চুমু খাওয়ায় সৌদিতে বাঙালি দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, কলকাতার ‘চুমু-বিপ্লবী’রা চুপ
কলকাতা: মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে চুমু। ভালোবাসার চিহ্ন (Kiss Of Love)। সৌদি আরবে সেই ঘটনা জন্য় কল্লা গেল বাঙালি দম্পতির। এ নিয়ে কমরেডদের মুখে টু শব্দ নেই।…
কলকাতা: মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে চুমু। ভালোবাসার চিহ্ন (Kiss Of Love)। সৌদি আরবে সেই ঘটনা জন্য় কল্লা গেল বাঙালি দম্পতির। এ নিয়ে কমরেডদের মুখে টু শব্দ নেই। অথচ এরাই একসময় প্রকাশ্যে চুমু খেয়ে বিপ্লব করেছিল। কেরলের ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুরে হয়েছিল চুমু আন্দোলন। প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে হয়েছিল চুমু খাওয়া। একই ব্যক্তি একাধিকজনকে চুমু খেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
মাস চারেক আগে মক্কায় গিয়েছিল বাংলাদেশি দম্পতি। মধুচন্দ্রিমার সঙ্গে হজযাত্রা। সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে স্ত্রী সুইটিকে চুমু দিয়েছিল নজরুল ইসলাম। সেই ছবি ভাইরাল করে এক পাকিস্তানি। এর জেরে সেই বাংলাদেশি দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সে দেশের আদালত। গলা কেটে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ কার্যকর করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে সোশাল মিডিয়া তোলপাড়। এ নিয়ে মানব ধর্ম ও মানবতার পক্ষে সওয়াল করা বামপন্থীদের মুখে কুলুপ।
ALSO READ | ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে পিছনে ফেলে ২ নম্বরে ভারত
এই ঘটনা মনে করাচ্ছে ১২ বছর আগের ঘটনা। ২০১৪ সালের নভেম্বর। কয়েক মাস আগে মোদী সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। বামপন্থীদের চিড়বিড়ানিও শুরু হয়েছে। এমন সময় কেরলের কোঝিকোড়ের একটি ক্যাফের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে আসে। দেখা যায়, রুফটপ ক্যাফেতে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। জড়িয়ে ধরছেন, চুমুও খাচ্ছেন। এই ঘটনায় সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে বলে দাবি তুলে সেই ক্যাফেতে ভাঙচুর চালায় বিজেপির যুব সংগঠন। প্রতিবাদে কলকাতায় পথে নামে বামেরা।
কে কী খাবে, কী পরবে, কাকে চুমু খাবে তাতে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই- এই স্লোগান তুলে শুরু হয় প্রতিবাদ। যাদবপুরের রাস্তায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া হয়। ক্যামেরার সামনে। একই ব্যক্তি একাধিক জনের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে স্লোগান ওঠে- ‘আমার শরীর, আমার মন। দূর হাঠো রাজশাসন।’ আর রাজশাসন যখন চুমু খাওয়ার জন্য এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিল তখন সেই বিপ্লবীদের দেখা নেই। গলায় স্বর নেই। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট নেই।
ALSO READ | মোদীর ডাকে ফের ভারত সফরে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী! হবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের আলোচনা
অনেকেই বলছেন, ভারতের মতো উদার দেশে অনেক কিছুই করা যায়। তোষণকে নিরপেক্ষতা বলা যায়। সনাতনীরা সংখ্যাগুরু হওয়ায় যা খুশি তাই করতে পারেন অনেকে। ইসলামিক রাষ্ট্রে সেকুলারিজম নেই। সেখানে শুধু শরিয়া। তাই সেকু-মাকুদের চিহ্নও নেই।