রীতি ভেঙে অসুর সম্প্রদায়ের নবীনরা সামিল দুর্গাপুজোয় - 24 Ghanta Bangla News
Home

রীতি ভেঙে অসুর সম্প্রদায়ের নবীনরা সামিল দুর্গাপুজোয়

Spread the love

জলপাইগুড়ি জেলার ভুটান সীমান্ত এলাকা নাগরাকাটা ব্লকের পাহাড়ে ঘেরা ক্যারন চা বাগানে শতাধিক অসুর পরিবারের বসবাস। কারি লাইন, খাপরা লাইন ও মতু লাইনে তাদের বসতি রয়েছে। এক সময়ে পুজোর কয়েকটি দিন এই পরিবারগুলির দরজা প্রায় বন্ধ থাকত। বাড়িতে কালো কাপড় টাঙিয়ে রাখা হতো। পুজোর মণ্ডপ তো দূরের কথা, প্রতিমার মুখ দেখাও ছিল তাঁদের কাছে অপরাধ। গ্রামের বাসিন্দা পার্বতী অসুর বলেন, ‘এটা আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের রীতি। পরিবারের প্রবীণরা নিজেদের ঘরে থাকেন। প্রতিমার মুখ দেখেন না।’ অসুর পরিবারের এই প্রজন্মের সদস্যরা প্রাচীন রীতি ভেঙে বেরিয়ে আসছেন। শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মেলামেশার ফলে বদলাচ্ছে মানসিকতা। দুর্গাপুজোকে সামাজিক উৎসব হিসেবে গ্রহণ করছেন অসুর সম্প্রদায়ের বহু তরুণ-তরুণী। তাঁদের পরিবারের শিশুরা সহপাঠীদের সঙ্গে বেড়াতে যায়, পুজো মণ্ডপে যায় ও প্রসাদও গ্রহণ করে। স্কুল ছাত্র বিক্রম অসুর বলে, ‘আমাদের অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে পুজো মণ্ডপে যায়। সবার সঙ্গে আনন্দ করে।’ আর এক ছাত্র বিকি অসুরের কথায়, ‘আমরা পুজোর দিন মণ্ডপে যাই, প্রসাদ খাই। বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় বেড়াতে যাই। তবে বাবা মা মণ্ডপে যান না। ঠাকুরের মুখ দেখেন না।’ অসুর সম্প্রদায়ের বসতি শুধু ক্যারনেই সীমাবদ্ধ নয়। নাগরাকাটা, বানারহাট, মেটেলি-সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের বসবাস রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানেও রয়েছে ‘অসুর লাইন’। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা-বাগানকেন্দ্রিক এলাকায় বসবাসকারী এই জনজাতির জীবনযাত্রার সঙ্গেও চা-বাগানের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত। সময়ের নিয়মেই বদলে গিয়েছে মানসিকতাও। সেটা মেনে নিচ্ছেন প্রবীণরা। মাংরা অসুর বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। আমরা মণ্ডপ থেকে দূরে থাকলেও ওদের আনন্দে বাদ সাধতে ইচ্ছে করে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *