ানমারে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তবে চার্জশিটে ইউএপিএ না থাকায় মামলার চরিত্র বদলে গেছে। এখন এটি মূলত ইমিগ্রেশন লঙ্ঘনের মামলা হিসেবে চলছে। এনআইএ জানিয়েছে যে ইউএপিএ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। আদালতে আজকের শুনানিতে ম্যাথুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যে তিনি আদালতের শর্ত মানছেন।