যোগী রাজ্যের দূর্গা মণ্ডপে আরতির সময় ভাঙচুর-পাথর! গ্রেফতার আসগর আলি সহ ৪
লখনউ: উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড় জেলার মানিকপুর থানা এলাকার দেহংগরি (Pratapgarh)জামালপুর গ্রামে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আরতির সময় পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ…
লখনউ: উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড় জেলার মানিকপুর থানা এলাকার দেহংগরি (Pratapgarh)জামালপুর গ্রামে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আরতির সময় পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তরা হলেন আসগর আলি, আফজাল আলি, আফসার আলি, হায়দার আলি এবং সারওয়ার আলি। এই ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।
🚨 SHOCKER from Dahengari Jamalpur, Manikpur, Pratapgarh
Five ARRESTED for STONE-PELTING and vandalizing a Durga Puja pandal during aarti in Pratapgarh, UP.
Arrested accused: Asgar Ali, Afjal Ali, Afser Ali, Haider Ali, and Sarwar Ali. https://t.co/5LEeVWl9Y4
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) October 18, 2026
ঘটনাটি ঘটে ১৬ অক্টোবর রাতে। গ্রামের দুর্গাপুজো মণ্ডপে মায়ের আরতি ও প্রসাদ বিতরণ চলছিল। সে সময় জোরে সাউন্ড বাজানো নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। একপক্ষের অভিযোগ, কিছু লোক এসে গালিগালাজ শুরু করেন এবং পরে লাঠি-ডান্ডা ও ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকেন। মণ্ডপের আশপাশে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেবী প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কলস ফাটানো হয়েছে এবং অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই পুলিশ পৌঁছে যায়।
আরও দেখুনঃ ধ্রুব রাঠির বিক্ষোভ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানিরা কেন! উঠছে ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্ন
অভিযোগকারী অঙ্কিত মিশ্র মানিকপুর থানায় এজাহার দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। কুন্ডা এলাকার সার্কেল অফিসার শিবনারায়ণ বৈস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনা পুজোর মরসুমে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। (Pratapgarh)উত্তর প্রদেশে দুর্গাপুজোকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো বিবাদ মাঝে মাঝে ঘটে। কিন্তু মণ্ডপে সরাসরি পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ গুরুতর। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উৎসবের সময় এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। তাঁরা পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, মামলায় আরও তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
প্রতাপগড়ের এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। কেউ কেউ একে সাম্প্রদায়িক রং দিতে চাইছেন। কিন্তু পুলিশ বলছে, এটি মূলত সাউন্ড নিয়ে বিবাদ থেকে উদ্ভূত। তবুও মণ্ডপে হামলার অভিযোগ উপেক্ষা করার মতো নয়। উৎসবের সময় সবাইকে সংযমী থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
এই ধরনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে ধর্মীয় উৎসবের সময় সতর্কতা কতটা জরুরি। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য বিবাদ এড়ানোর জন্য স্থানীয় কমিটি ও পুলিশের সমন্বয় প্রয়োজন। প্রতাপগড় পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে, যা ইতিবাচক। তবে তদন্তের পুরো সত্য বেরিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
গ্রামের মানুষ এখন চান, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক। (Pratapgarh)পাঁচজনের গ্রেফতার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। আশা করা যায়, দোষীরা যথাযথ শাস্তি পাবেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। দুর্গাপুজোর আনন্দ যাতে কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেদিকেই সবার নজর থাকা উচিত।