ভারতে ৪,০০০ কোটি বিনিয়োগ Stellantis-এর, আসছে ১২টি নতুন গাড়ি
নয়াদিল্লি: ভারতে গাড়ি তৈরির সময় প্রায় অর্ধেক করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে Stellantis। Citroën ও Jeep ব্র্যান্ডের অধীনে আগামী কয়েক বছরে ১২টি নতুন বা আপডেটেড পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে গাড়ির যন্ত্রাংশের স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। Stellantis India-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও শৈলেশ হাজেলা জানিয়েছেন, নতুন গাড়ি তৈরি ও বাজারে আনার সময়সীমা ৪৮ মাস থেকে কমিয়ে প্রায় ২৪ মাসে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
সংস্থার FaSTLAne 2030 রোডম্যাপের অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরে ভারতে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণাও করেছে Stellantis India। এই অর্থ মূলত নতুন পণ্য, স্থানীয় উৎপাদন এবং গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা হবে। ফলে ভারতীয় বাজারে Citroën ও Jeep-এর উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও এখান থেকে গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
৪৮ মাসের কাজ ২৪ মাসে শেষ করার লক্ষ্য
সংবাদ সংস্থা PTI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শৈলেশ হাজেলা জানান, বিশ্বজুড়ে Stellantis নতুন গাড়ির উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। আগে একটি নতুন পণ্য বাজারে আনার প্রস্তুতিতে প্রায় ৪৮ মাস লাগলে, সেই সময় কমিয়ে প্রায় দুই বছর বা ২৪ মাসে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে নতুন মডেল বাজারে আনতে সংস্থার সময় কম লাগবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল গাড়ির বাজারে নতুন প্রযুক্তি ও গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতেও সুবিধা হতে পারে। তবে এটি সংস্থার ঘোষিত লক্ষ্য, ইতিমধ্যে সব মডেলের ক্ষেত্রে অর্জিত ফলাফল নয়।
বিশ্বজুড়ে গাড়ি তৈরিতে ভারতের প্রযুক্তি কেন্দ্রের ভূমিকা
Stellantis-এর বেঙ্গালুরুতে একটি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি কেন্দ্র রয়েছে। হাজেলার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্রটি সংস্থার বিশ্বব্যাপী চারটি বড় প্রযুক্তি কেন্দ্রের অন্যতম। এখানকার দল শুধু Jeep ও Citroën-এর ভারতীয় মডেল নিয়ে কাজ করে না, আন্তর্জাতিক বাজারের গাড়ি উন্নয়নেও যুক্ত থাকে।
নতুন গাড়ি তৈরির সময় কমানোর যে লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে নেওয়া হয়েছে, ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্রও সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে ভারতীয় প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা সংস্থার আন্তর্জাতিক পণ্য উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
Tata Motors-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন গাড়ি
ভারতে গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে Tata Motors Passenger Vehicles-এর সঙ্গে Stellantis-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই সংস্থার মধ্যে Fiat India Automobiles Private Limited নামে ৫০:৫০ যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। সম্প্রতি এই অংশীদারিত্বকে উন্নত প্রযুক্তি ও পণ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত করার জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই সংস্থা যৌথভাবে এমন গাড়ি তৈরি করবে, যেগুলি বিশ্বের ৫০টিরও বেশি বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে। উৎপাদন হবে ভারতে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভারত শুধু দেশীয় বাজারের জন্য গাড়ি তৈরির কেন্দ্র হিসেবেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
Citroën-এ ৯০-৯৫%, Jeep-এ ৭০-৭৫% স্থানীয় যন্ত্রাংশ
গাড়ির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো Stellantis India-র অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শৈলেশ হাজেলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে Citroën-এর মডেলগুলিতে স্থানীয় উপাদানের ব্যবহার বর্তমানে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ। Jeep-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ।
সংস্থার লক্ষ্য, স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে বিভিন্ন পণ্যে ৯০ শতাংশের বেশি স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করা। এর ফলে আমদানি করা যন্ত্রাংশের উপর নির্ভরতা কমানো এবং বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী গাড়ির দাম নির্ধারণ করা সহজ হতে পারে।
তবে স্থানীয় উপাদানের অনুপাত বাড়লেই গাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কমবে, এমন নয়। উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের দাম, মুদ্রার বিনিময় হার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয়ও চূড়ান্ত মূল্যে প্রভাব ফেলে।
তিন বছরে ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, আসছে ১২টি পণ্য
Stellantis India আগামী তিন বছরে ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। Citroën ও Jeep ব্র্যান্ড মিলিয়ে মোট ১২টি পণ্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি নতুন মডেল হবে বলে জানানো হয়েছে। বাকি পণ্যগুলির ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন করা হবে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে ভারতে Jeep-এর চারটি মডেল রয়েছে: Compass, Wrangler, Meridian এবং Grand Cherokee। অন্যদিকে Citroën-এর তালিকায় রয়েছে C3, BasaltX, AircrossX এবং C5 Aircross।
নতুন পণ্যগুলির মধ্যে Jeep চারটি মডেল আনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে B, C ও D সেগমেন্টের একটি করে SUV এবং D সেগমেন্টের একটি পিকআপ থাকবে। Citroën আনবে তিনটি নতুন মডেল: C সেগমেন্টের SUV, D সেগমেন্টের MPV এবং A সেগমেন্টের একটি গাড়ি।
ভারতীয় গাড়ির বাজারে কী বদল আসতে পারে?
নতুন মডেল, স্থানীয় উৎপাদন এবং গাড়ি তৈরির সময় কমানোর পরিকল্পনা Stellantis-এর ভারতীয় ব্যবসাকে নতুন গতি দেওয়ার চেষ্টা। দ্রুত নতুন পণ্য বাজারে আনতে পারলে সংস্থাটি বিভিন্ন ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী গাড়ির পরিসর বাড়াতে পারবে। অন্যদিকে, Tata Motors-এর সঙ্গে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সহযোগিতা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনার বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে নতুন মডেলগুলির লঞ্চের সময়সূচি, দাম, স্থানীয় যন্ত্রাংশের ব্যবহার এবং বাজারে বিক্রির ফলাফল সামনে এলে। আপাতত ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ১২টি পণ্য আনার পরিকল্পনাই Stellantis India-র পরবর্তী পর্যায়ের সম্প্রসারণের মূল ভিত্তি।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business