ফের আগুন জ্বলছে মণিপুরে! সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত ৪
ইম্ফল: ফের অশান্তির আগুনে জ্বলছে মণিপুর। (Manipur Violence)নতুন করে হিংসার ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে,…
ইম্ফল: ফের অশান্তির আগুনে জ্বলছে মণিপুর। (Manipur Violence)নতুন করে হিংসার ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষোভে ফেটে পড়া স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে।
সেখানে দেহ রেখে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিচার্জ করতে হয় বলে জানা গিয়েছে। একদিকে প্রাণহানির ঘটনায় শোক, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সব মিলিয়ে মণিপুরের পরিস্থিতি ফের জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ হোয়াটস আপে ইসলাম গ্রহণ-নামাজ পড়ার চাপ! নাগপুরের ল স্কুলে গ্রেফতার অধ্যাপক আফাক
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত রাতে এবং আজ সকালে দুটি পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হিংসার সূত্রপাত। প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে এমন একটি এলাকায় আয়োজিত সংগীতানুষ্ঠানকে ঘিরে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি ক্রমে পাথর ছোড়াছুড়ি এবং গুলিচালনার দিকে গড়ায়। (Manipur Violence)এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের গুলির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে ওই এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলক এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছিলেন কয়েকজন গ্রামবাসী। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র জঙ্গিরা। এই হামলায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে খবর।
এলাকাটির কাছেই মেইতেই-অধ্যুষিত ইম্ফল পূর্ব জেলা এবং কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমানা। ফলে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও ঘটনাটি যথেষ্ট সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই অঞ্চলে কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির উপস্থিতি রয়েছে। তবে হামলার পিছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিহতদের পরিচয়ও সামনে এসেছে। (Manipur Violence)স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশোর সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার ৩৫ বছর বয়সি অরুবাম রোনিল, যাঁকে কোনও কোনও প্রতিবেদনে রোনিন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছেন উয়ুমপোক নংশুম আওয়াং লেইকাই এলাকার ৪৪ বছর বয়সি লাইরেনলাকপাম ইনাওবি এবং উয়ুমপোক মায়াই লেইকাই এলাকার ৩২ বছর বয়সি ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল। তাঁদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরপরই মৃতদের দেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে মিছিল করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন না, এমনকি দৈনন্দিন প্রয়োজনেও বাইরে বেরিয়ে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দেহ রেখে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে ইম্ফলের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এবং শহরের পরিস্থিতি কার্যত অচল হয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এদিকে, হামলার পর খামেনলক এলাকার ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি চালিয়েছে এবং এলাকাটি সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনও সংঘর্ষ না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।