২.৫ সেকেন্ডে ১০০ কিমি! ভারতে ফেরারির প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি লুসে - 24 Ghanta Bangla News
Home

২.৫ সেকেন্ডে ১০০ কিমি! ভারতে ফেরারির প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি লুসে

Spread the love

নয়াদিল্লি: অবশেষে ভারতের বাজারে আত্মপ্রকাশ করল ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি লুসে (Ferrari Luce)। ১,০৫০ পিএস শক্তি, ৯৯০ এনএম টর্ক এবং মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতি তোলার ক্ষমতা নিয়ে হাজির হয়েছে এই বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ি। তবে লুসের বিশেষত্ব শুধু তার দুরন্ত গতি নয়। ফেরারির পরিচিত সুপারকারের নকশা থেকে অনেকটাই আলাদা এই চার আসনের গাড়িতে রয়েছে অভিনব ডিজাইন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ১১২ কিলোওয়াট-আওয়ারের বিশাল ব্যাটারি। ভারতের বাজারে গাড়িটির দাম এখনও ঘোষণা করেনি সংস্থা। তবে প্রাথমিক অনুমান, বিকল্প ফিচার যোগ করার আগে এর এক্স-শোরুম দাম ৮.৫ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।

অ্যাপলের প্রাক্তন ডিজাইন প্রধানের ছোঁয়া, নকশায় বড় চমক

ফেরারি লুসের নকশা তৈরিতে সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন অ্যাপলের প্রাক্তন চিফ ডিজাইন অফিসার জনি আইভ। গাড়িটির ডিজাইনে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বায়ুগতিবিদ্যা বা অ্যারোডাইনামিক দক্ষতার উপর। বাতাসের বাধা যত কম হবে, গাড়ি চালিয়ে গতি বজায় রাখতে বৈদ্যুতিক মোটরকে তত কম পরিশ্রম করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রচলিত সুপারকারের তুলনায় অনেকটাই আলাদা কুপে-ধাঁচের সেডান আকৃতি দেওয়া হয়েছে লুসেকে।

সামনের দিকে রয়েছে বাঁকানো বনেট এবং মাঝখানে বড় এয়ার ভেন্ট। হেডল্যাম্প ও ডে-টাইম রানিং লাইট সরু এলইডি ইউনিটের মধ্যে রাখা হয়েছে, যা একটি চকচকে কালো প্যানেলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। ফলে সামনের অংশে বেশ মিনিমালিস্ট বা সংযত ডিজাইনের ছাপ রয়েছে।

পাশ থেকে দেখলে লুসেকে প্রচলিত সুপারকারের চেয়ে স্পোর্টি সেডানের মতো বেশি মনে হয়। চারটি দরজা এবং পিছনের দিকে ঢালু ছাদের নকশা গাড়িটিকে কুপে-ধাঁচের চেহারা দিয়েছে। সামনের দরজায় রয়েছে চকচকে কালো ইনসার্ট। পাশাপাশি সামনে ২৩ ইঞ্চি এবং পিছনে ২৪ ইঞ্চির চাকা ব্যবহার করা হয়েছে।

পিছনের অংশে রয়েছে গোলাকার এলইডি টেলল্যাম্প। ফেরারির অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে কিছুটা মিল থাকলেও সামগ্রিক নকশায় লুসে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। এখানে বাহ্যিক চাকচিক্যের পাশাপাশি বাতাসের বাধা কমানোর বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভিতরে রেট্রো ডিজাইন, বড় টাচস্ক্রিন

গাড়ির কেবিনেও রয়েছে প্রচলিত ফেরারি মডেল থেকে আলাদা নকশা। উচ্চমানের উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ অংশ। ড্যাশবোর্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত রয়েছে বড় অ্যালুমিনিয়াম ইনসার্ট। স্টিয়ারিং হুইলের নকশা সরু তিন-স্পোকের, সঙ্গে রুপোলি ফিনিশ। সব মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি পুরনো দিনের গাড়ির ডিজাইনের ছোঁয়া রয়েছে কেবিনে।

মাঝখানে রয়েছে বড় টাচস্ক্রিন, যা চালকের দিক থেকে সামনের যাত্রীর দিকেও ঘোরানো যায়। ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টারের নকশায় আবার অ্যানালগ ডায়ালের আদল রাখা হয়েছে। পিছনের আসনেও বিলাসিতার ঘাটতি নেই। চামড়ার আসনের পাশাপাশি পিছনের এসি ভেন্টের নীচে রয়েছে টাচস্ক্রিন, যার সাহায্যে গাড়ির বিভিন্ন ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

