ফ্রান্সে লাগামছাড়া বিক্ষোভ! অগ্নিগর্ভ প্যারিস-সহ একাধিক শহর, গ্রেফতার ১২০০-র বেশি
প্যারিস: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে উত্তাল ফ্রান্স। শনিবার দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়।…
প্যারিস: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে উত্তাল ফ্রান্স। শনিবার দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। প্যারিস-সহ একাধিক শহরে আগুন লাগানো, দোকানপাটে লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ১২০০-র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে প্যারিসেই ছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার। যদিও আন্দোলনকারীদের সংগঠকদের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরও বেশি। সংঘর্ষে ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।
প্রথমে স্কুলের পরিস্থিতি এবং কর্মীসংকটের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলন শুরু হলেও পরে তাতে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সদস্যদের একাংশও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
প্যারিসে বিকেলের দিকে মিছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ও দোকানে আগুন লাগানো হয়। প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
বোর্দোয় লুই ভ্যুইতঁর একটি দোকানে লুটপাট চালানো হয় বলে খবর। লিলে অ্যাপলের একটি দোকানেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। লিয়ঁ শহরে পর্যটন দফতরের ঐতিহাসিক ভবনে আগুন লাগে। লিমোজেসের পুরসভা ভবনে আগুনের জেরে ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। গ্রেনোবল, আভিনিয়ঁ, পাউ, মন্টপেলিয়ে এবং ভ্যালঁসেও বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাঁ-এতিয়েনের মেয়র রেজিস জুয়ানিকো জানিয়েছেন, গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক তরুণের হাত উড়ে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্য দিকে, বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নজরদারি সংস্থা অন্তত ২৪টি অভিযোগের তদন্ত করছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা মাক্রোঁর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আগুন লাগানো, লুটপাট এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর বক্তব্য, কয়েকটি গোষ্ঠী হিংসার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের চেষ্টা করছে। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, সরকার শিক্ষা, জনপরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি।
শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে গত ৮ অক্টোবর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ৩ হাজার অতিরিক্ত অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি।
আগামী এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই অশান্তি ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অতি বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মেরিন ল্য পেন। অন্য দিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জঁ-লুক মেলঁশোঁ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বড় ধাক্কা ভারতীয় কর্মীদের! আমেরিকায় কোণঠাসা H-1B ও H-4 ভিসাধারীরা
দিল্লির যন্তর মন্তরের রেশ লন্ডনে! ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে সরব ধ্রুব রাঠি