‘এমন তো কতই হয়!’ চোরবাগান দুর্ঘটনায় ‘বামেদের গুরুঠাকুর’ জ্যোতি বসুর স্মৃতিচারণ তথাগতের
কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনে গতকাল ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।(Tathagata Roy) চরম অব্যবস্থার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন দর্শনার্থী। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতেই তৃণমূল এবং…
কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনে গতকাল ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।(Tathagata Roy) চরম অব্যবস্থার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন দর্শনার্থী। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতেই তৃণমূল এবং বাম আমলের স্মৃতি চারণ করেছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা উচিত নয় কারণ বিগত ২ সরকারের আমলের স্মৃতিও মানুষের মনে এখনও অমলিন।
তিনি লিখেছেন, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মানুষের এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জায়গা নয়। এটি ভবিষ্যতের জন্য উচিত পদক্ষেপ ঠিক করার জায়গা। সব দলের উচিত এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেটা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বাম আমলের কিছু ঘটনার কথা।
আরও দেখুনঃ দিদির রাজত্বে ফিরতে চাই! লন্ডনে ধ্রুব রাঠির বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক বাংলাদেশি যুবক
জ্যোতি বসুর সেই কুখ্যাত মন্তব্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি, (Tathagata Roy)যেখানে বানতলার ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ড বা আনন্দমার্গী হত্যার মত ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছিল। যেখানে জ্যোতি বসু বলেছিলেন ‘এমন তো কতই ঘটে।’ ১৯৮০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পদপিষ্ট হয়ে আটত্রিশজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আজ পর্যন্ত কোনো দলের নেতাকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা বলতে শোনা যায়নি।
তথাগত রায়ের কথায় আরও একটা সতর্কবার্তা ছিল। তিনি বলেছেন, বিরোধী নেতাদের হাউহাউ করে কোনো লাভ নেই। আজ বাদে কাল অন্য কোনো সমস্যা এসে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিকে চাপা দিয়ে দেবে। তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি ঠিকই বলেছেন, দুর্ঘটনাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো উচিত নয়। কেউ আবার মনে করছেন, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাটাও জরুরি।
ঘটনার বিবরণ শুনলে বুক কেঁপে ওঠে। (Tathagata Roy)সন্ধ্যা সাতটা চল্লিশ নাগাদ হঠাৎ বৃষ্টি নামলে মানুষ মণ্ডপের ভিতরে আশ্রয় নিতে ছুটতে থাকেন। প্রস্থান পথ সরু হওয়ায় যারা বেরোচ্ছিলেন তারা আটকে যান। পিছন থেকে চাপ বাড়তে থাকে। অনেকে পড়ে যান, কেউ কেউ পদদলিত হন। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম সাহায্যে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ, দমকল ও চিকিৎসা দল পৌঁছায়। মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। এক যুবক চোখের জলে বলেছেন, মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। মৃতদের পরিবারকে পঁচিশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে। তদন্ত চলছে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। (Tathagata Roy)প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ পুজো দেখতে বেরোন। কিন্তু সরু গলি, অপর্যাপ্ত বহির্গমন পথ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের অভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। তথাগত রায়ের মন্তব্যে সেই পুরনো ক্ষতের কথাই উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, শুধু শোক প্রকাশ করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এমন না ঘটে তার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।