ফেরারি পুরোসাংয়ের মতো লুসেতেও পিছনের দিকে খোলা বিশেষ ধরনের দরজা রয়েছে। এই নকশা যাত্রীদের ওঠানামায় সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ির ডিজাইনেও আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

২১ স্পিকারের সাউন্ড সিস্টেম, লেভেল-২ এডিএএস

আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি হিসেবে লুসেতে একাধিক প্রযুক্তিগত সুবিধা রাখা হয়েছে। রয়েছে ১০ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে। সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য দেওয়া হয়েছে ২১টি স্পিকারের প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম। পাশাপাশি রয়েছে মাল্টি-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল।

নিরাপত্তার জন্য একাধিক এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল বা ইএসসি, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম বা টিপিএমএস এবং সামনে-পিছনে পার্কিং সেন্সর রয়েছে। ঢালু রাস্তায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট ও হিল ডিসেন্ট কন্ট্রোলও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং লেভেল-২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস। এই প্রযুক্তিগুলি চালককে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সহায়তা করার জন্য তৈরি, যদিও এগুলি চালকের মনোযোগ ও নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নয়।

১১২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি, শক্তি ১,০৫০ পিএস

ফেরারি লুসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন। গাড়িটিতে রয়েছে ১১২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি প্যাক এবং চারটি বৈদ্যুতিক মোটর। প্রতিটি চাকায় একটি করে মোটর দেওয়া হয়েছে। চারটি মোটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি ১,০৫০ পিএস এবং সর্বোচ্চ টর্ক ৯৯০ এনএম।

গাড়িটির গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স সংক্রান্ত তথ্য এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

বৈশিষ্ট্য ফেরারি লুসে
ব্যাটারি ১১২ কিলোওয়াট-আওয়ার
বৈদ্যুতিক মোটর ৪টি
সর্বোচ্চ শক্তি ১,০৫০ পিএস
সর্বোচ্চ টর্ক ৯৯০ এনএম
০-১০০ কিমি/ঘণ্টা ২.৫ সেকেন্ড
সর্বোচ্চ গতি ৩১০ কিমি/ঘণ্টা
দাবি করা রেঞ্জ ৫৩০ কিমি, ডব্লিউএলটিপি
ডিসি ফাস্ট চার্জিং ৩৫০ কিলোওয়াট

সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে ডব্লিউএলটিপি পরীক্ষাপদ্ধতিতে গাড়িটি ৫৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বাস্তবে রেঞ্জ নির্ভর করবে গাড়ি চালানোর ধরন, গতি, রাস্তার পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর।

লুসেতে রয়েছে রিয়ার-হুইল স্টিয়ারিং, অ্যাকটিভ সাসপেনশন এবং অ্যাকটিভ টর্ক ভেক্টরিং প্রযুক্তি। এগুলি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীলতা এবং বাঁক নেওয়ার সময় চালনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ৩৫০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তবে চার্জিংয়ের প্রকৃত গতি চার্জারের ক্ষমতা, ব্যাটারির চার্জের মাত্রা এবং অন্যান্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।

ভারতে দাম কত হতে পারে?

ফেরারি এখনও লুসের ভারতীয় বাজারের দাম ঘোষণা করেনি। তবে প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম ৮.৫ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। অতিরিক্ত বিকল্প বা কাস্টমাইজেশন যোগ করলে চূড়ান্ত দাম আরও বাড়তে পারে। এই দাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

লুসের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়, এমন গাড়ি আপাতত নেই। তবে বিকল্প হিসেবে পোর্শে টাইকান টার্বো এবং ভবিষ্যতে আসতে চলা টেসলা রোডস্টারের মতো উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা বিবেচনা করতে পারেন ক্রেতারা।

ফেরারি লুসে সংস্থার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতীক। প্রচলিত পেট্রলচালিত সুপারকারের পরিচিতি বজায় রেখেও বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিতে কতটা পারফরম্যান্স এবং বিলাসিতা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে এই চার আসনের গাড়ি। ভারতের বাজারে এর দাম ও বিক্রির বিস্তারিত প্রকাশ্যে এলে বোঝা যাবে, দেশের অতি-বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে লুসে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *