‘শান্তি বজায় রাখব, তবে প্রতিবাদ চলবে’, তিহাড় থেকে মুক্তি পেয়ে হুঙ্কার দুই আরশোলা নেতার - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘শান্তি বজায় রাখব, তবে প্রতিবাদ চলবে’, তিহাড় থেকে মুক্তি পেয়ে হুঙ্কার দুই আরশোলা নেতার

Spread the love

নয়াদিল্লি: শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লিখিত অঙ্গীকার, সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদার। এই শর্তে বুধবার, ২১ অক্টোবর তিহাড় জেল থেকে মুক্তি…

নয়াদিল্লি: শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লিখিত অঙ্গীকার, সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদার। এই শর্তে বুধবার, ২১ অক্টোবর তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেলেন কক্‌রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই কর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের শর্ত অনুযায়ী, আইন মেনে চলতে হবে এবং বিক্ষোভের জন্য যন্তর মন্তর এলাকাটি নিষিদ্ধ থাকাকালীন সেখানে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যাবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই কর্মীর লিখিত অঙ্গীকার ও শান্তি বজায় রাখার বন্ড যথেষ্ট। তাঁদের ফের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেছে আদালত। পাশাপাশি, পরবর্তী শুনানি বা মামলার কাজে যখনই তলব করা হবে, তখনই SEM আদালতে হাজির হতে হবে তাঁদের। বন্ডে উল্লেখিত শর্ত এবং স্বেচ্ছায় দেওয়া অঙ্গীকারও মেনে চলতে হবে।

দুই কর্মী বিচারব্যবস্থা ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। SEM আদালতের প্রতিও তাঁদের আস্থার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, সংবিধানের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

১৩ অক্টোবর গ্রেফতার, দফায় দফায় বাড়ে হেফাজত

যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৪ অক্টোবর তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে ১৯ অক্টোবর আরও দু’দিনের জন্য হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার তাঁদের ফের হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল বলে জানান তাঁদের আইনজীবী।

তবে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁদের জামিনদারদের নথি গ্রহণ করে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে CJP শিবিরে। যদিও মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া এখনও বাকি।

মুক্তিতে স্বস্তি CJP-র, আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত

দলের আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, মুক্তি পেতে দেরি হলেও শেষ পর্যন্ত দুই কর্মী জেলের বাইরে এসেছেন। তাঁর কথায়, এই মুক্তি প্রয়োজনীয় ছিল এবং দলের সদস্যরা সিদ্ধান্তে খুশি।

রত্না জানান, আদালতের নির্দেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিলিপি তখনও তাঁদের আইনি দলের হাতে এসে পৌঁছয়নি। তাই নির্দেশের সমস্ত শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি তিনি।

দুই কর্মীর বয়স নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের আগের শুনানিতে করা মৌখিক পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দেন CJP-র এই নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, সৌরভ দাসের বয়স ২৭ বছর এবং তিনি জেন-জি প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। আশুতোষ রাঙ্কাও সেই প্রজন্মের কাছাকাছি বয়সের। তরুণদের দাবি ও সমস্যার সঙ্গে দল একাত্ম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘আইন ভাঙার উদ্দেশ্য ছিল না’, দাবি আইনজীবীর

দুই কর্মীর পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবী অভীক চিমনি জানান, ১৯ অক্টোবর তাঁদের দু’দিনের হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে আরও হেফাজতের আবেদন করা হয়। কিন্তু সেই আবেদনের পক্ষে দেখানো কারণগুলি যথেষ্ট নয় বলে আদালতে যুক্তি দেন তাঁরা।

অভীক চিমনির বক্তব্য, আদালত তাঁদের যুক্তি শোনার পর জামিনদারদের নথি চায় এবং তার ভিত্তিতেই মুক্তির নির্দেশ দেয়। তবে নির্দেশের কপি হাতে না পাওয়ায় শর্তগুলির সম্পূর্ণ বিবরণ তিনি তখনই জানাতে পারেননি।

আইনজীবী আরও বলেন, দুই কর্মী শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, আইন ভাঙার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না।

জেল থেকে বেরিয়েই প্রতিবাদের বার্তা

তিহাড় জেল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে সৌরভ দাসকে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, আশুতোষ রাঙ্কা স্লোগান দেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। এরপর দু’জন গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে যান।

মুক্তির পর তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর, শান্তি ও আইন মেনে চলার অঙ্গীকার থাকলেও প্রতিবাদের অধিকার ছাড়তে রাজি নন তাঁরা। তবে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় সেখানে কোনও কর্মসূচি করা যাবে না। ফলে আগামী দিনে CJP কীভাবে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *