ধ্রুব রাঠির বিক্ষোভ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানিরা কেন! উঠছে ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্ন
লন্ডন: লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে শনিবার (Dhruv Rathee)যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধ্রুব রাঠির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত…
লন্ডন: লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে শনিবার (Dhruv Rathee)যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধ্রুব রাঠির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদের মূল দাবি ছিল ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। কিন্তু বিক্ষোভের কিছু দৃশ্য দেখে অনেকেই চমকে উঠেছেন। কিছু অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি পতাকা বা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পতাকা জড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভারতের নির্বাচনী পদ্ধতি এবং ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে ভোট চুরির অভিযোগে এই বিক্ষোভ। ধ্রুব রাঠি সেখানে বক্তৃতা দিয়ে বলেছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ চান না তিনি। তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। কংগ্রেস ও এসএফআই-ইউকের মতো সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ সৌদি আরবে হুথি হামলার আতঙ্ক! ভারতীয় নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা
অনেকে কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পতাকা নিয়ে এসেছিলেন। (Dhruv Rathee)কিন্তু তার পাশাপাশি পাকিস্তানি পতাকা দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে কিছু মানুষকে পাকিস্তানি পতাকা জড়ানো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
এই দৃশ্য দেখে অনেকেই বলছেন, ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে হাজির হওয়াটা বিস্ময়কর। একদিকে ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে এমন পতাকা দেখা যাচ্ছে যা ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এই প্রতিবাদ কি সত্যিই শুধু ভারতীয়দের উদ্বেগের প্রতিফলন, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যও কাজ করছে।
ধ্রুব রাঠির সমর্থকরা বলছেন, তিনি শুধু গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলছেন এবং প্রতিবাদে নানা ধরনের মানুষ যোগ দিতে পারে। (Dhruv Rathee)কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাকিস্তানি পতাকার উপস্থিতি সেই প্রতিবাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কেউ কেউ বলছেন, এখন অনেকেই তাকে সাংঘি বা বিজেপির এজেন্ট বলে দাবি করতে পারেন, কিন্তু এই দৃশ্য দেখে সেই অভিযোগও দুর্বল হয়ে পড়ে।
লন্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা গেছে। একদিকে যারা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকা থেকে মানুষ বাদ দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করেন, তাঁরা এই প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, বিদেশে গিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদ এবং সেখানে পাকিস্তানি পতাকার উপস্থিতি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। কাউন্টার প্রটেস্টও হয়েছিল, যেখানে ত্রিবর্ণ পতাকা নিয়ে মোদি সমর্থকরা উপস্থিত হয়েছিলেন।
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রবাসী সমাজে রাজনৈতিক মেরুকরণ কতটা গভীর। ধ্রুব রাঠি আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ইস্যু তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানি পতাকার উপস্থিতি সেই চেষ্টাকে অন্য খাতে নিয়ে গেছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন করছেন, একটি প্রতিবাদ যদি সত্যিই গণতন্ত্রের পক্ষে হয়, তাহলে কেন এমন প্রতীক দেখা যাবে যা ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।