‘হিন্দু দেবদেবীদের ঈশ্বর বলে মানিনা!’ ঘোষণা সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্রের
সমাজবাদী পার্টির জাতীয় মুখপাত্র রাজকুমার ভাটির (Rajkumar Bhati)এক বক্তব্য ও শপথ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির রানি ঝাঁসি রোডে অবস্থিত আম্বেদকর ভবনে…
সমাজবাদী পার্টির জাতীয় মুখপাত্র রাজকুমার ভাটির (Rajkumar Bhati)এক বক্তব্য ও শপথ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির রানি ঝাঁসি রোডে অবস্থিত আম্বেদকর ভবনে ভারতীয় বৌদ্ধ মহাসভা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এবং উপস্থিত অন্যরা একসঙ্গে শপথ নেন।
শপথে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ, রাম, কৃষ্ণ, গৌরী, গণপতিসহ হিন্দু দেবদেবীদের তিনি ঈশ্বর বলে মানেন না এবং তাঁদের পূজাও করবেন না। ভগবানের অবতারত্বের ধারণা এবং বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার মানা এসবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ‘শকিং অ্যান্ড শেমফুল’ বলে চিহ্নিত করে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন।
আরও দেখুনঃ বিসর্জনের আগে কদমতলা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ভিডিও সামনে আসার পর বিজেপি সমর্থক ও হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, সমাজবাদী পার্টির জাতীয় মুখপাত্র যদি এমন অবস্থান নেন, তাহলে কি এটাই দলের মূল চিন্তাধারা? অখিলেশ যাদবের দলকে হিন্দু দেবদেবী বর্জনের প্রচার চালানোর অভিযোগও করা হচ্ছে।
অনেকে বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ায়। উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এ নিয়ে আলোচনা চলছে। আগেও ভাটির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে এফআইআর হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন ঘটনা আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
রাজকুমার ভাটি নিজে অবশ্য স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন। (Rajkumar Bhati)তিনি বলেছেন, তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেননি এবং করার কোনো ইচ্ছাও নেই। বৌদ্ধ ধর্ম ও গৌতম বুদ্ধের শিক্ষার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বাবাসাহেব আম্বেদকরের চিন্তাধারাও তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু ধর্ম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না।
তিনি দাবি করেছেন, বিজেপির আইটি সেল এবং কিছু চরমপন্থী মহল তাঁর বিরুদ্ধে দুষ্প্রচার চালাচ্ছে। সত্যিকারের সমাজবাদী হিসেবে তিনি সব ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়কে সম্মান করেন বলেও দাবি করেছেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি যোগ দিয়েছিলেন এবং সেখানকার শপথে অংশ নিয়েছিলেন।
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নীরব থাকায় সমালোচকরা আরও চাপ বাড়াচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, একজন জাতীয় মুখপাত্রের এমন বক্তব্য দলের অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে।
অন্যদিকে ভাটির সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত এবং এটাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো ঠিক নয়। (Rajkumar Bhati)বৌদ্ধ মতাদর্শ ও আম্বেদকরের চিন্তার প্রতি আকর্ষণ অনেকের মধ্যেই দেখা যায়, কিন্তু দেবদেবীকে অস্বীকার করার শপথকে অনেকে অপ্রয়োজনীয় উসকানিমূলক বলে মনে করছেন।
ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ বিশ্বাস করেন, কেউ করেন না এটা তাঁর অধিকার। কিন্তু যখন একজন রাজনৈতিক নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে এভাবে শপথ নেন এবং সেটা প্রকাশ্যে প্রচারিত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজে এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিষয় সহজেই মেরুকরণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে যেখানে ধর্ম ও জাতির রাজনীতি গভীরভাবে প্রোথিত, সেখানে এমন বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।