২.২২ লক্ষ টাকায় Honda Rebel 300, ই-ক্লাচ সংস্করণে বাড়তি সুবিধা
নয়াদিল্লি: ক্রুজার বাইকের বাজারে হোন্ডা রেবেল ৩০০-এর সম্পূর্ণ কারিগরি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ্যে এসেছে। স্ট্যান্ডার্ড মডেলের পাশাপাশি ই-ক্লাচ সংস্করণেও একই ইঞ্জিন, চ্যাসিস, সাসপেনশন এবং অধিকাংশ ফিচার থাকছে।…
নয়াদিল্লি: ক্রুজার বাইকের বাজারে হোন্ডা রেবেল ৩০০-এর সম্পূর্ণ কারিগরি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ্যে এসেছে। স্ট্যান্ডার্ড মডেলের পাশাপাশি ই-ক্লাচ সংস্করণেও একই ইঞ্জিন, চ্যাসিস, সাসপেনশন এবং অধিকাংশ ফিচার থাকছে। তবে ই-ক্লাচ সংস্করণে রয়েছে হোন্ডার বিশেষ ইলেকট্রনিক ক্লাচ প্রযুক্তি, যা চালককে প্রচলিত ক্লাচ লিভার ব্যবহার না করেও বাইক চালু করা, থামানো এবং গিয়ার পরিবর্তনের সুবিধা দেয়।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড হোন্ডা রেবেল ৩০০-এর এক্স-শোরুম দাম ২.২২ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ই-ক্লাচ সংস্করণটির দাম ২.৬২ লক্ষ টাকা। দুটি মডেলের মধ্যে দামের পার্থক্য ৪০,০০০ টাকা।
২৮৬ সিসির ইঞ্জিন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স
হোন্ডা রেবেল ৩০০-তে রয়েছে ২৮৬.০১ সিসির লিকুইড-কুলড, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৮,০০০ আরপিএমে ২৭.৬ বিএইচপি শক্তি এবং ৬,২৫০ আরপিএমে ২৪.৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স।
স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণে অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ই-ক্লাচ সংস্করণে রয়েছে হোন্ডার ইলেকট্রনিক ক্লাচ প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় বাইক চালু করা, থামানো এবং গিয়ার পরিবর্তনের সময় ক্লাচের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে প্রচলিত গিয়ার লিভার থাকছে, ফলে চালককে গিয়ার পরিবর্তনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে না।
এলইডি হেডল্যাম্প থেকে টিএফটি ডিসপ্লে
ফিচারের তালিকায় রয়েছে এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প এবং টিএফটি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। হোন্ডা রোডসিঙ্ক ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির সাহায্যে স্মার্টফোন সংযোগ করা যাবে। সঙ্গে থাকছে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন এবং ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট।
নিরাপত্তার জন্য দুই সংস্করণেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস রয়েছে। ফলে ব্রেক করার সময় সামনের ও পিছনের চাকার ব্রেকিং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলবে।
সাসপেনশন ও টায়ারের মাপ
হোন্ডা রেবেল ৩০০-তে সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে দুটি শক অ্যাবজর্বার। বাইকটির সামনের টায়ারের মাপ ১৩০/৯০-১৬ এবং পিছনের টায়ারের মাপ ১৫০/৮০-১৬।
ক্রুজার ডিজাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাইকটিতে ১,৫০৬ মিমি লম্বা হুইলবেস রাখা হয়েছে। এর ফলে রাস্তায় স্থিতিশীলতার সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স মাত্র ১২৯ মিমি, যা বড় স্পিড ব্রেকার বা উঁচু রাস্তার বাধা পেরোনোর সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ওজন, আসনের উচ্চতা ও মাত্রা
রেবেল ৩০০-এর আসনের উচ্চতা ৬৯০ মিমি। এই নিচু আসন তুলনামূলক কম উচ্চতার চালকদের জন্য বাইকে ওঠানামা এবং থামার সময় পা মাটিতে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে।
বাইকটির দৈর্ঘ্য ২,২০০ মিমি, প্রস্থ ৮০৮ মিমি এবং উচ্চতা ১,১২৫ মিমি। জ্বালানি ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা ১১.২ লিটার।
ওজনের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কার্ব ওয়েট ১৭৩ কেজি। ই-ক্লাচ সংস্করণটির ওজন ১৭৬ কেজি, অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রযুক্তির কারণে এটি ৩ কেজি ভারী।
হোন্ডা রেবেল ৩০০: দুই সংস্করণের দাম
| সংস্করণ | এক্স-শোরুম দাম | কার্ব ওয়েট |
| স্ট্যান্ডার্ড | ₹২.২২ লক্ষ | ১৭৩ কেজি |
| ই-ক্লাচ | ₹২.৬২ লক্ষ | ১৭৬ কেজি |
দামের হিসাবে ই-ক্লাচ সংস্করণটি ৪০,০০০ টাকা বেশি। যাঁরা প্রচলিত ক্লাচ ব্যবস্থায় স্বচ্ছন্দ, তাঁদের কাছে স্ট্যান্ডার্ড মডেলটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, বারবার গিয়ার পরিবর্তন করতে হয় এমন শহুরে ট্রাফিকে ক্লাচ পরিচালনার ঝামেলা কমাতে ই-ক্লাচ প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে।
হোন্ডা রেবেল ৩০০-র প্রধান আকর্ষণ হল ২৮৬ সিসির ইঞ্জিন, নিচু আসন, ক্রুজার ডিজাইন এবং ই-ক্লাচ প্রযুক্তির বিকল্প। তবে কেনার আগে দাম, ভারতে মডেলটির প্রাপ্যতা এবং নির্দিষ্ট সংস্করণের ফিচার অনুমোদিত ডিলারশিপ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business