দীপাবলির ৫০০০ টাকার বোনাসে বাইকারদের জন্য ১০টি দরকারি জিনিস
নয়াদিল্লি: দীপাবলিতে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস পেয়েছেন? সেই টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলের জন্য কিনে ফেলতে পারেন বেশ কিছু দরকারি সরঞ্জাম (Motorcycle Accessories)। নিরাপদ রাইডিংয়ের জন্য ভালো হেলমেট, জ্যাকেট ও গ্লাভস থেকে শুরু করে টায়ার ইনফ্লেটর, টুলকিট কিংবা বাইক পরিষ্কারের যন্ত্র, একাধিক বিকল্প রয়েছে এই বাজেটে।
বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত বাইক চালান, তাঁদের কাছে সঠিক রাইডিং গিয়ার ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ শুধু আরামের জন্য নয়, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ৫০০০ টাকার মধ্যে বিবেচনা করতে পারেন এমন ১০টি জিনিসের তালিকা রইল।
১. ভালো মানের হেলমেট
হেলমেট মোটরসাইকেল চালানোর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম। নতুন হেলমেট কেনার সময় মাথার সঙ্গে সঠিক ফিট, আরামদায়ক প্যাডিং এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।
ভারতে ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য আইএসআই সার্টিফিকেশন রয়েছে কি না, নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি ইসিই ২২.০৬ সার্টিফিকেশন থাকলে সেটিও বিবেচনা করতে পারেন।
এই বাজেটে এসএমকে টাইফুন এবং অ্যাক্সর অ্যাপেক্স মডেল দুটি দেখে নিতে পারেন। তবে কেনার আগে নির্দিষ্ট সংস্করণের সার্টিফিকেশন ও বর্তমান দাম যাচাই করুন।
২. রাইডিং জ্যাকেট
দুর্ঘটনার সময় শরীরের উপরের অংশকে সুরক্ষিত রাখতে উপযুক্ত রাইডিং জ্যাকেট গুরুত্বপূর্ণ। জ্যাকেট কেনার সময় কাঁধ, কনুই ও পিঠের সুরক্ষাব্যবস্থা, ঘর্ষণ-প্রতিরোধী উপাদান এবং আরামদায়ক ফিটের দিকে নজর দিন।
৫০০০ টাকার মধ্যে সোলেস থ্রিফট এবং ক্র্যামস্টার ভাইপার মডেল বিবেচনা করতে পারেন। কেনার আগে জ্যাকেটে কোন কোন অংশে আর্মার রয়েছে এবং আপনার রাইডিংয়ের ধরন অনুযায়ী সেটি উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করুন।
৩. রাইডিং গ্লাভস
বাইক চালানোর সময় হ্যান্ডেলবারে ভালো গ্রিপ বজায় রাখতে রাইডিং গ্লাভস সাহায্য করে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সময় হাতের তালু ও আঙুলে আঘাতের ঝুঁকি কমাতেও উপযুক্ত গ্লাভস গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিভাগে ভায়াটেরা হোলশট এবং ক্র্যামস্টার কে২কে মডেল দুটি দেখতে পারেন। কেনার সময় সঠিক মাপ, গ্রিপ, আরাম এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।
৪. রাইডিং প্যান্ট
হেলমেট, জ্যাকেট ও গ্লাভস কেনা হয়ে গেলে পরবর্তী বিনিয়োগ হতে পারে রাইডিং প্যান্ট। সাধারণ জিনসের তুলনায় উপযুক্ত রাইডিং প্যান্টে হাঁটু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
এই বাজেটে টারম্যাক ড্রিফট এবং রাইডা ট্রেলক্রাফট মডেল দুটি বিবেচনা করতে পারেন। কেনার আগে হাঁটুর আর্মার, উপাদানের মান এবং সঠিক ফিট নিশ্চিত করুন।
৫. রাইডিং বুট
সাধারণ জুতো দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত হলেও মোটরসাইকেল চালানোর সময় বিশেষভাবে তৈরি রাইডিং বুট পায়ের আঙুল ও গোড়ালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে।
৫০০০ টাকার মধ্যে রাইডা ট্যুরার বুট এবং টিভিএস রেসিং অ্যান্কল-লেংথ বুট বিবেচনা করতে পারেন। কেনার আগে গোড়ালির সাপোর্ট, সোলের গ্রিপ এবং বাইক চালানোর সময় আরামদায়ক কি না, তা যাচাই করুন।
৬. পোর্টেবল টায়ার ইনফ্লেটর
বাড়িতে বা রাস্তায় বাইকের টায়ারের বাতাস পরীক্ষা এবং প্রয়োজনমতো ভরার জন্য পোর্টেবল টায়ার ইনফ্লেটর খুবই কার্যকর। দীর্ঘ রাইডে যাওয়ার আগে টায়ারের চাপ পরীক্ষা করতেও এটি কাজে আসে।
কেনার সময় সর্বোচ্চ বায়ুচাপ, ব্যাটারি ব্যাকআপ, চার্জিং পদ্ধতি এবং ডিজিটাল প্রেসার গেজ রয়েছে কি না, তা দেখে নিন। আপনার বাইকের টায়ারের জন্য উপযুক্ত ইনফ্লেটর বেছে নেওয়াই ভালো।
৭. প্যাডক স্ট্যান্ড
যাঁরা নিজেরাই বাইকের ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাঁদের জন্য প্যাডক স্ট্যান্ড বেশ কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে বাইকে সেন্টার স্ট্যান্ড না থাকলে পিছনের চাকা মাটি থেকে তুলতে এটি সাহায্য করে।
চাকা তোলা থাকলে চেন পরিষ্কার করা ও লুব্রিকেশন করা তুলনামূলক সহজ হয়। তবে কেনার আগে স্ট্যান্ডটি আপনার বাইকের সুইংআর্মের সঙ্গে মানানসই কি না, নিশ্চিত করুন। ব্যবহার করার সময় বাইককে স্থিতিশীল রাখাও জরুরি।
৮. পোর্টেবল প্রেসার ওয়াশার
বাড়িতে নিজের বাইক পরিষ্কার করতে পোর্টেবল প্রেসার ওয়াশার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বারবার ওয়াশিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে এবং নিজের সুবিধামতো বাইক পরিষ্কার করা যায়।
কেনার আগে জলের চাপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা, বহন করার সহজতা, ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং জলের উৎসের সঙ্গে সংযোগের ব্যবস্থা দেখে নিন। বাইকের চেন, বিয়ারিং ও বৈদ্যুতিক সংযোগের মতো সংবেদনশীল অংশে সরাসরি উচ্চচাপের জল ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
৯. ব্লুটুথ ইন্টারকম
বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে রাইড করলে ব্লুটুথ ইন্টারকম যোগাযোগের কাজে আসতে পারে। কিছু মডেলে ফোনের অডিও শোনার সুবিধাও রয়েছে। এন্ট্রি-লেভেল ইন্টারকমের দাম প্রায় ২০০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে।
এই বিভাগে ইজিয়াস ভি৬ প্রো প্লাস এবং ইজিয়াস কিউ৮ মডেল দুটি বিবেচনা করতে পারেন। কেনার আগে ব্যাটারি ব্যাকআপ, যোগাযোগের পরিসর, জল প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং হেলমেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করুন।
তবে বাইক চালানোর সময় অডিও বা কথোপকথনের কারণে রাস্তার পরিস্থিতি থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
১০. মোটরসাইকেল টুলকিট
বাড়িতে বাইকের ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ সমন্বয়ের কাজে একটি টুলকিট কার্যকর হতে পারে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতের কাছে থাকলে কিছু সাধারণ কাজ নিজেই করা সম্ভব।
টুলকিট কেনার সময় স্প্যানার, সকেট রেঞ্চ, অ্যালেন কি এবং স্ক্রু ড্রাইভারের মতো সরঞ্জাম রয়েছে কি না, তা দেখুন। আপনার মোটরসাইকেলের জন্য প্রয়োজনীয় মাপের টুল রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করুন। তবে জটিল মেরামত বা নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কাজ অভিজ্ঞ মেকানিকের সাহায্যে করাই ভালো।
৫০০০ টাকার বোনাস কীভাবে খরচ করবেন?
বাইক চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার সরঞ্জাম না থাকলে প্রথমে ভালো হেলমেট, রাইডিং গ্লাভস বা উপযুক্ত জ্যাকেট কেনার কথা ভাবুন। প্রাথমিক সরঞ্জাম ইতিমধ্যে থাকলে টায়ার ইনফ্লেটর, টুলকিট কিংবা রাইডিং বুটের মতো জিনিসে বিনিয়োগ করতে পারেন।
তালিকায় থাকা সব জিনিস একসঙ্গে ৫০০০ টাকার মধ্যে কেনা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি জিনিস বেছে নিন। কেনার আগে পণ্যের বর্তমান দাম, সার্টিফিকেশন এবং বিক্রেতার শর্ত যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business