২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধৃত টাইগারকে গুলি চালানোয় ৩ অভিযুক্ত, কী ভাবে ধরল পুলিশ? - 24 Ghanta Bangla News
Home

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধৃত টাইগারকে গুলি চালানোয় ৩ অভিযুক্ত, কী ভাবে ধরল পুলিশ?

Spread the love

মুম্বইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল ক্লাব থেকে রবিবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়িতে করে ফিরছিলেন বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ। গাড়ির জানলা দিয়ে বাইরে অপেক্ষায় থাকা অনুরাগীদের দিকে হাত নাড়ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময়ই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাইকে চেপে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তাঁরা। কিন্তু মুম্বই থেকে রাজস্থান, পুলিশের তাড়া এড়িয়ে বেশি দূর যেতে পারলেন না। পরের দিন সকালেই রাজস্থানের কোটা স্টেশন থেকে তিন জনকে আটক করে পুলিশ। হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় তদন্তের পরবর্তী অধ্যায়।

পুলিশের হাতে আসা একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, এক ব্যক্তি দু’হাতে বন্দুক ধরে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। পাশে টুপি পরা আর এক ব্যক্তিকেও গুলি চালাতে দেখা যায়। তৃতীয় জন বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। গুলি চালানোর পরে তিন জন সেই বাইকে চেপেই পালিয়ে যান। ঘটনায় টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির চালক এবং একটি অটোরিকশার চালক আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পরই তদন্তে নামে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে তৈরি করা হয় প্রায় ২০টি বিশেষ দল। তদন্তকারীরা প্রথমে হামলায় ব্যবহৃত বাইকটির খোঁজ করেন। সেটি আন্ধেরি ওয়েস্ট রেলস্টেশনের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। সেখান থেকে পাওয়া সূত্র এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের সাহায্যে অভিযুক্তদের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তাঁরা।

তদন্তের সূত্রেই পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তরা ট্রেনে চেপে রাজস্থানের দিকে যাচ্ছে। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ দ্রুত সেই তথ্য রাজস্থান পুলিশের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এরপর কোটা পুলিশ পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে নজরদারি চালায়। ট্রেনটি কোটা স্টেশনে সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে থামলে সাধারণ কামরা থেকে তিন জনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁরা দিল্লির দিকে যাচ্ছিলেন এবং নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল।

পুলিশের প্রেস নোট অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে দু’জন বিহার ও হরিয়ানার বাসিন্দা। সূত্রের দাবি, হামলা চালানোর জন্য তিন জনকে মোট ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও অবস্থানের তথ্য আদানপ্রদানে Signal এবং Telegram অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। গুলি চালানোর অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। হামলার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, ধৃতদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন স্কোয়াড মামলাটির তদন্ত করছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *