দিদির রাজত্বে ফিরতে চাই! লন্ডনে ধ্রুব রাঠির বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক বাংলাদেশি যুবক
লন্ডন: লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশি যুবক দিলেন ভারতীয় প্রতিবাদে যোগ(Bangladeshi Youth)। এই প্রতিবাদে যোগ দিয়ে নিজের কথা বলতে শুরু করলেন তিনি। তখন চারপাশের পরিবেশ…
লন্ডন: লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশি যুবক দিলেন ভারতীয় প্রতিবাদে যোগ(Bangladeshi Youth)। এই প্রতিবাদে যোগ দিয়ে নিজের কথা বলতে শুরু করলেন তিনি। তখন চারপাশের পরিবেশ হঠাৎ থমকে গেল। দ্রুভ রাঠির আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন দাবিতে। কিন্তু এই যুবকের কথাগুলো সবাইকে চমকে দিল।
প্রশ্নকর্তা যখন জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি তো বাংলাদেশি, ভারতীয় প্রতিবাদে কেন এসেছেন? তিনি স্পষ্ট জবাব দিলেন, হ্যাঁ আমি বাংলাদেশের মানুষ, কিন্তু কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বাস করছিলাম। জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে পরিচালিত এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে আমাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ফ্রান্সে লাগামছাড়া বিক্ষোভ! অগ্নিগর্ভ প্যারিস-সহ একাধিক শহর, গ্রেফতার ১২০০-র বেশি
তার কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা মিশে ছিল। তিনি বললেন, আমি সিজেপিকে সমর্থন করি। (Bangladeshi Youth)ভারতে শাসন পরিবর্তন চাই যাতে আমি আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যেতে পারি। সেখানে তো মমতা দিদির সরকার ছিল, সেখানেই আমি থাকতে চাই। এই কথাগুলো শুনে উপস্থিত অনেকেই একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেন। একজন অভিবাসী হয়ে অন্য দেশের রাজনৈতিক প্রতিবাদে এসে শাসন পরিবর্তনের দাবি তোলা এমন দৃশ্য সহজে দেখা যায় না।
যুবকটি জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকাকালীন তিনি নানা কাজে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এসআইআর নামক যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হলে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
লন্ডনে এসে তিনি এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন এই আশায় যে তার কণ্ঠস্বর আরও দূর পর্যন্ত পৌঁছবে। তিনি দ্রুভ রাঠিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই প্রতিবাদের মাধ্যমেই তিনি বুঝতে পেরেছেন কেন ভারতে বিজেপিকে ভোট দেওয়া উচিত এবং জ্ঞানেশ কুমারকে সমর্থন করা দরকার।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।(Bangladeshi Youth) অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এভাবে অংশ নিতে পারেন? কেউ কেউ বলছেন, এটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসনের গুরুত্বকেই তুলে ধরছে। আবার কেউ মনে করছেন, ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এমন কথা বলা স্বাভাবিক।
লন্ডনের এই প্রতিবাদ মূলত ভারতের কিছু নীতির বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু এই একজন মানুষের উপস্থিতি সেই আলোচনাকে অন্য খাতে নিয়ে গেল। অনেকেই এখন জানতে চাইছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া আসলে কী ছিল এবং কেন এর মাধ্যমে এমন নির্বাসন ঘটল। কেউ কেউ বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি। আবার কেউ মনে করেন, মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি দেখা উচিত।
যুবকটির কথায় আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি সিজেপির সমর্থক। সিজেপি বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে সোচ্চার থাকে। তাদের সমর্থন করে তিনি ভারতে শাসন পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এই কথাগুলো শুনে কেউ কেউ হাসছেন, কেউ গম্ভীর হয়ে যাচ্ছেন। কারণ একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের শাসন পরিবর্তন চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরতে চাইছেন এমন দাবি সত্যিই অস্বাভাবিক।
এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে আজকের দিনে রাজনৈতিক প্রতিবাদ কতটা আন্তর্জাতিক রূপ নিচ্ছে।(Bangladeshi Youth) লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন মানুষ তার ব্যক্তিগত গল্প বলছেন এবং সেই গল্পের সঙ্গে যুক্ত করছেন দুই দেশের রাজনীতি। তিনি বারবার বলেছেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গেই থাকতে চান। সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ তার কাছে প্রিয়। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাকে চলে আসতে হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মন্তব্য আসছে। কেউ বলছেন, এতে করে বিজেপির সমর্থকরা আরও উৎসাহিত হবেন। কেউ আবার বলছেন, এটি প্রমাণ করে যে অভিবাসন নীতি কঠোর করা কতটা জরুরি। আবার কেউ মনে করছেন, ব্যক্তির এই কথাগুলো শুধুই তার ব্যক্তিগত অনুভূতি। যাই হোক, এই ঘটনা একবারেই ভুলে যাওয়ার মতো নয়। এটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সীমান্ত, অভিবাসন, রাজনৈতিক সমর্থন এবং ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে।