এআই নিয়ে ৫ বড় বিপদের সতর্কবার্তা ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার - 24 Ghanta Bangla News
Home

এআই নিয়ে ৫ বড় বিপদের সতর্কবার্তা ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার

Spread the love

নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত প্রসার বিশ্ব অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে একাধিক বড় ঝুঁকি ( AI Risks)। চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া, মানুষের চিন্তাভাবনা ও বিচারক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া, প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে বিপদ, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরকারের রাজস্ব ও ঋণের উপর চাপ, এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে সতর্ক করলেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অনন্ত নাগেশ্বরন। তাঁর বক্তব্য, এআই নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার আগে এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি।

ব্যাংককে এ বছরের পের জ্যাকবসন ফাউন্ডেশন লেকচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগেশ্বরন বলেন, এআই-এর প্রভাব শুধু শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি আয় এবং মানুষের স্বাধীনভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। প্রযুক্তির বিরোধিতা তিনি করছেন না, তবে এমন প্রযুক্তির বিরোধিতা করছেন যা মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। একই সঙ্গে এমন আর্থিক ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন, যা নিজেদের ঝুঁকি আড়াল করে রাখে।

১. এআই কমাতে পারে নতুনদের চাকরি, ভেঙে পড়তে পারে দক্ষ কর্মী তৈরির প্রক্রিয়া

নাগেশ্বরনের মতে, এআই-এর প্রথম বড় বিপদ হল কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া। আগে সংস্থাগুলি নতুন কর্মীদের নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দিত। সেই কর্মীরা নিয়মিত ও প্রাথমিক স্তরের কাজ করে প্রশিক্ষণের খরচের একটা অংশ পুষিয়ে দিতেন। কিন্তু এআই যদি একই কাজ কম খরচে করতে পারে, তাহলে নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে সংস্থাগুলির আগ্রহ কমে যেতে পারে।

তিনি ৪১টি দেশকে নিয়ে করা একটি সমীক্ষার উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব ৩১টি দেশে জুনিয়র কর্মীদের অনুপাত পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে, তার মধ্যে ২৩টি দেশে এই অনুপাত কমেছে। আমেরিকায় এআই-এর প্রভাবে বেশি পরিবর্তিত হতে পারে এমন পেশায় ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সি কর্মীদের কর্মসংস্থান, একই পেশায় বয়স্ক কর্মীদের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমস্যাটি শুধু বর্তমানের চাকরির বাজারে সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থাগুলি নিজেদের খরচ কমাতে নতুন কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিলে ভবিষ্যতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাদারের অভাব তৈরি হতে পারে। কারণ, আজকের জুনিয়র কর্মীরাই আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ। তাঁদের হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ কমে গেলে এআই-এর তৈরি ফলাফল যাচাই করার মতো দক্ষ মানুষের সংখ্যাও কমতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নাগেশ্বরন। কারণ, বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা এই দেশগুলির অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদ। সেই জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলার সুযোগ কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা, দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. এআই-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দুর্বল করতে পারে মানুষের চিন্তাশক্তি

দ্বিতীয় ঝুঁকি হিসেবে নাগেশ্বরন তুলে ধরেছেন মানুষের নিজস্ব চিন্তা, যুক্তি এবং বিচারক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা। পড়াশোনা, লেখালিখি, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো কাজে মানুষ ক্রমশ এআই-এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে নিজেরা শেখার ও সমস্যা সমাধানের অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে তিনি এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। চার মাস ধরে চলা ওই গবেষণায় এআই ব্যবহার করে এবং এআই ছাড়া প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। নাগেশ্বরনের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই-এর উপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রথম সেশনে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী ৮৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী কয়েক মিনিট আগে নিজেদের লেখা প্রবন্ধ থেকে একটি বাক্যও উদ্ধৃত করতে পারেননি বলে গবেষণায় উঠে এসেছিল। গবেষকেরা এই ধরনের সমস্যাকে ‘কগনিটিভ ডেট’ বা চিন্তাশক্তির উপর জমতে থাকা দেনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নাগেশ্বরন স্বীকার করেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে করা হয়েছিল। ফলে এর ফলাফলকে সব মানুষের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তাঁর আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে এআই-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের নিজস্ব চিন্তা করার অভ্যাসকে দুর্বল করে দিতে পারে। চাকরি হারালে নতুন চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন।

এই সমস্যা ব্যক্তিগত স্তর ছাড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রকের মতো প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা, পেশাগত জ্ঞান এবং সিদ্ধান্তের যুক্তি ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়লে সেই জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ভুল সিদ্ধান্তের দায় কার, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

৩. প্রতিযোগিতার চাপে উপেক্ষিত হতে পারে এআই-এর নিরাপত্তা

তৃতীয় ঝুঁকি হল, দ্রুত বাজার দখল এবং ব্যবসায়িক মূল্যায়ন বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এআই সংস্থাগুলি নিরাপত্তার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব নাও দিতে পারে। নাগেশ্বরনের বক্তব্য, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে নির্ধারিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রাখা এবং তার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ঠেকানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

তিনি এআই-এর নিরাপত্তা নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের কিছু পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হলে কিছু মডেল তাদের নির্ধারিত কাজের সীমার বাইরে থাকা সিস্টেমে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছে বলে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল।

নাগেশ্বরনের মতে, এআই সংস্থাগুলির সামনে একটি বড় বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে উন্নয়নের গতি কমালে প্রতিযোগীরা এগিয়ে যেতে পারে। ফলে সংস্থাগুলির বাজারমূল্য ও ব্যবসায়িক অবস্থানের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কোনও একটি সংস্থা নিজের উদ্যোগে উন্নয়নের গতি কমাতে চাইলে বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

২০০৮ সালের বিশ্ব আর্থিক সংকটের আগের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে এই সমস্যার তুলনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যখন দ্রুত সম্প্রসারণে আর্থিক লাভ বেশি থাকে, তখন সংস্থাগুলির পক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই কারণেই এআই-এর নিরাপত্তা পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তি নির্মাতা সংস্থাগুলির হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় বলে মত তাঁর। আন্তর্জাতিক স্তরে এআই নিরাপত্তার মানদণ্ড তৈরির আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

৪. এআই পরিকাঠামোয় বিপুল ঋণ আর্থিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে

চতুর্থ ঝুঁকির কেন্দ্রে রয়েছে এআই চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার, কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ। নাগেশ্বরনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে আমেরিকায় ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো তৈরিতে ১০ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যয় বছরে আমেরিকার মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩.৬ শতাংশের সমান।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চলতি বছরে প্রথমবারের মতো বড় ক্লাউড সংস্থাগুলির মূলধনী ব্যয় তাদের নগদ অর্থ উৎপাদনের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা বাড়বে।

উদাহরণ হিসেবে নাগেশ্বরন মেটার ‘হাইপেরিয়ন’ ডেটা সেন্টার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকল্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ থেকে আসছে এবং সেই বন্ডের দায় মেটার ব্যালান্স শিটে সরাসরি দেখা যায় না।

এআই শিল্পে পারস্পরিক বিনিয়োগের প্রবণতাও তাঁর উদ্বেগের কারণ। বড় ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি এআই সংস্থায় বিনিয়োগ করছে, আবার সেই এআই সংস্থাগুলিই ওই ক্লাউড প্রদানকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং পরিষেবা কিনছে। এই ধরনের আর্থিক সম্পর্কের ফলে বিনিয়োগ ও আয়ের প্রকৃত ঝুঁকি বোঝা কঠিন হতে পারে।

এর পাশাপাশি এআই-নির্ভর শেয়ারে কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের মাধ্যমে ঋণভিত্তিক বিনিয়োগ এবং হেজ ফান্ডগুলির প্রাইম ব্রোকারদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের পর থেকে হেজ ফান্ডগুলির এই ধরনের ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে।

এআই সংস্থাগুলির বাজারমূল্য দ্রুত কমে গেলে বা প্রত্যাশিত আয় না এলে এই পরস্পর সংযুক্ত আর্থিক ঝুঁকি বাজারে বড় ধাক্কা তৈরি করতে পারে। তাই আর্থিক নিয়ন্ত্রকদের শুধু সরাসরি ঋণ নয়, লিজ, ভবিষ্যৎ মূল্যসংক্রান্ত গ্যারান্টি এবং যৌথ উদ্যোগের ঋণের মতো দায়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে বলে মত নাগেশ্বরনের। সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে থাকা এই ঝুঁকিগুলি চিহ্নিত করতে ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি বোর্ডের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।

৫. এআই-এর কারণে চাপে পড়তে পারে সরকারের রাজস্ব ও ঋণের হিসাব

পঞ্চম ঝুঁকি হল সরকারি অর্থব্যবস্থার উপর এআই-এর প্রভাব। নাগেশ্বরনের মতে, এআই প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও সরকার সমস্যায় পড়তে পারে, আবার প্রযুক্তি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও রাজস্ব ও ঋণের উপর চাপ বাড়তে পারে।

তিনি অ্যানথ্রপিকের একটি মডেলিংয়ের চরম পরিস্থিতির উল্লেখ করেন। ওই পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে আমেরিকার অর্থনীতি এক-তৃতীয়াংশ বড় হয়ে উঠলেও জাতীয় আয়ে শ্রমিকদের অংশ প্রায় ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই পরিস্থিতিতে জ্ঞানভিত্তিক পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের বেতনও অন্যথায় যা হতে পারত, তার তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি কম হতে পারে বলে ওই মডেলে দেখানো হয়েছে।

নাগেশ্বরনের যুক্তি, এআই-এর কারণে অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই বৃদ্ধির সুফল যদি শ্রমিকদের বদলে মূলত পুঁজি ও সংস্থার মালিকদের কাছে চলে যায়, তাহলে ব্যক্তিগত আয়করের ভিত্তি দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে, এআই থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম হতে পারে এবং সরকারের ঋণের পূর্বাভাস আরও খারাপ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থাৎ, এআই সফল হলেও সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের কাঠামো চাপে পড়তে পারে, আর ব্যর্থ হলেও কম প্রবৃদ্ধি ও ঋণ বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাস্তবে অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়ার আগে সরকারি বাজেট ও রাজস্বের পূর্বাভাসে এআই থেকে বড়সড় লাভ ধরে নেওয়া উচিত নয় বলে পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।

তিনি বড় তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলিকে নতুন কর্মী নিয়োগ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নীতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেছেন।

বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিতে দক্ষতা ও মানবিক পরিষেবায় জোর

পাঁচটি ঝুঁকির কথা বলার পাশাপাশি নাগেশ্বরন এমন কিছু ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন, যেখানে মানুষের উপস্থিতি, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং বিচারক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা থাকা দেশগুলির কাছে এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

নার্সিং, প্রবীণদের পরিচর্যা, শিশুদের দেখাশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং, শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ, রান্না ও আতিথেয়তা শিল্পের মতো ক্ষেত্রে এআই কর্মীদের সাহায্য করতে পারলেও সম্পূর্ণভাবে মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠা কঠিন। একইভাবে ইলেকট্রিক্যালের কাজ, ওয়েল্ডিং এবং প্লাম্বিংয়ের মতো দক্ষতাভিত্তিক পেশাতেও মানুষের ব্যবহারিক দক্ষতার গুরুত্ব থাকবে।

নাগেশ্বরন তাঁর বক্তব্যে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ডে পৌঁছতে ভারতের আরও প্রায় ১৮ লক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও ধাত্রী প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

তিনি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির মান উন্নত করা, বৃত্তিমূলক যোগ্যতাকে প্রথাগত শিক্ষাগত ডিগ্রির সমতুল্য স্বীকৃতি দেওয়া এবং স্কুলে পড়ার সময় থেকেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই পেশাগুলিতে বেতন, শংসাপত্র এবং সামাজিক স্বীকৃতি বাড়লে আরও বেশি তরুণ-তরুণী আগ্রহী হবেন।

‘আসল বিপদ যন্ত্রের চিন্তা করা নয়, মানুষের চিন্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া’

বক্তৃতার শেষে নাগেশ্বরন প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ কঠোপনিষদের রথের উপমা তুলে ধরেন। সেখানে মানুষকে একটি রথের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ইন্দ্রিয়গুলি ঘোড়ার মতো, মন লাগাম এবং বুদ্ধি হল সারথি, যে রথকে সঠিক পথে পরিচালনা করে।

এই উপমা টেনে তিনি বলেন, এআই অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ঘোড়ার মতো, যা মানুষের কাজে লাগতে পারে। কিন্তু সারথি ছাড়া ঘোড়া রথকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হলে মানুষের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অপরিহার্য।

নাগেশ্বরনের শেষ সতর্কবার্তা ছিল, বিপদ শুধু এই নয় যে একদিন যন্ত্র মানুষের মতো চিন্তা করতে শুরু করবে। আরও বড় বিপদ হল, যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে করতে মানুষই যদি নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *