রেকর্ড ভাঙছে সমুদ্রের উষ্ণতা! ভয়ংকর এল নিনোর দাপটের আশঙ্কায় আবহাওয়াবিদরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

রেকর্ড ভাঙছে সমুদ্রের উষ্ণতা! ভয়ংকর এল নিনোর দাপটের আশঙ্কায় আবহাওয়াবিদরা

Spread the love

কলকাতা: প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে গোটা বিশ্বের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট…

কলকাতা: প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে গোটা বিশ্বের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ‘ক্লাইমেট রিয়ানালইজার’ (Climate Reanalyser)-এর সাম্প্রতিক প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিনো ৩.৪ (Nino 3.4) অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সালের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ৩.৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। দৈনিক তাপমাত্রার নিরিখে এটি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে একটি নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। আর এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার ফলেই ২০২৬-২৭ সালের আসন্ন এল নিনোর তীব্রতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলটি এল নিনো (El Nino) এবং লা নিনা (La Nina) পরিস্থিতির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে উঠলে তা সরাসরি বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং চরম আবহাওয়ার ধরনে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা নোয়া (NOAA)-এর ‘অপটিমাম ইন্টারপোলেশন সি সারফেস টেম্পারেচার ডেটাসেট’ (OISST V2.1)-এর চার্ট অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে নিনো ৩.৪ অঞ্চলের দৈনিক তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

কী এই এল নিনো এবং এর পূর্বাভাস?

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে গেলে এবং তার সঙ্গে ক্রান্তীয় বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনে পরিবর্তন ঘটলে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একটি শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। নোয়া (NOAA)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাসিক নিনো ৩.৪ তাপমাত্রার বিচ্যুতি ইতিমধ্যেই +২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পরিস্থিতি অতি শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, দৈনিক তাপমাত্রার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত +৩.৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিচ্যুতির এই খতিয়ানকে সরকারি সাপ্তাহিক বা মাসিক সূচকের সঙ্গে সরাসরি মেলানো যায় না এবং আনুষ্ঠানিক রেকর্ড হিসেবে গণ্য হওয়ার আগে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

ভারতের আবহাওয়ায় এর সম্ভাব্য প্রভাব

একটি শক্তিশালী এল নিনো ভারতের সামগ্রিক আবহাওয়া, বর্ষার বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার ধরনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার কিছু অংশেও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার কেবল একটি একক পরিমাপ বা প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতের আবহাওয়ায় এর চূড়ান্ত প্রভাব কেমন হবে, তার সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

রেকর্ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে! বড় ইঙ্গিত ট্রাম্প ও মার্কো রুবিওর

ধ্রুব রাঠির বিক্ষোভ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানিরা কেন! উঠছে ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *